ঢাকা, শনিবার ০৮, আগস্ট ২০২০ ১১:৩৬:০৩ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
বঙ্গমাতার ৯০তম জন্মবার্ষিকী আজ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ছিলেন বঙ্গবন্ধুর বিশ্বস্ত সহচর: প্রধানমন্ত্রী ঢাকার সড়কে প্রাণ গেলো পর্বতারোহী রেশমার দেশে করোনা আক্রান্ত আড়াই লাখ ছাড়ালো, মৃত্যু ৩,৩৩৩ শ্রীলঙ্কার নির্বাচনে রাজাপাকসের বিশাল জয়

কিংবদন্তি শিল্পী ফিরোজা বেগমের জন্মদিনে শ্রদ্ধা

অনলাইন ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৭:০৮ পিএম, ২৯ জুলাই ২০২০ বুধবার

কিংবদন্তি শিল্পী ফিরোজা বেগমের জন্মদিনে শ্রদ্ধা

কিংবদন্তি শিল্পী ফিরোজা বেগমের জন্মদিনে শ্রদ্ধা

‘আমি চিরতরে দূরে চলে যাবো তবু আমারে দেব না ভুলিতে’, ‘তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি প্রিয়, সে কি মোর অপরাধ’ অথবা ‘নয়ন ভরা জল গো তোমার আঁচল ভরা ফুল, ফুল নেব না অশ্রু নেব ভেবে হই আকুল’ এ ধরনের নানা গানের মাধ্যমে যিনি গানপ্রিয় মানুষের হৃদয়ে চিরস্থায়ী হয়ে আছেন তিনি ফিরোজা বেগম। বাংলাদেশের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী। গতকাল ২৮ জুলাই ছিলো এই মহান শিল্পীর জন্মদিন।

ফিরোজা বেগম বাংলাদেশের প্রথিতযশা নজরুলসঙ্গীত শিল্পী ছিলেন। সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশে তিনি নজরুল সঙ্গীতের জন্য বিখ্যাত হয়ে আছেন। ভারতীয় উপমহাদেশে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তাকে বাংলা সঙ্গীতের প্রতীকিরূপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ফিরোজা বেগমের জন্ম ১৯৩০ সালের ২৮ জুলাই ফরিদপুরের গোপালগঞ্জ মহকুমার (বর্তমান জেলা) রাতইল ঘোনাপাড়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম জমিদার পরিবারে। তার বাবার নাম খান বাহাদুর মোহাম্মদ ইসমাইল এবং মায়ের নাম বেগম কওকাবুন্নেসা। এই দম্পতির তিন ছেলে, চার মেয়ে। এদের তৃতীয় কন্যা ফিরোজা। তখন কী কেউ ভেবেছিলো এ মেয়ে একদিন সঙ্গীতাকাশে উজ্জ্বল তারা হয়ে জ্বলবে! শ্রাবণ মাসে জন্ম বলে আদর করে কেউ কেউ শ্রাবণী বলে ডাকে। ফর্সা টুকটুকে বলে কেউবা ডাকে আনার। কারো কাছে সে আসমানী। আর কাজের লোকেদের কাছে প্রিয় ‘সেজ বু’।

এই ‘সেজ বু’র একদম ছোটবেলা থেকেই সঙ্গীতের প্রতি গভীর অনুরাগ। ১৯৫৪ সাল থেকে কলকাতায় বসবাস করতে শুরু করেন।

১৯৫৫ সালে সুরকার, গায়ক ও গীতিকার কমল দাশগুপ্তের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। ১৯৬৭ সালে ঢাকায় ফিরে আসেন তারা। কমল দাশগুপ্ত ১৯৭৪ সালের ২০ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন। এ দম্পতির তিন সন্তান। তারা হলেন, তাহসিন, হামীন ও শাফীন। হামিন ও শাফিন দেশের খ্যাতনামা রকব্যান্ড দল মাইলসের অন্যতম সদস্য।

১৯৪০-এর দশকে ফিরোজা বেগমের গানের ভুবনে প্রবেশ। ফিরোজা বেগম ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় অল ইন্ডিয়া রেডিওতে প্রথম গানে কন্ঠ দেন। ১৯৪২ সালে ১২ বছর বয়সে বিখ্যাত গ্রামোফোন কোম্পানি এইচএমভি থেকে ৭৮ আরপিএম ডিস্কে ইসলামী গান নিয়ে তার প্রথম রেকর্ড বের হয়। কিছুদিন পর কমল দাশগুপ্তের তত্ত্বাবধানে উর্দু গানের রেকর্ড হয়। এ রেকর্ডের গান ছিল- 'ম্যায় প্রেম ভরে, প্রীত ভরে শুনাউ' আর 'প্রীত শিখানে আয়া'।

দশ বছর বয়সে ফিরোজা বেগম কাজী নজরুলের সান্নিধ্যে আসেন এবং তার কাছ থেকে তালিম নেন। নজরুলের গান নিয়ে প্রকাশিত তার প্রথম রেকর্ড বের হয় ১৯৪৯ সালে। কাজী নজরুল অসুস্থ হওয়ার পর ফিরোজা বেগম নজরুলসঙ্গীতের শুদ্ধ স্বরলিপি ও সুর সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তিনি ৩৮০টির বেশি একক সঙ্গীতানুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন।

নজরুলসঙ্গীত ছাড়াও তিনি আধুনিক গান, গজল, কাওয়ালি, ভজন, হামদ ও নাত-সহ বিভিন্ন ধরনের সঙ্গীতে কন্ঠ দিয়েছেন। জীবদ্দশায় তার ১২টি এলপি, ৪টি ইপি, ৬টি সিডি ও ২০টিরও বেশি অডিও ক্যাসেট প্রকাশিত হয়েছে।

১৯৭২ সালে কলকাতায় বঙ্গ-সংস্কৃতি-সম্মেলন-মঞ্চে কমল দাশগুপ্তের ছাত্রী ও সহধর্মিণী হিসেবে তিনি ছিলেন মুখ্যশিল্পী। উভয়ের দ্বৈতসঙ্গীত সকল শ্রোতা-দর্শককে ব্যাপকভাবে বিমোহিত করেছিল।

শিল্পচর্চায় অসাধারণ অবদানের জন্য ১৯৭৯ সালে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার হিসাবে পরিচিত “স্বাধীনতা পুরস্কার” প্রদান করা হয় তাকে। এছাড়াও তিনি একুশে পদক, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র পুরস্কার, সত্যজিৎ রায় পুরস্কার, নাসিরউদ্দীন স্বর্ণপদক, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী স্বর্ণপদক, সেরা নজরুল সঙ্গীতশিল্পী পুরস্কার (একাধিকবার), নজরুল আকাদেমি পদক, চুরুলিয়া স্বর্ণপদক, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক ডিলিটসহ নানা পুরস্কার পেয়েছেন।

তিনি জাপানের অডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সিবিএস থেকে গোল্ড ডিস্ক, ২০১১ সালে মেরিল-প্রথম আলো আজীবন সম্মাননা পুরস্কার অর্জন করেন। ১২ এপ্রিল ২০১২ তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের কাছ থেকে "বঙ্গ সম্মান" পুরস্কার গ্রহণ করেন।

২০১৮ সালের ২৮ জুলাই তার ৮৮তম জন্মদিনে গুগল ডুডল তৈরি করে সম্মননা প্রদান করে।

কিডনি জটিলতায় ২০১৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রাত ৮টা ২৮ মিনিটে ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন এই মহৎ শিল্প।