ঢাকা, সোমবার ২০, মে ২০১৯ ১:১৩:২৭ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
শিরোনাম
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু ১৫তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার ফল প্রকাশ মুক্তিযোদ্ধার বয়স সাড়ে ১২ বছর নিয়ে পরিপত্র অবৈধ: হাইকোর্ট খালেদা জিয়ার নাইকো মামলায় চার্জ শুনানি ৩০ মে অভিনেত্রী মায়া ঘোষ আর নেই শাহজালালে তিন নারীসহ ৫ রোহিঙ্গা আটক খাগড়াছড়িতে বজ্রাঘাতে মা-ছেলের মৃত্যু

অপূর্ব পাখি কালোমাথা কসাই : আইরীন নিয়াজী মান্না

আইরীন নিয়াজী মান্না | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:৪৯ এএম, ১১ মার্চ ২০১৯ সোমবার

কি যে সুন্দর পাখিটি! দেখলে চোখে জুড়িয়ে যায়। রাস্তার  ঝোলানো তারের ওপর ঝিম মেরে বসে থাকে সে। যেন আপন মনে কিছু ভাবছে। পাখিটি কালোমাথা কসাই। আমাদের দেশের অন্যতম সুন্দর পাখি এটি। বেশ কয়েক প্রজাতির কসাই আছে আমাদের প্রকৃতিতে। তবে কালোমাথা কসাই দেখতে সবচেয়ে সুন্দর।

পুরুষ-স্ত্রী কসাই দেখতে একই রকম। ওরা আকারে বুলবুলি আর ময়না পাখির মাঝামাঝি। ওদের মাথার রঙ কালো। ডানা ও লেজের বেশির ভাগ অংশ কুচকুচে কালো। গলা, বুক ও পেট সাদা। কালো ডানার ওপর সাদার ছোপ আছে। পেটের নিচের অংশ সাদাটে ও লালচে হলুদ। পিঠ হালকা লালচে ও খয়েরি হলদেটে। লেজ বেশ বড় ও চওড়া। শরীরের প্রায় অর্ধেক এই লেজটি স্বাভাবিকভাবে নিচের দিকে নেমে গেছে। চঞ্চু এবং পায়ের রঙ কালো। চঞ্চু বেশ শক্ত, মোটা, ধারালো এবং সামনের দিকে বাঁকানো। এই চঞ্চু দিয়ে ওরা হিংস্রভাবে শিকার ছিঁড়ে-কেটে থেঁতলে টুকরো টুকরো করে খায়। এ করণেই হয়তো ওদের নাম কসাই হয়েছে। ওদের বুচার বা কসাই পাখি বলার আরো একটি কারণ হলো, ওদের অনেক প্রজাতির পাখিই পেট ভরে যতোটা খেতে পারবে তারচেয়েও অনেক বেশি প্রাণী হত্যা করে। বাড়তি শিকারগুলো ওরা গাছের কাটায় গেঁথে জমা করে রাখে ভবিষ্যতের জন্য।

আমাদের দেশে কয়েক প্রজাতির কসাইয়ের মধ্যে কালোমাথা কসাই সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। ঢাকা মহানগরীর মাঠ-ময়দান থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চলের ঝোপ-ঝাড়, খোলা মাঠ ও ফসলের ক্ষেতের আশপাশে এদের নিয়মিত চলাচল। ওরা একাকী বা জোড়ায় জোড়ায় থাকতে পছন্দ করে। রাস্তার পাশের তারের ওপর বা ঝোপের মাথায় বসে ওরা সজাগ দৃষ্টিতে নিচের দিকে তাকিয়ে শিকারের অপেক্ষায় বসে থাকে। শিকার নাগালের কাছে এলেই ছোঁ মেরে ধরে আবার আগের জায়গায় এসে বসে।

কালোমাথা কসাইয়ের খাদ্য তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন রকম পোকা-মাকর, ইঁদুরের বাচ্চা, টিকটিকি, কেঁচো ইত্যাদি। ছোট ছোট দূর্বল পাখিও ওরা খেয়ে থাকে।

গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে কালোমাথা কসাই গাছের বেশ ওপরের অংশে কাটা, খড়-কুটো, উল, তুলা দিয়ে স্ত্রী-পুরুষ মিলে বড় বাটি আকৃতির বাসা তৈরি করে। এ বাসায় ৩ থেকে ৬টি ডিম পাড়ে। স্ত্রী পাখি একা ডিমে তা দেয়। তবে বাচ্চাদের যত্ন নেয় দুজনে মিলেই। কখনো কখনো বছরে দুবারও ডিম পাড়ে ওরা। ডিমের রঙ নীলচে সাদা। ডিমের সরু অংশের দিকে বিক্ষিপ্ত ফোঁটা থাকে।

কালোমাথা কসাইয়ের ইংরেজি নাম BLACK HEADED SHRIKE। বৈজ্ঞানিক নাম Lanius schachLanidae গোষ্ঠীর কালোমাথা কসাই আমাদের স্থানীয় পাখি।

৥ লেখক : আহবায়ক, বাংলাদেশ বার্ড ওয়াচার সোসাইটি।