ঢাকা, শুক্রবার ১৩, ডিসেম্বর ২০১৯ ১৯:০১:৪৮ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস কাল গুগল সার্চের শীর্ষ দশে দীপু মনি রোহিঙ্গা গণহত্যা ইস্যুতে শুনানি শেষ; শিগগিরি রায় পেঁয়াজের দাম কমে অর্ধেকে নেমেছে, সবজিতেও স্বস্তি বিশ্বের ১০০ ক্ষমতাধর নারীর তালিকায় শেখ হাসিনা ফিলিপাইন্সে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ ৬ জন নিহত

আসছে প্রধানমন্ত্রীর ‘পরিচ্ছন্ন গ্রাম, পরিচ্ছন্ন শহর’ প্রকল্প

তাসকিনা ইয়াসমিন | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৮:৫৭ এএম, ২৩ অক্টোবর ২০১৯ বুধবার

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

ডেঙ্গু ঝুঁকি প্রতিরোধে খুব শিগগিরই আসছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘পরিচ্ছন্ন গ্রাম, পরিচ্ছন্ন শহর প্রকল্প’। এই প্রকল্পের আওয়তায় দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।  

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, এবার হয়ত ডেঙ্গু বেশি হচ্ছে। কিন্তু আগামী বছর এতটা হবে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর কার্যালয়ের অধীনে ‘পরিচ্ছন্ন গ্রাম, পরিচ্ছন্ন শহর’ নামে নতুন কার্যক্রম হাতে নিচ্ছেন। এই প্রকল্প দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি বলেন, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে ব্যাপকভাবে মশক নিধন  করা হবে।  প্রধানমন্ত্রীর এই প্রকল্পের মাধ্যমে সারাদেশ জুড়ে এই কাজই করা হবে।  এরসঙ্গে ডায়রিয়া, ফুড পয়জনিং, মাছি সবগুলো এই প্রকল্পের মধ্যে আনা হবে।  কারণ শুধু ডেঙ্গুর মশাই না ম্যালেরিয়ার মশা আছে, কালাজ্বরের মশা আছে। সব ধরণের মশাকেই আমাদের এড্রেস করতে হবে।  মাছিকেও এড্রেস করতে হবে।

তিনি জানান, সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি টিম বাংলাদেশে এসেছে। তারা বাংলাদেশে অবস্থানকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে মিটিং করেছে। সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গেও আলোচনা করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহায়তায় টিমটি গত ৩ অক্টোবর স্থানীয় সরকারের সঙ্গে বৈঠক করেছে। এই বৈঠক শেষে ফিরে যাওয়ার পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই টিম একটি রিপোর্ট দেবে। তাদের রিপোর্ট এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি ব্রেইন স্টর্মিং ওয়ার্কশপ করা হবে। এগুলো মিলিয়ে দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগকে আমরা দ্রুত ফোকাস করবো। কারণ ডেঙ্গু কমে যাচ্ছে। এতে মিডিয়ার আগ্রহ কমে যাবে। মানুষেরও আগ্রহ কমে যাবে। কাজেই আমাদের কৌশলগত কর্মসূচি নিতে হবে। যে কর্মসূচি সবসময় মানুষকে জাগিয়ে রাখবে। আর আমরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সবসময় কার্যক্রম চালিয়ে যাবো।

এদিকে ডেঙ্গু মশার উৎসস্থল নির্ধারণে ম্যাপ তৈরি করা গবেষক আতিক আহসান বলেন, যখন বৃষ্টি হয় এর প্রায় ১০ দিন পর ডেঙ্গুরোগী বাড়ে। কারণ এডিস মশার ডিম পানি পাবার পরে পূর্ণাঙ্গ মশায় পরিণত হতে ১০ দিন লেগে যায়। তাই এখন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কমেছে এটা ভেবে সন্তুষ্ট হওয়ার সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, তাছাড়া গ্রাম অঞ্চলে এলবোপিক্টাস নামে যে এডিস মশা ছড়িয়ে পড়েছে, এটি সাধারণ এডিস মশার মতো না। এটি নিজের শরীরেই ডেঙ্গুর ভাইরাস নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। এটি কলাগাছের পাতা, কচুর পাতা, গাছের কোটরে  জমে থাকা পানিতে জন্মায়। যার কারণে তাকে কোন ডেঙ্গু রোগীকে কামড়ানোর মাধ্যমে ভাইরাস ছড়াতে হয় না। আবার এই মশার ১০ জেনারেশন পর্যন্ত ডেঙ্গুর ভাইরাস বহন করে। যার কারণে ডেঙ্গুর ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।

তিনি বলেন, আমি ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর একটি চিঠি পাঠিয়েছি। সেখানে ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য একটি সার্ভিলেন্স সিস্টেম তৈরির জন্য সুপারিশ করেছি। এটা সরকারি পর্যায়ে হলেই ভাল হয়। এই সিস্টেম কোথায় মশা আছে এবং কিভাবে তা নিয়ন্ত্রণে কাজ করবে। সেই জরিপ কাজে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।

