ঢাকা, বুধবার ০৩, জুন ২০২০ ১০:০১:৩২ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
ঢাবি শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যবিমার আওতায় আসছেন স্বাস্থ্যবিধি মেনেই কর্মস্থলে আসতে হবে: প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়াল গ্লোবাল ভ্যাকসিন সামিটে যোগ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী করোনা: দেশে আরও ৩৭ মৃত্যু, শনাক্তে রেকর্ড ২৯১১ কোভিড-১৯ দুর্বল হয়নি, এখনো শক্তিশালী: হু

জলবায়ু পরিবর্তন : কিছু কথা

ফরিদা আখতার | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:৪৭ এএম, ১১ নভেম্বর ২০১৯ সোমবার

ফরিদা আখতার

ফরিদা আখতার

ক্লাইমেট চেঞ্জ, বাংলায় জলবায়ু পরিবর্তন কোনটাই সহজভাবে বোঝার বিষয় নয় বলেই বিশেষজ্ঞরা একটা ভাব করে থাকেন। বুঝবে বিশেষজ্ঞরা আর ভুগবে সাধারণ মানুষ। অন্যদের দোষ দেব না, আমি নিজেও ক্লাইমেট চেঞ্জ বুঝতে গিয়ে গুগল ঘাঁটাঘাটি কম করি নি। অবশ্য, বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের সিদ্ধান্তগুলো সম্পর্কে খবর রাখতেই হয়। তাই সেগুলো পড়েছি। কিন্তু তবুও আমার জানার দরকার আমাদের মানুষ ক্লাইমেট চেঞ্জ বা জলবায়ু পরিবর্তন কেমন করে বোঝে। তারই দুএকটি উদাহরণ দিচ্ছি:

মৌসুমি এখনো পড়াশোনা করছে। টাঙ্গাইলের গ্রামেই বড় হয়েছে, এখন অনার্স পড়ছে, চাকুরিও করছে। তাকে জিজ্ঞেস করলাম, আচ্ছা জলবায়ু পরিবর্তন প্রথম কবে শুনেছো? দ্রুত উত্তর দিল, আপনাদের কাছে। আমি বললাম না, সেটা জানতে চাই নি। আগে কি কখনো ঋতু পরিবর্তন বা শীত-গরম কম বেশি হওয়া টের পেয়েছো? আবারও ঝটপট উত্তর। ‘আমরা যে ছয়টা ঋতুর কথা পড়েছি তা এখন আর নাই। বর্ষার পর শীত আসার আগে যে একটা মৌসুম ছিল তা এখন কেমন জানি হারিয়ে গেছে। মনে হয় ঋতু চারটা হয়ে যাবে, নাকি তিনটা হবে। সেই চিন্তা করি’। আমি তবু তাকে আর একটু জিজ্ঞেস করি। এমন কোন ঘটনা মনে পড়ে যাতে তুমি বুঝেছিলে যে আবহাওয়ার পরিবর্তন হচ্ছে? এবার সে একটু নড়েচড়ে বসলো। একটু লাজুক হাসি দিয়ে বললো। সে যখন ক্লাস ফাইভে পড়ে তখন স্কুলে বার্ষিক পরীক্ষা (নভেম্বর মাসে) দিতে যাবার সময় একটা নীচু জায়গা পার হতে হয়েছিল হাঁটুর ওপর জামা তুলে। অথচ এর আগের বছর তা করতে হয় নি। সেবার তার খুব মন খারাপ হয়েছিল। কেন এখানে এতো পানি ছিল, কেন এই সময় বৃষ্টি হোল, কেন তাকে জামা তুলে হাটতে হোল যা তার এই বয়সে সে দেখেনি। এই প্রশ্ন সে তার শিক্ষককে করেছিল। শিক্ষক তাকে বুঝিয়ে ছিলেন এখন আবহাওয়ার পরিবর্তন হচ্ছে এবং আরও হবে।

চুমকি কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের মেয়ে, গ্রাজুয়েট। তাকেও একই প্রশ্ন করলাম। সে বললো তাদের বাড়ী মাথাভাঙ্গা নদী নদীর পাড়ে; পদ্মা নদীর সাথে যুক্ত। ছোট বেলা থেকে দেখে আসছে বন্যার সময় এই নদীর পানি ঘোলা হয়ে যায়, আবার বন্যা চলে গেলে নদীর পানি একেবারে স্বচ্ছ হয়ে যায়। পানি দেখতে খুব সুন্দর তখন সবাই আনন্দ করে নদীর পানিতে গোসল করে। কিন্তু একবার দেখলো বন্যা শেষ হয়েছে, পানিও স্বচ্ছ হয়ে গেছে। কিন্তু হঠাৎ করেই আবার পানি ঘোলা হয়ে গেল। তাদের আর গোসল করা হোল না। মন খারাপ করে স্কুলের শিক্ষকের কাছে জানতে চাইল নদীর পানি আবার ঘোলা হোল কেন? তখন শিক্ষক জানালেন ভারতে বন্যা হয়েছে তাই ফারাক্কা বাঁধ খুলে দিয়েছে। তাই আমাদের নদীতে পানি বেড়ে গেছে, বন্যার মতো। পানিও ঘোলা হয়েছে। চুমকি বুঝলো আগে প্রাকৃতিকভাবে পানি ঘোলা হোত এখন মানুষের সিদ্ধান্তে নদীর পানি ঘোলা হয়েছে। সে আরও বুঝলো কোথাও আবহাওয়ার এদিক ওদিক হলে আমাদের ওপর তার রেশ এসে পড়ে।

নয়াকৃষির কৃষকরা তাদের ফসলের ভাল মন্দ দিয়ে জলবায়ু পরিবর্তন বোঝে। রিনা বেগম, শাহানাজ ও মন্টু মিয়া একটি সভায় জলবায়ু প্রসঙ্গে বলেন, গত বছরের (২০১৮) শীতের শুরুতে আবহাওয়া ভালো ছিল। অন্য বছরে কার্তিক মাসের শেষে থেকে পুরো অগ্রহায়ন মাস কুয়াশায় ঢাকা থাকে। এবছর কুয়াশা নাই। রসুন, খেশারী ও গমের জন্য অনেক ভালো সময়। এই ফসল গুলো বুনার সময় যদি বেশি কুয়াশা থাকে তাহলে ফসল গজাতে অনেক সমস্যা হয়। গাছ গজানোর পর বেশি কুয়াশা হলে সমস্যা হয়, গাছের মাথা লাল হয়ে যায়। এবছর এরকম কোন সমস্যা নাই। তাই রসুন চাষী হিশেবে তারা খুশি।

কৃষক শ্যামল বলেন অন্যকথা। কুয়াশা নাই এটা ঠিক আছে। কিন্তু এ সময় যে শীত পড়া দরকার তা পড়েনি। খেশারী ও রসুনের জন্য অনেক ঠাণ্ডা দরকার। ঠাণ্ডা পড়লে গাছের মাথা মোটা হয়। অন্য কৃষকরা বলেন এই কথাটা ঠিক। শীতের সময়ে ফসলের জন্য শীত দরকার আছে।

ক্লাইমেট চেঞ্জ বড় বড় কথা দিয়ে নয়, সাধারণ মানুষের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দিয়ে বোঝার চেষ্টা করতে হবে। তারই একটি ক্ষুদ্র চেষ্টা মাত্র।

ফরিদা আখতার : উবিনীগের প্রধান