ঢাকা, বুধবার ০৩, জুন ২০২০ ১০:৩৮:৪৭ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
ঢাবি শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যবিমার আওতায় আসছেন স্বাস্থ্যবিধি মেনেই কর্মস্থলে আসতে হবে: প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়াল গ্লোবাল ভ্যাকসিন সামিটে যোগ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী করোনা: দেশে আরও ৩৭ মৃত্যু, শনাক্তে রেকর্ড ২৯১১ কোভিড-১৯ দুর্বল হয়নি, এখনো শক্তিশালী: হু

ছাত্ররাজনীতির নামে গুণ্ডামির বিপক্ষে আমি : ড. আনিসুজ্জামান

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৯:৫৪ পিএম, ১৬ অক্টোবর ২০১৯ বুধবার

‘বিশ্ববিদ্যালয়ে মত-দ্বিমত থাকবে, যুক্তি থাকবে এবং এর খণ্ডন থাকবে। উভয়ে পাশাপাশি অবস্থান করবে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার যে অবস্থার কথা আমরা আজকাল শুনছি, তা আমাদের ব্যথিত করে। এখানে ছাত্ররাজনীতির নামে গুণ্ডামি হচ্ছে, অপরাধ হচ্ছে। আমি এর বিপক্ষে, তবে ছাত্ররাজনীতির বিপক্ষে নই।’

আজ বুধবার সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির মিলনায়তনে এক সম্মাননা অনুষ্ঠানে জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান এসব কথা বলেন।

শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্যে চার বরণীয় ব্যক্তিত্বকে এই সম্মাননা দেয় সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটি। গুণী ব্যক্তিত্বরা হলেন, জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান, অধ্যাপক ইমেরিটাস সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন এবং শিক্ষাবিদ রাশেদা কে চৌধুরী। তবে অসুস্থতার কারণে রাবেয়া খাতুন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি।

সম্মাননা অনুষ্ঠানে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান আরও বলেন, ‘আমাকে বিদেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় সম্মাননা দিয়েছে। কিন্তু দেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া এটিই প্রথম সম্মাননা। তাই এই সম্মাননা আমার কাছে বিশেষ সম্মানের ও গুরুত্বপূর্ণ।’

অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশে উন্নয়ন হচ্ছে, তবে সেই উন্নয়নের অন্তরালে অনেক অন্ধকার রয়ে গেছে। সমাজে নারীরা নির্যাতিত হচ্ছেন, পুঁজিবাদের কারণে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সব মানুষ শোষণ-নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। শিক্ষার আলো দিয়ে এই অন্ধকার দূর করতে হবে।’

অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরু থেকেই এর সঙ্গে আছি। ফলে এই সম্মাননা পেয়ে আমার মনে হচ্ছে আমি আমার আপনজনের কাছ থেকে উপহার পেলাম।’

রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ‘শিক্ষার মাধ্যমে যে মূল্যবোধ তৈরি হয়, পরিবার থেকেই তার চর্চা করতে হবে। শতকরা ৮০ ভাগ নারী তার ঘরেই নির্যাতনের শিকার হন। তাই অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঘর থেকেই প্রতিবাদ করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. পারভীন হাসান বলেন, ‘এই আত্মত্যাগী মানুষদের যথার্থ সম্মান জানানোর ক্ষমতা আমাদের নেই। বরং তারা যে আমাদের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে আজ এখানে উপস্থিত হয়েছেন, তাতে আমরাই সম্মানিত বোধ করছি। এই গুণীজনেরা বাংলাদেশের বিভিন্ন সময়ের মোড় ঘোরানো ইতিহাসের প্রত্যক্ষ সাক্ষী এবং সক্রিয় কর্মী।’

উপাচার্য আরও বলেন, ‘যেকোনো সামাজিক অবস্থান থেকেই দেশ ও সমাজের প্রত্যাশিত পরিবর্তনে এবং মানব কল্যাণে অবদান রাখা সম্ভব। এই গুণীজনেরা আমাদের সামনে সেই দৃষ্টান্তই উপস্থাপন করেছেন। তাদের আদর্শ এবং প্রদর্শিত পথ অনুসরণ করার মতো সৎসাহসী উত্তরাধিকার বর্তমান প্রজন্মে আবশ্যক। তারা পথ দেখিয়েছেন, তাদের প্রদর্শিত পথকে প্রসারিত এবং সুগম্য করা বর্তমান প্রজন্মের কর্তব্য। এই কর্তব্য সঠিকভাবে পালন করার চেয়ে বড় সম্মান প্রদর্শন এই গুণীজনদের প্রতি আর কিছু হতে পারে না।’

অনুষ্ঠানে উত্তরীয় পরিয়ে তাদের সম্মান জানান বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. পারভীন হাসান। অনুষ্ঠানে প্রত্যেকের হাতে মানপত্র ও ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। মানপত্র পাঠ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শাহনাজ পারভীন, আফরিন ইসলাম, আবদুস সেলিম ও হাসান সিরাজী। এ সময় এই চার ব্যক্তিত্বের ওপর নির্মিত চারটি প্রামাণ্যচিত্রও প্রদর্শিত হয়।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাবিদ ইমেরিটাস অধ্যাপক নাজমা চৌধুরী, সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান কাজী জাহেদুল হাসান এবং সদস্য কাজী জিসান হাসান, কোষাধ্যক্ষ ড. এম মোফাখখারুল ইসলাম, রেজিস্ট্রার ইলিয়াস আহমেদ, সোশিওলজি অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. মালেকা বেগম, জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারপারসন সজীব সরকার, ফটোসাংবাদিক তাসলিমা আখতার এবং বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা।