ঢাকা, শুক্রবার ২০, সেপ্টেম্বর ২০১৯ ১৭:৩৫:৫২ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
নয়নের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের কথা স্বীকার মিন্নির, দিলেন বর্ণনা যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা ত্যাগ খুলনা মেডিকেলে ডেঙ্গু জ্বরে গৃহবধূর মৃত্যু

একুশে বইমেলার পর্দা উঠছে কাল

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৫:০১ পিএম, ৩১ জানুয়ারি ২০১৯ বৃহস্পতিবার

ছবি : সংগ্রহ করা

ছবি : সংগ্রহ করা

আগামীকাল ১ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার অমর একুশে বইমেলার পর্দা উঠছে। বিকেল ৩টায় মেলা উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০১৮ প্রদান করা হবে। 

বইমেলার মূল থিম ‘বিজয়: ১৯৫২ থেকে ১৯৭১ নবপর্যায়’-কে সামনে রেখে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা স্তম্ভকে এবার নিয়ে আসা হয়েছে মেলা প্রাঙ্গণের ভেতরে, যা গতবার পর্যন্তও ছিল মেলাপ্রাঙ্গণের বাইরে।

তবে অমর একুশে বইমেলায় এবার ৪৯৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে; গতবার যার সংখ্যা ছিল ৪৬৫টি। ছুটির দিন ছাড়া গ্রন্থমেলা প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে। শুক্র ও শনিবার সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা এবং একুশে ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত মেলা চলবে।

আজ বৃহস্পতিবার বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে অমর একুশে বইমেলা আয়োজনের বিস্তারিত তুলে ধরে বাংলা একাডেমি।

সংবাদ সম্মেলনে আয়োজনের বিস্তারিত তুলে ধরেন গ্রন্থমেলা কমিটির সদস্য সচিব ও বাংলা একাডেমির পরিচালক (বিপণন) জালাল আহমেদ।

তিনি জানান, বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান মিলিয়ে এবার গ্রন্থমেলার ২৫ হাজার বর্গফুট বেড়েছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গতবার ২ লাখ ৭৫ হাজার বর্গফুট জায়গা জুড়ে গ্রন্থমেলা আয়োজন হলেও এবার তা বিস্তৃত হয়েছে ৩ লাখ বর্গফুটে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশকে ৪টি চত্বরে ভাগ করা হয়েছে।

একাডেমি প্রাঙ্গণে ১০৪ প্রতিষ্ঠানকে ১৫০টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৩৯৫ প্রতিষ্ঠানকে ৬২০টি ইউনিট; সব মিলিয়ে ৪৯৯ প্রতিষ্ঠানকে ৭৭০টি ইউনিট এবং বাংলা একাডেমিসহ ২৪টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে ২৪টি প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

লিটল ম্যাগাজিন চত্বরে ১৮০টি লিটলম্যাগকে ১৫৫টি স্টল দেওয়া হয়েছে। ২৫টি স্টলে ২টি করে লিটল ম্যাগাজিনকে স্থান দেওয়া হয়েছে। অন্য ১৩০টি প্রতিষ্ঠান একক স্টল বরাদ্দ পেয়েছে।

একক ক্ষুদ্র প্রকাশনা সংস্থা এবং ব্যক্তি উদ্যোগে যারা বই প্রকাশ করছেন, তাদের বই বিক্রি বা প্রদর্শনের ব্যবস্থা থাকবে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের স্টলে। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে তিন ইউনিট বরাদ্দ পেয়েছে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র।

একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলা একাডেমির ১টি প্যাভিলিয়ন, ৪ ইউনিটের ২টি, একাডেমির শিশুকিশোর উপযোগী বইয়ের জন্য ১টি, একাডেমির সাহিত্য উত্তরাধিকারে ১টি স্টল থাকবে।

এবারও শিশু চত্বর মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে থাকবে। এ কর্নারকে শিশুকিশোর বিনোদন ও শিক্ষামূলক অঙ্গসজ্জায় সজ্জিত করা হবে। মাসব্যাপী গ্রন্থমেলায় এবারও প্রতি শুক্র ও শনিবার ‘শিশু প্রহর’ ঘোষণা করা হয়েছে।

মেলার খুদে লেখকদের জন্য শিশু চত্বরে ‘তারুণ্যের বই’ নামে এক নতুন আয়োজন করা হয়েছে, যাতে খুদে লেখকরা তাদের বইয়ের প্রচারণাও করতে পারবেন।

ড. জালাল আহমেদ জানান, এবারের মেলার মূল থিম নির্ধারণ করা হয়েছে বাঙালির বিজয়কে উপলক্ষ্য করে। বিজয়ের পঞ্চাশ বছরকে সামনে রেখে এই বিয়ষকে মূল থিম হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। মেলার মূল মঞ্চে এ বিষয়কে ধারণ করে ধারাবাহিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। এতে মহান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক, মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকরা অংশ নেবেন।

মেলায় অংশ নেয়ার জন্য দেশের প্রকাশনা সংস্থাগুলোকে বিভিন্ন মানের মোট ৬ শতাধিক স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বিভিন্ন মানের মোট ৪২টি প্যাভিলিয়ন। বড় প্যাভিলিয়ন ১০টি, ৬ ইউনিটের প্যাভিলিয়ন ১৩টি এবং ৪ ইউনিটের প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ পেয়েছে ১৯টি। এ সব স্টল ও প্যাভিলিয়ন থাকবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। অন্যদিকে একাডেমির ভেতরে সরকারী ও বেসরকারী বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের ১০০ স্টল থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্রন্থমেলায় টিএসসি ও দোয়েল চত্বর উভয় দিক দিয়ে দু’টো মূল প্রবেশপথ, বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে তিনটি পথ, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশ ও বাহিরের মোট ৬টি পথ থাকবে।

বিশেষ দিনগুলোতে লেখক, সাংবাদিক, প্রকাশক, বাংলা একাডেমি ফেলো এবং রাষ্ট্রীয় সম্মাননাপ্রাপ্ত নাগরিকদের জন্য প্রবেশের বিশেষ ব্যবস্থা করা হবে।

গ্রন্থমেলায় প্রবেশ ও বাহির পথে পর্যাপ্ত সংখ্যক আর্চওয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেলায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার জন্য মেলায় এলাকাজুড়ে ৩ শতাধিক ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সমগ্র মেলা প্রাঙ্গণ ও দোয়েল চত্বর থেকে টিএসসি হয়ে শাহবাগ, মৎস্য ভবন, ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট হয়ে শাহবাগ পর্যন্ত, দোয়েল চত্বর থেকে শহীদ মিনার হয়ে টিএসসি, দোয়েল চত্বর থেকে চানখারপুল, টিএসসি থেকে নীলক্ষেত পর্যন্ত নিরাপত্তার স্বার্থে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অবস্থিত স্বাধীনতাস্তম্ভ ও এর পার্শ্ববর্তী স্থানকে নান্দনিকভাবে গ্রন্থমেলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে স্বাধীনতা স্তম্ভের আলোক বিচ্ছুরণে মেলা প্রাঙ্গণ আলোকিত হয়ে উঠবে।

এ বিষয়টি নিয়ে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবিবুল্লাহ সিরাজী বলেন, এবার বইমেলা আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে স্বাধীনতা অর্জনের ৫০ বছর পূর্তি ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষের আয়োজন। মহান দুই আয়োজন নিয়ে এ বইমেলা থেকেই জাতিকে বার্তা দিতে চাই আমরা। তাই মেলার নান্দনিক ব্যবস্থায় এসেছে পরিবর্তন।