ঢাকা, শুক্রবার ২০, সেপ্টেম্বর ২০১৯ ১৭:৪২:১৬ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
নয়নের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের কথা স্বীকার মিন্নির, দিলেন বর্ণনা যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা ত্যাগ খুলনা মেডিকেলে ডেঙ্গু জ্বরে গৃহবধূর মৃত্যু

আজ বিশ্ব বন্ধু দিবস

অনলাইন ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০১:০৭ এএম, ৪ আগস্ট ২০১৯ রবিবার

দেখা হবে বন্ধু, কারণে আর অকারণে দেখা হবে বন্ধু, চাপা কোনো অভিমানে, দেখা হবে বন্ধু সাময়িক বৈরীতায়, অস্থির অপারগতায়!; তুমি আমার পাশে বন্ধু হে বসিয়া থাকো, একটু বসিয়া থাকো, আমি মেঘের দলে আছি, ঘাসের দলে আছি তুমিও থাকো বন্ধু হে একটু বসিয়া থাকো.... এরকম অসংখ্য গান যাকে নিয়ে লেখা হয়েছে সে হলো বন্ধু।

আজ রোববার ৪ আগষ্ট বিশ্ব বন্ধু দিবস।  প্রতি বছর আগস্ট মাসের প্রথম রোববার আন্তর্জাতিকভাবে বন্ধু দিবস পালিত হয়।

শুধু পাশ্চাত্যের বিভিন্ন দেশেই নয়, বরং বাংলাদেশসহ এশিয়ার অনেক দেশেও প্রতিবছর আগস্ট মাসের প্রথম রোববারকে উদযাপন করা হয় বন্ধু দিবস উপলক্ষে।

অন্যান্য দেশের মতো বড় কোনো অনুষ্ঠান না থাকলেও গত প্রায় তিন দশক ধরে বাংলাদেশে নানা আয়োজনে পালিত হয় দিবসটি। তবে এক্ষেত্রে বয়স্কদের চেয়ে তরুণদের আগ্রহই বেশি।  দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠান প্রচার করছে দেশের গণমাধ্যমগুলো।
 
বন্ধু কি! তার সাথে কি সম্পর্ক! আসলে মানুষ একা বাস করতে পারে না। সমাজে বাস করতে হলে, প্রতিদিন কারো না কারো মুখাপেক্ষী হতে হয়। কাউকে আপন করতে হয়। তবে বন্ধুত্ব এমন একটি বন্ধন, এতে থাকে স্বার্থহীন ভালোবাসা। পৃথিবীর অনেক সম্পর্কের মধ্যে এটি অন্যতম। তবে বন্ধুকে হতে হয় অনেক বিশ্বাসী, দায়িত্ববান।  যার উপর ভরসা করা যায় নিশ্চিন্তে।

এই দিন মানুষ বন্ধুদের সঙ্গে অন্তরঙ্গ সময় কাটায়। পরস্পরকে ফুল, কার্ড, হাতের ব্যান্ড প্রভৃতি উপহার দেওয়া বন্ধু দিবসের রীতি। বন্ধুত্বের ইতিহাস প্রায় মানব সভ্যতারই সমান।

বন্ধু কিংবা বন্ধুত্বের মতো সম্পর্কের সঙ্গে মানুষের পরিচয় যুগ যুগান্তরের। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধু দিবসটি হলমার্ক কার্ডের প্রতিষ্ঠাতা ‘জয়েস হল’ ১৯১৯ সালে প্রথম উত্থাপন করেন আগস্টের প্রথম রোববার বন্ধুত্ব দিবস। এই দিন তারা সবাই একে অন্যেকে কার্ড পাঠাতেন। পরে ১৯৩৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বন্ধু দিবসের ইতিহাস শুরু।

বন্ধু দিবসের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে যেয়ে অধিকাংশ মানুষই যে ঘটনাটির কথা উল্লেখ করেন সেটি হলো, ১৯৩৫ সালে আমেরিকার সরকার এক ব্যক্তিকে হত্যা করে। দিনটি ছিল আগস্টের প্রথম শনিবার। হত্যার প্রতিবাদে পরের দিন ওই ব্যক্তির এক বন্ধু আত্মহত্যা করেন। সে সময় বিষয়টি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। এরপর থেকে জীবনের নানা ক্ষেত্রে বন্ধুত্বের অবদান আর তাদের প্রতি সম্মান জানানোর লক্ষ্যেই আমেরিকান কংগ্রেস ১৯৩৫ সালে আইন করে আগস্ট মাসের প্রথম রোববারকে আন্তর্জাতিক বন্ধু দিবস ঘোষণা করে।  