আইনজীবী ও স্বাস্থ্য নীতি বিশ্লেষক সৈয়দ মাহবুবুল আলম তাহিন বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে দুই পক্ষের দায় রয়েছে। নাগরিকরা নিজেদের বাড়ি-ঘর পরিষ্কার রাখবেন। আর সিটি কর্পোরেশনগুলো নিজ নিজ এলাকা পরিষ্কার রাখবে। কিন্তু বাস্তবে আমরা দুইপক্ষেরই দায়িত্বহীনতা দেখছি।

তিনি জানান, সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন-২০১৮ অনুসারে ডেঙ্গু একটি সংক্রামক ব্যাধি। এ আইন অনুসারে ডেঙ্গুর উৎপাদন স্থান কার্যকরভাবে ধ্বংস করার ক্ষেত্রে কেউ ব্যর্থতার পরিচয় দিলে সেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব। সংক্রামক ব্যাধি আইন অনুসারে অনূর্ধ্ব ৩ (তিন) মাস কারাদন্ড বা অনূর্ধ্ব ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত করা সম্ভব। এটি করতে পারলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা যাবে।

এ বছর এখন পর্যন্ত দেশজুড়ে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হতে দেখা গেছে সাধারণ মানুষকে। বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে আসলেও ডেঙ্গুর ঝুঁকিমুক্ত হয়নি বাংলাদেশ। তাই, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সব ধরণের সতর্কতা বজায় রাখার প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, যেহেতু বৃষ্টির পানির সংস্পর্শে এসে এডিস মশার ডিম থেকে লার্ভা তৈরি হয় তাই, এখন যে বৃষ্টি হচ্ছে তার থেকে ১০ দিন পর আবারো ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আরও বেড়ে যেতে পারে।  তাই, ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশামুক্ত থাকার বিকল্প নেই।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন্স সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডা. আয়শা আক্তার জানান, দেশে ২০১৯ সালের আগস্টে সবচেয়ে বেশি রোগী ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়েছে।  জানুয়ারি মাসে  ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়েছে ৩৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১২ জন, মার্চ ১৭ জন, এপ্রিলে ৫৮ জন, মেতে ১৯৩ জন, জুনে ১৮৮৪ জন, জুলাইয়ে ১৬২৫৩ জন, আগস্টে ৫২৬৩৬ জন এবং সেপ্টেম্বরে ১৬৮৫৬ জন।

তিনি জানান, বর্তমানে গত আগস্ট মাসের তুলনায় ডেঙ্গু রোগী কমেছে প্রায় দশ ভাগ, এরপরও ঝুঁকিমুক্ত নয় বাংলাদেশ।

কন্ট্রোল রুমের তথ্য বলছে, গত ১৫ জুন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৫০ জন, ২৬ জুন এটি হয় ১২৮ জন। ২৬ জুলাই সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৮৬ জন। এবছর সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী দেখা গেছে ৭ আগস্ট ২৪২৮ জন। এর আগের দিন অর্থাৎ ৬ আগস্ট ছিল ২৩৪৮ জন, পরদিন ৮ আগস্ট ছিল ২৩২৬ জন। এরপর ধীরে ধীরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কমেছে। ১৫ সেপ্টেম্বর এ সংখ্যা নেমে আসে ৬১৯ জনে। গত ২ অক্টোবর  ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কমে হয়েছে ৩৩৬ জন। ১৭ অক্টোবর ডেঙ্গু রোগী সনাক্ত হয়েছে ২৪৮ জন।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) এর প্রিন্সিপ্যাল সায়েন্টিফিক অফিসার ড. এ এস এম আলমগীর বলেন, রোগীর সংখ্যা কমবেশি দিয়ে এবছরের ডেঙ্গুর বিষয়টি নির্ধারণ করা ঠিক হবে না। আগস্ট মাসে আমরা সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গুরোগী পেয়েছি। এখন সেই সংখ্যা ১০ ভাগের এক ভাগে নেমে এসেছে। এরপরও আমাদের সন্তুষ্ট হওয়ার কোন সুযোগ নেই। কারণ, তিনশ রোগী সংখ্যাটা মোটেই কম নয়।

তিনি আরও বলেন, সাধারণত বর্ষার সময় ডেঙ্গুরোগী বেশি হওয়ার কথা। কিন্তু এখনও বৃষ্টি হচ্ছে। যে কারণে ডেঙ্গুরোগী বৃদ্ধির আশংকা থেকেই যাচ্ছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন কার্যক্রমসহ রোগীর চিকিৎসা প্রস্তুতিসহ সব ধরণের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। এক্ষেত্রে, নিজেদের বাড়িঘর, কর্মক্ষেত্র, স্কুল-কলেজ মশামুক্ত রাখা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখাসহ সব কার্যক্রম চালু রাখতে হবে। সতর্কতায় ভাটা পড়লে আবার ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর ‘পরিচ্ছন্ন গ্রাম, পরিচ্ছন্ন শহর’ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ডেঙ্গু দ্রুত প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

আইইডিসিআর এর তথ্যানুযায়ী, এবছর ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে মোট ১০৪ জন মৃত্যুবরণ করেছে। এরমধ্যে এপ্রিল মাসে ২ জন মৃত্যুবরণ করেছে। মে মাসে কেউ মারা যায়নি। জুন মাসে ৬ জন, জুলাই মাসে ৩২ জন, আগস্ট মাসে ৩৭ জন ও সেপ্টেম্বর মাসে ৪ জন ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। তবে, বেসরকারিভাবে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি বলা হচ্ছে।