ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৪, সেপ্টেম্বর ২০২০ ১০:৫৬:২১ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
ভারত থেকে পেঁয়াজ আসছে না, অস্থিরতা বাড়ছে বাজারে করোনায় প্রাণ গেল আরও ৩৭ জনের দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়ে গেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংকট মোকাবিলায় বৈশ্বিক কর্মপরিকল্পনার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বিশ্বে করোনায় মৃত্যু ৯ লাখ ৭৫ হাজার ছাড়াল

করোনাকাল: বিশ্বে হতদরিদ্র বেড়ে হবে ১১২ কোটি

অনলাইন ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৬:০৮ পিএম, ১২ জুন ২০২০ শুক্রবার

করোনাকাল: বিশ্বে হতদরিদ্র বেড়ে হবে ১১২ কোটি

করোনাকাল: বিশ্বে হতদরিদ্র বেড়ে হবে ১১২ কোটি

মারণঘাতি করোনাভাইরাসের প্রভাবে আগামী দিনে সারাবিশ্বে হতদরিদ্রের সংখ্যা বেড়ে হবে ১১২ কোটি। গরিব যে শুধুই আরও গরিব হয়ে পড়বেন, তা নয়; করোনা সংক্রমণ আর লকডাউনের জেরে আরও প্রায় ৪০ কোটি মানুষ চরমতম দারিদ্রের শিকার হবে গোটা বিশ্বে।

সবচেয়ে করুণ অবস্থা হবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর। এর মধ্যে প্রথম দিকেই রয়েছে ভারতের নাম। তারপরই রয়েছে সাহারা মরুভূমি সংলগ্ন আফ্রিকার দেশগুলো।

একটি আন্তর্জাতিক দলের গবেষণা এই উদ্বেগজনক খবর দিয়েছে। গবেষণাপত্রটি আজ শুক্রবার প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের অধীনে থাকা ‘ইউএনইউ-ওয়াইডার’।

গবেষকদলে রয়েছেন লন্ডনের কিংস কলেজ ও অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অর্থনীতিবিদরা।

গবেষণা জানিয়েছে, করোনা সংক্রমণ আর তা ঠেকাতে লকডাউনের জেরে বিশ্ব অর্থনীতির যা অবস্থা তাতে এটাই হতে চলেছে আগামী দিনে বিশ্বের দারিদ্র-চিত্র। করোনা পরিস্থিতির জন্যই আরও প্রায় ৪০ কোটি মানুষকে সহ্য করতে হবে চরমতম দারিদ্র্যের জ্বালা, যন্ত্রণা। যা বিশ্বব্যাঙ্কের দেওয়া আগের পরিসংখ্যানকেও ছাপিয়ে গেল। যেখানে বলা হয়েছিল, বিশ্বে চরমতম দারিদ্রের শিকার হবেন ৭ থেকে ১০ কোটি মানুষ।

চরমতম থেকে খুব দারিদ্র, বিভিন্ন ধরনের দারিদ্র্য-সীমা নির্ধারণের জন্য মানুষের গড় দৈনিক আয়ের যে মাত্রাগুলি বিশ্বব্যাঙ্ক নির্ধারণ করেছে, সেই সবক’টির ভিত্তিতেই এই গবেষণা চালানো হয়েছে।

গরিবদের আর্থিক অবস্থা বোঝানোর জন্য বিশ্বব্যাঙ্ক যে কয়েকটি মাত্রা নির্ধারণ করেছে, তার একটি হল, মানুষের আয় দিনে ১৪৪ টাকা ২৪ পয়সা (বা, ১.৯০ ডলার) বা তারও কম। বিশ্বব্যাঙ্কের দেওয়া সংজ্ঞায় এই আয়ের মানুষদেরই বলা হয়, চরমতম দারিদ্রের শিকার। অন্যটি, যে সব মানুষের আয় দিনে ৪১৭ টাকা ৪১ পয়সা (৫.৫০ ডলার)। এঁদের বলা হয়, বেশি দরিদ্র।

গবেষকরা জানিয়েছেন, এই চরমতম দারিদ্রের মাত্রায় আগামী দিনে বিশ্বে দারিদ্রের চরম সীমায় পৌঁছে যাবেন বিশ্বের অন্তত ১১২ কোটি মানুষ। আর বেশি দরিদ্রের মাত্রায় এই বাসযোগ্য গ্রহে গরিব হয়ে পড়বেন কম করে ৩৭০ কোটি মানুষ। যা পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি।

গবেষণা এও জানিয়েছে, পরিস্থিতির সর্বাধিক অবনতিতে কোনও নির্দিষ্ট এলাকায় মানুষের গড় বাৎসরিক আয় কমে যাবে কম করে ২০ শতাংশ।

গবেষকদলের অন্যতম সদস্য অ্যান্ডি সামনার বলেছেন, ‘বিভিন্ন দেশের সরকারগুলি যদি জরুরি ভিত্তিতে এই সব মানুষের কল্যাণে আরও কিছু পদক্ষেপ না করে, লকডাউনের ফলে প্রতি দিন গরিবদের আয় যে ভাবে মার খাচ্ছে, তা পূরণ করার লক্ষ্যে কোনও ব্যবস্থা নিতে না পারে, তা হলে গোটা বিশ্বেই গরিবদের ভবিষ্যত বলে আর কিছুই থাকবে না।’

গবেষকরা দেখিয়েছেন, এই চরমতম দারিদ্রেও ‘বৈষম্য’ থাকবে, এলাকাভেদে। কোথাও সেটা সংখ্যায় কম হবে। কোথাও বেশি। সবচেয়ে করুণ অবস্থা হবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর। তার মধ্যে প্রথম দিকেই রয়েছে জনসংখ্যাবহুল দেশ ভারতের নাম। তার পরেই রয়েছে সাহারা মরুভূমি সংলগ্ন আফ্রিকার দেশগুলো। গোটা বিশ্বে যে ১১২ কোটি মানুষ চরমতম দারিদ্রের শিকার হবেন, তাদের এক-তৃতীয়াংশই আফ্রিকার ওই দেশগুলোর নাগরিক।

গবেষকরা বলছেন, শুধু ভারতেই দারিদ্রের চরম সীমায় পৌঁছবেন আরও ৬ কোটি মানুষ। যাদের আয় হবে দিনে ১৪৪ টাকা। গত বছর ভারতে চরমতম দারিদ্র সীমার নিচে ছিলেন ৪ কোটি মানুষ।