আর সেই থেকেই জীবনের নানা ক্ষেত্রে বন্ধুদের অবদান আর আত্মত্যাগকে সম্মান জানাতে আমেরিকান কংগ্রেস ১৯৩৫ সালের আগস্ট মাসের প্রথম রোববারকে বন্ধু দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। তখন বেশকিছু দেশ বন্ধুত্ব দিবসের সংস্কৃতিকে গ্রহণ করে নেয়।  এভাবেই বন্ধু দিবস পালনের পরিসর বাড়তে থাকে।

বর্তমানে সারা বিশ্বেই আগ্রহ নিয়ে বন্ধুত্ব দিবস পালিত হচ্ছে। ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘ বিশ্বময় বন্ধুত্বের আলাদা অবস্থানে নিজেদের নিয়ে যায়।  সে বছরটিতে জাতিসংঘ বিখ্যাত কার্টুন চরিত্র উইনি দ্যা পুহকে বন্ধুত্বের বিশ্বদূত হিসেবে নির্বাচিত করে। বন্ধু দিবসের এই বিশ্বদূত ছাড়াও বন্ধুত্ব দিবসের সঙ্গে ওতোপ্রতোভাবে জড়িয়ে আছে হলুদ গোলাপ আর ফ্রেন্ডশিপ ব্যান্ডের মতো বিষয়গুলোও।

মজার বিষয় হলো, এই ফ্রেন্ডশিপ ব্যান্ডের ধারণাটিও এসেছে আমেরিকা থেকেই। আমেরিকার আদিবাসীদের মধ্যে অনেক আগে থেকেই বন্ধুত্বের স্বীকৃতি স্বরূপ ব্যান্ড দেয়ার এই রীতি চালু আছে। তারা তাদের বন্ধুদের জন্য ব্যান্ড তৈরি করে। আর যাকে ব্যান্ড দেয়া হয়, সেও কখনোই ব্যান্ডটি খোলে না।

আবার বন্ধুত্বের প্রতীক যে হলুদ গোলাপ সেই হলুদ রং হলো আনন্দের প্রতীক। আর হলুদ গোলাপ মানে শুধু আনন্দই নয়, প্রতিশ্রুতিও। কাজেই বন্ধুত্বের মাঝে যেন আনন্দের পাশাপাশি থাকে প্রতিশ্রুতিও সেই কথাটিই যেন মনে করিয়ে দেয় এই বন্ধু দিবস।

'বন্ধু তোকে আজ মিস করছি ভীষণ', 'বন্ধু ছাড়া কি জীবন চলে' এরকম নানা বাণী আর গান- কবিতার ছড়াছড়িতে পালিত হচ্ছে বিশ্ব বন্ধু দিবস। আগস্ট মাসের প্রথম রোববার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, মোবাইল এসএমএস আর সরাসরি ফুল-কার্ড- উপহার আদান-প্রদানের মধ্য দিয়ে দিনটিকে বিশেষ একটি রুপ দিয়ে যাচ্ছে নানা বয়সী মানুষেরা।

বন্ধুত্বের কোনো বয়স নেই।  তা যখন তখন, যেখানে সেখানেই হতে পারে। মা-বাবা যেমন হতে পারে ভাল বন্ধু, তেমনি পারে স্বামী-স্ত্রীও। আবার স্কুল-কলেজ, চাকরির ক্ষেত্র, সবখানেই বন্ধুত্ব হতে পারে।

বর্তমান সময়ে পুরো পৃথিবীটাই একটি সমাজে পরিণত হয়েছে।  প্রযুক্তির কল্যাণে গোটা বিশ্ব এখন হাতের মুঠোয়। আর তাই বন্ধুত্ব ছড়িয়ে পড়েছে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশে।  এখন ঘরে বসে ইন্টারনেটের মাধ্যমে যে কোনো দেশের মানুষের সাথে বন্ধুত্ব করা যায় অনায়াসে।

‘বন্ধু তোমার পথের সাথিরে চিনে নিও’।  বন্ধু কি! বন্ধুত্ব কি! বন্ধুর সাথে কেমন সম্পর্ক আপনার! আসলে বন্ধু ছাড়া জীবন অসম্পূর্ণ। বন্ধু ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না। একজন ভাল বন্ধু, একজন প্রকৃত বন্ধু আপনাকে সঠিক পথ চিনিয়ে নিয়ে যাবে অনেক দূর। বন্ধুত্ব এমন একটি বন্ধন, এতে থাকে স্বার্থহীন ভালোবাসা। পৃথিবীর অনেক সম্পর্কের মধ্যে এটি অন্যতম। তবে বন্ধুকে হতে হয় অনেক বেশি বিশ্বাসী, দায়িত্ববান এবং সত। যার উপর ভরসা করা যায় নিশ্চিন্তে।
 
আজ বন্ধু দিবসে উইমেননিউজ২৪.কম-এর পক্ষ থেকে সকলের প্রতি রইলো প্রাণঢালা ভালোবাসা।