ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২২, এপ্রিল ২০২১ ১৬:২২:৩৭ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণেই করোনার দ্বিতীয় ঢেউ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশে পুরুষের চেয়ে নারীর গড় আয়ু বেশি ১১ কোটি টাকা প্রণোদনা পাচ্ছেন ২৬৭৯ নার্স ভারতে একদিনে ৩ লাখ ১৬ হাজার শনাক্তে ফের বিশ্ব রেকর্ড বিশ্বে করোনায় মৃত্যু ছাড়াল ৩০ লাখ ৭১ হাজার

‘জলবায়ুর ন্যায়বিচার নিশ্চিতে কার্বন বাজার উন্মুক্ত করুন’

অনলাইন ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৪:৩৪ পিএম, ৩ এপ্রিল ২০২১ শনিবার

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

জলবায়ুর ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ক্ষয়-ক্ষতি রোধের উপায় খুঁজে বের করতে আন্তর্জাতিক কার্বন বাজার উন্মুক্ত করণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিখ্যাত ‘ডিপ্লোম্যাট’ ম্যাগজিনে প্রকাশিত তার লেখা ‘ঢাকা-গ্লাসগো সিভিএফ-সিওপি২৬ সংহতি জোরদার’ শীর্ষক এক নিবন্ধে তিনি এ গুরুত্বারোপ করেন।

ম্যাগাজিনটির এপ্রিল ২০২১ সংখ্যায় প্রকাশিত এই নিবন্ধে শেখ হাসিনা প্রকৃতির বিরুদ্ধে এই যুদ্ধকে অর্থবহ করে তুলতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

নিবন্ধে তিনি আরো লিখেন, ক্রান্তিকালীন জলবায়ু সহযোগিতা জোরদার এবং ক্ষয়-ক্ষতি ও জলবায়ুর অবিচার রোধের উপায় খুঁজে বের করতে আমরা উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক কার্বন বাজার দেখতে চাই।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম (সিভিএফ)-এর সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মতো সিভিএফের প্রত্যেক সদস্য রাষ্ট্রেরই বলার মতো জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অপূরণীয় ক্ষয়-ক্ষতির কথা রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, কিন্তু এসব দেশ বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে খুব কমই ভূমিকা রাখছে। জলবায়ুর এই অবিচার দূর করার সময় এখনই।

প্রকৃতির বিরুদ্ধে যুদ্ধে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, প্রকৃতির বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে সকলে এক জোট না হলে আমরা হেরে যাব।

তিনি বলেন, মানুষ সচেতনভাবে আমাদের বেঁচে থাকার সহায়ক পরিবেশ ধ্বংস করছে।
তিনি বলেন, আমরা গ্রেটা থুনবার্গ কিংবা বাংলাদেশ কোস্টাল ইয়ুথ একশান হাবের লোকজনের জন্যে কোনো পৃথিবী রেখে যাচ্ছি? সিওপি২৬-এর বিষয়ে আমরা তাদের ব্যর্থ করে দিতে পারি না।

শেখ হাসিনা আরো বলেন, আমরা জলবায়ু তহবিল অবমুক্ত দেখতে চাই। আর তা কেবল কম কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোর জন্যে নয় বরং অঙ্গীকারকৃত ১০ হাজার কোটি ডলার ছাড় এবং এর ৫০ শতাংশ জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা তৈরির জন্যে ব্যয় করা হোক।

তিনি বলেন, সিভিপি বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এক শ’ কোটিরও বেশি লোকের প্রতিনিধিত্ব করছে। সমুদ্র স্তরের সামান্য উচ্চতা বৃদ্ধি এবং ঘন ঘন ঘুর্ণিঝড় ও দ্রুত মরুকরণের কারণে এদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে।

তিনি বাংলাদেশের কথা তুলে ধরে বলেন, এই দেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগসমূহের ক্ষেত্রে প্রায়শই ‘গ্রাউন্ড জিরো’ হিসেবে উল্লেখিত হয়। এখানে জলবায়ু পরিবর্তন আমাদের কোটি কোটি সাহসী ও সহিষ্ণু জনগণের অস্তিত্বের লড়াই যাদের বাড়িঘর, জমি ও শস্য প্রকৃতির ধ্বংসাত্মক ক্রোধে ধ্বংস হচ্ছে।

তিনি তার লেখায় আরো বলেন, প্রতি বছর জিডিপি’র ২ শতাংশ চরম জলবায়ুর প্রভাবজনিত কারণে ব্যয় হয়। শতাব্দী শেষে এটি ৯ শতাংশে দাঁড়াবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, ২০৫০ সাল নাগাদ উপকূলীয় ১৭ শতাংশেরও বেশি এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যাবে। এতে ৩ কোটি লোক বাস্তুচ্যুত হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইতোমধ্যে ৬০ লাখ লোক বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এছাড়া, কক্সবাজারের পরিবেশ বিপর্যয়ের মূল্য দিয়ে এই দেশ এখনো মিয়ানামার থেকে আসা ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয়দানের চাপ বহন করছে।

‘এই ক্ষয়-ক্ষতির মূল্য কে দেবে? প্রশ্ন করেন প্রধানমন্ত্রী।

সূত্র : বাসস

-জেডসি