ঢাকা, বুধবার ২৭, জানুয়ারি ২০২১ ১৫:৪৩:২৪ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
করোনা ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ নিলেন কমলা হ্যারিস করোনাতাণ্ডবে বিশ্বে মৃত্যু ২১ লাখ ৬৫ হাজার ছাড়িয়েছে বাইডেন প্রশাসনে আরেক বাংলাদেশী নারী করোনার টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে আজ মেক্সিকোতে করোনায় মৃতের সংখ্যা দেড় লাখ ছাড়িয়েছে

দস্যু বনহুর খ্যাত কথাশিল্পী রোমেনা আফাজের জন্মদিন আজ

অনলাইন ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৭:৩৭ পিএম, ২৭ ডিসেম্বর ২০২০ রবিবার

দস্যু বনহুর খ্যাত কথাশিল্পী রোমেনা আফাজের জন্মদিন আজ

দস্যু বনহুর খ্যাত কথাশিল্পী রোমেনা আফাজের জন্মদিন আজ

দস্যু বনহুর খ্যাত কথাশিল্পী রোমেনা আফাজের জন্মদিন আজ ২৭ ডিসেম্বর। রোমেনা আফাজ ১৯২৬ সালের আজকের দিনে বগুড়া জেলার শেরপুর শহরে জন্মগ্রহণ করেন। বাংলাদেশের এই প্রখ্যাত উপন্যাসিক। তিনি দস্যু বনহুর সিরিজের জন্য বাঙালি পাঠক সামজে সমধিক পরিচিত।
    
লেখিকার বাড়ি বগুড়া জেলার জলেশ্বরীতলায়। এই বাড়ি বর্তমানে রোমেনা আফাজ স্মৃতি জাদুঘর। তার বাবার নাম কাজেম উদ্‌দীন আহম্মদ এবং মায়ের নাম বেগম আছিয়া খাতুন। বগুড়া জেলার সদর থানার ফুলকোট গ্রামের ডাক্তার মোঃ আফাজ উল্লাহ সরকারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

রোমেনা আফাজ লেখালেখি শুরু করেন নয় বছর বয়স থেকে। তার প্রথম লেখা বাংলার ‘চাষী’ নামক একটি ছড়া প্রকাশিত হয় কলকাতার মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকায়। এরপর অসংখ্য ছোটগল্প, কবিতা, কিশোর উপন্যাস, সামাজিক উপন্যাস, গোয়েন্দা সিরিজ ও রহস্য সিরিজ রচনা করেছেন।

তার লেখা রহস্য সিরিজ ‘দস্যু বনহুর’ ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। তার সৃষ্ট এই দস্যু বনহুর চরিত্রের জন্যেই মূলত তিনি বিখ্যাত। রোমেনা আফাজের লিখিত বইয়ের সংখ্যা ২৫০টি।

তার লেখা উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে ৬টি চলচ্চিত্র; জনপ্রিয় এই চলচ্চিত্রগুলো হলো - কাগজের নৌকা, মোমের আলো, মায়ার সংসার, মধুমিতা, মাটির মানুষ ও দস্যু বনহুর৷

রোমেনা আফাজ শুধু একজন প্রতিভাময়ী লেখকই ছিলেন না, ছিলেন একজন সক্রিয় সমাজ সেবকও। ৩৭টি সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি৷ তারমধ্যে জাতীয় মহিলা সংস্থা, বগুড়ার সাবেক চেয়ারম্যান; ঠেংগামারা মহিলা সবুজ সংঘ, বগুড়ার আজীবন উপদেষ্টা ও প্রতিষ্ঠাতা পৃষ্ঠপোষক; বাংলাদেশ মহিলা জাতীয় ক্রীড়া সংস্থা, বগুড়ার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান; উদীচী সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী, বগুড়ার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান; বাংলাদেশ রেডক্রস সমিতি, বগুড়ার সাবেক সদস্য; শিশু একাডেমী, বগুড়ার সাবেক উপদেষ্টা; বাংলাদেশ রাইটার্স ফোরাম, বগুড়ার সাবেক উপদেষ্টা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য৷

সাহিত্য ও শিল্পকলায় অসাধারণ অবদানের জন্য ২০১০ সালে বাংলাদেশের “সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার” হিসাবে পরিচিত “স্বাধীনতা পুরস্কার” প্রদান করা হয় তাকে।

রোমেনা আফাজের অবদানকে ধরে রাখার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে রোমেনা আফাজ স্মৃতি পরিষদ৷

সাহিত্যে প্রশংসনীয় বিশেষ অবদানের জন্যে বিভিন্ন সংগঠন থেকে পেয়েছেন বহু পুরস্কার৷ তারমধ্যে নারী বিকাশ সংস্থা, বগুড়া থেকে বেগম রোকেয়া স্বর্ণপদক -২০০০; বাংলাদেশ রাইটার্স ফোরাম, বগুড়া থেকে ২১শে পদক (সাহিত্য),২০০৩; গণউন্নয়ন গ্রন্থাগার (সি,ডি,এল) নারী ফোরাম থেকে নারী মুক্তি আন্দোলনের অগ্রদূত সম্মাননা পদক, ২০০৬ (মরণোত্তর) ইত্যাদি অন্যতম৷ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন থেকে সাহিত্যে তার অবদানের স্বীকৃতি-স্বরূপ বিভিন্ন সময়ে সম্বর্ধনা দেওয়া হয়; তারমধ্যে ঢাকার নারীগ্রন্থ প্রবর্তনা গুণীজন-১৯৯৯ সংবর্ধনা উল্লেখযোগ্য৷

অসামান্য প্রতিভার অধিকারী এই সাহিত্যিক ২০০৩ সালের ১২ জুন মৃত্যুবরণ করেন।

তার উল্লেকযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে, দেশের মেয়ে: সামাজিক ও পারিবারিক, জানি তুমি আসবে:প্রণয়মূলক উপন্যাস। বনহুর: রহস্য সিরিজ। রক্তে আঁকা মাপ: দুঃসাহসিক অভিযান। মান্দিগোর বাড়ি: কিশোর উপন্যাস এবং ‘বিদগ্ধা জননী’ নামে সামাজিক উপন্যাস প্রভৃতি।