ঢাকা, রবিবার ১৯, সেপ্টেম্বর ২০২১ ১০:১৭:১৪ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল খুলছে ৫ অক্টোবর দেশে করোনায় আরও ৩৫ জনের মৃত্যু ৭ শিশুসহ ১০ আফগানকে হত্যায় ক্ষমা চাইল যুক্তরাষ্ট্র সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত সাড়ে ১৫ হাজার, মৃত্যু ৫৯ করোনায় চট্টগ্রামে টানা দ্বিতীয় মৃত্যুশূন্য দিন

একুশে পদকপ্রাপ্ত আলোকচিত্রী সাইদা খানমের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০১:২০ পিএম, ১৮ আগস্ট ২০২১ বুধবার

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

দেশের প্রথম পেশাদার নারী আলোকচিত্রী একুশে পদকপ্রাপ্ত সাইদা খানমের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ (১৮ আগস্ট), যার ক্যামেরায় তোলা নারী মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্রহাতে প্রশিক্ষণের ছবি বাংলাদেশের ইতিহাস। অদম্য সাহসী এই আলোকচিত্রী ২০২০ সালের এই দিনে ঢাকার বনানীতে নিজের বাসায় মৃত্যুবরণ করেন।তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। বনানী কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়। 

১৯৩৭ সালের ২৯ ডিসেম্বর পাবনায় জন্ম নেওয়া সাইদা খানমের সঙ্গে ক্যামেরার সখ্য সেই ১২ বছর বয়সে। আর ফটো সাংবাদিকতার শুরু গত শতকের ষাটের দশকের শুরুতে, তখনকার বেগম পত্রিকায় কাজের মধ্য দিয়ে।

পেশাদার আলোকচিত্রী হয়ে ওঠার পথে সাইদা উৎসাহ পেয়েছেন বড় বোন হামিদা খানমের কাছ থেকে, যিনি অধ্যাপক সালাহউদ্দীন আহমদের স্ত্রী।

হামিদা খানম ছিলেন ঢাকার গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ। উচ্চতর পড়াশোনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বোনের জন্য তিনি নিয়ে আসেন একটি রোলিকর্ড ক্যামেরা, যা তখনকার পেশাদাররা ব্যবহার করতেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্য ও গ্রন্থাগার বিজ্ঞানে দুটো মাস্টার্স ডিগ্রি নেওয়ার পথেই সাইদা খানম তার ক্যামেরায় ধারণ করতে থাকেন সময় আর মানুষের মুখ, ইতিহাস আর জীবনের আখ্যান।

বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামে নারী মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্রহাতে প্রশিক্ষণের যে ছবি ইতিহাসের পাতায় দেখা যায়, সাইদা খানমই তা ক্যামেরায় ধারণ করেছিলেন। 

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের ছবি তুলতে তখনকার রেসকোর্স ময়দানের দিকে রওনা হয়েছিলেন, কিন্তু ঘটনাচক্রে তা আর হয়ে ওঠেনি। 

১৯৭৪ সাল থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সেমিনার লাইব্রেরিতে লাইব্রেরিয়ান হিসেবে কাজ করেছেন সাইদা খানম।

তার ছবি ছাপা হয়েছে অবজারভার, মর্নিং নিউজ, ইত্তেফাক, সংবাদসহ বিভিন্ন পত্রিকায়। বাংলাদেশ থেকে সাইদাই প্রথম সত্যজিত রায়ের সাক্ষাৎকার নিয়ে আসেন, যেটি চিত্রালীতে প্রকাশিত হয় ১৯৬২ সালে।

১৯৫৬ সালে ঢাকায় আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে অংশ নেন সাইদা খানম। ওই বছরই জার্মানিতে তার ছবি পায় আন্তর্জাতিক পুরস্কার। ভারত, জাপান, ফ্রান্স, সুইডেন, পাকিস্তান, সাইপ্রাস ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে তার ছবির প্রদর্শনী হয়েছে।

বাংলাদেশের ছবি নিয়ে সাইদা খানম বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন, পেয়েছেন বহু পুরস্কার। সত্যজিৎ রায় আর মাদার তেরেসার ছবি নিয়ে একক প্রদর্শনীও তিনি করেছেন।

ফটো সাংবাদিক হিসাবে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সাইদা খানমের তোলা প্রায় ৩ হাজার ছবি প্রকাশিত হয়েছে। ক্যামেরার ক্লিকের পাশাপাশি লেখালেখি করতেন সব সময়। উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘ধূলোমাটি’, ‘স্মৃতির পথ বেয়ে’, ‘আমার চোখে সত্যজিৎ রায়’, ‘আলোকচিত্রী সাইদা খানম-এর উপন্যাসত্রয়ী’। তার লেখা ছোট গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও সাক্ষাতকার ছাপা হয়েছে বিভিন্ন পত্রিকায়।

বাংলাদেশ মহিলা সমিতির সদস্যা সাইদা খানম বাংলা একাডেমিরও আজীবন সদস্য।

আলোকচিত্রে অনন্য অবদানের জন্য সরকার ২০১৯ সালে শিল্পকলা শাখায় সাইদা খানমকে একুশে পদকে ভূষিত করে।

-জেডসি