ঢাকা, শুক্রবার ০৫, মার্চ ২০২১ ১২:৩০:৩২ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
নিউজিল্যান্ডে দফায় দফায় ভূমিকম্প, সুনামির সতর্কতা প্রত্যাহার অস্ট্রেলিয়ার আড়াই লাখ কোভিড ভ্যাকসিন আটকে দিল ইতালি বিশ্বে করোনায় মৃত্যু ২৫ লাখ ৮০ হাজার ছাড়াল করোনা অগ্রযাত্রা থামাতে পারে নাই, আর কেউ পারবে না: প্রধানমন্ত্রী

কিশোরী ভাষাকন্যা কাজী খালেদা খাতুন

অপর্ণা আনন্দ | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০১:১৯ পিএম, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১ সোমবার

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

কাজী খালেদা খাতুন একজন কিশোরী ভাষা সৈনিক। তিনি ভাষা আন্দোলনের সেই মহান সৈনিকদের অন্যতম যারা স্কুলের ছাত্র থাকাকালে ভাষা আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। ১৯৫২ সালে তার বয়স ছিলো মাত্র ১৩ বছর।

জন্ম : ১৯৩৯ সালের ৭ আগস্ট বরিশাল বিভাগের পিরোজপুরে সম্ভ্রান্ত কাজী বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন খালেদা খাতুন। তার বাবার নাম কাজী মাজহার উদ্দিন আহমদ এবং মায়ের নাম হাকিমুন্নেসা খাতুন। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ কাজী সামসুল হক খালেদা খাতুনের বড় ভাই।

শিক্ষা জীবন : খালেদা খাতুন১৯৫৪ সালে কামরুন্নেসা সরকারি বালিকা বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। এরপর ইডেন মহিলা কলেজ থেকে ১৯৫৬ সালে ইন্টারমিডিয়েট এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে ১৯৬৮ সালে এমবিবিএস ডিগ্রি লাভ করেন।

চাকরি জীবন : ১৯৭০ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি বিভাগের প্রভাষক পদে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে কিউরটের হন। ১৯৭৮ সালে ইরাক সরকারের অধীনে ইরাকে সাড়ে চার বৎসর কাজ করেন। ১৯৮৩ সালে ঢাকাতে ফিরে এসে আবার ঢাকা মেডিকেল কলেজে যোগ দেন। এছাড়া জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটেও কাজ করেছেন তিনি।

ভাষা আন্দোলনে অবদান : ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনের উত্তপ্ত সময়ে খালেদা খাতুন রাজধানীর কামরুন্নেসা বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী ছিলেন। ভাষাকন্যা রওশন আরা বাচ্চুসহ অন্যান্য ভাষা সৈনিকেরা সেই সময়ে সমাজের সর্বস্তরের সকল মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতেন। তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে কামরুন্নেসা বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা ভাষা আন্দোলনে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করেন। এই ছাত্রীদের মধ্যে সকলের আগে ছিলেন কাজী খালেদা খাতুন। রওশন আরা বাচ্চুর প্রভাবে তিনি সক্রিয়ভাবে ভাষা আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। এই কিশোরী ভাষাকন্যা ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারার মধ্যেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক আমতলার সভায় অংশগ্রহণ করেন। এরপর ১৪৪ ধারা ভাঙার সিদ্ধান্ত নিয়ে মিছিল নিয়ে বের হন। এ সময় পুলিশের নির্যাতনের শিকার হন খালেদা খাতুন। পুলিশের ছোঁড়া কাঁদানে গ্যাসে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।

স্কুলে প্রথম শহীদ মিনার তৈরি : কাজী খালেদা খাতুন এবং অন্যান্য ভাষাকন্যারা মহান ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে প্রথমবারের মত শহীদ মিনার তৈরি করেন। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদলে কামরুন্নেসা সরকারি বালিকা বিদ্যালয় প্রঙ্গণে তারা এই শহীদ মিনারটি তৈরি করেন। এই শহীদ মিনারটি দেশের কোনো স্কুলে তৈরি প্রথম শহীদ মিনার।

মৃত্যু : ২০১৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর এই মহান ভাষা সৈনিক ঢাকার ইডেন মাল্টিকেয়ার হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। তাকে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।