ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৭, জানুয়ারি ২০১৯ ২২:৫৪:১৭ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
শিরোনাম
সন্ত্রাস-মাদক-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে `জিরো টলারেন্স` : প্রধানমন্ত্রী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে অফিস করছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর নামে ফেসবুক খুলে প্রতারণা, গ্রেফতার ৫ পরীক্ষায় নকল রোধে আসছে আধুনিক প্রযুক্তি অনাস্থা ভোটে টিকে গেলেন থেরেসা মে বঙ্গমাতা আন্তর্জাতিক নারী ফুটবলের স্পন্সর ‘কে-স্পোর্টস’ জাতিসংঘের এক-তৃতীয়াংশ নারীকর্মী যৌন হয়রানির শিকার মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর সংরক্ষিত আসনে ত্যাগী-রাজপথে সক্রিয়দের প্রাধান্য : কাদের জমতে শুরু করেছে বাণিজ্যমেলা, ছাড়ের ছড়াছড়ি

দেশকে কিছু দিতে চাই : এলিনা সুলতানা

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪.কম

আপডেট: ০৯:৫২ পিএম, ২১ জুন ২০১৮ বৃহস্পতিবার

এলিনা সুলতানা, বাংলাদেশের ব্যাডমিন্টনের গ্লামারগার্ল। মেধাবী এই খেলোয়াড় বাংলাদেশের জন্য এনে দিয়েছেন বিরল সম্মান। একক ও দ্বৈত মিলে ছয়বারের জাতীয় চ্যাম্পিয়ান হওয়ার মুকুট এবং এসএ গেমসে ব্রোঞ্জ। নানা বাধা উপেক্ষা করে গত প্রায় এক দশক ধরে শাটলার হিসেবে শুধু দেশেই নয় আর্ন্তজাতিক পরিমন্ডলেও দেশকে করেছেন গৌরবান্বিত।

সম্প্রতি  উইমেননিউজের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। খেলা আর বাংলাদেশের ক্রিয়াঙ্গন নিয়ে তার নিজের মনের কথা খুলে বলেন। পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হলো। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সালেহীন বাবু

 


উইমেননিউজ : কেমন আছেন। 
এলিনা সুলতানা : আছি ভালই। একটু ব্যস্ত ছিলাম।

 


উইমেননিউজ : কি নিয়ে ব্যস্ততা ছিলো?
এলিনা সুলতানা : আমাদের দেশে অনুষ্ঠিত হল লেভেল ওয়ান কোচেস এর উপর কর্মশালা। এটি ব্যাডমিন্টন এশিয়া আর ওয়ার্ল্ড ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের যৌথ উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়। এনায়েতুল্লাহ ও ব্যাডমিন্টন এশিয়ার রিজিওনার ম্যানেজার নিখিল ভাই আমাকে বললেন যেহেতু আমাদের দেশের পক্ষ্যে নেতৃত্ব দেবে এরকম ভাল কোন প্রেজেন্টার ছিলনা। তাই তুমি এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে প্রেজেন্টার হও। আর আমিও দেশের সম্মানের কথা চিন্তা করে রাজী হয়ে যাই।

 


উইমেননিউজ : ব্যাডমিন্টনের হাতেখড়ি কবে থেকে শুরু।
এলিনা সুলতানা : ২০০১ সালে খুলনা থেকে শুরু পরিবারের সমর্থনে। আমার পরিবারের সবাই খেলা পছন্দ করে। আমি যখন ব্যাডমিন্টন খেলতে চাইলাম বাবা মা আমাকে আরও বেশি করে অনুপ্রেরণা দিলেন। তো এইভাবে শুরু।

 


উইমেননিউজ : তারপর এগিয়ে যাওয়ার পালা...।
এলিনা সুলতানা : এরপর সাফল্যের সাথে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। ২০০৮ থেকে ব্যাডমিন্টনে আমার হাতেখড়ি। ২০১০-এ প্রথম জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হই। একই বছর এসএ গেমসে অর্জন করি ব্রোঞ্জ। সেই বছর আসে ইন্দোবাংলা ব্যাডমিন্টনের রৌপ্য। দুইবার অর্জন করি নেপাল চ্যালেঞ্জের ব্রোঞ্জ। জাতীয় পর্যায়ে সবমিলে এককে দুবার আর দ্বৈতে চারবার সেরার মুকুট পেয়েছি। আছে সামার ওপেনের শ্রেষ্ঠত্বও।

 


উইমেননিউজ : বাংলাদশে ব্যাডমিন্টনের কোন কোন পর্যায়ে খেলা অনুষ্ঠিত হয়?
এলিনা সুলতানা : আমাদের দেশে জাতীয় পর্যায়ে খেলা হয় ফার্স্ট ডিভিশন, সেকেন্ড ডিভিশন, সামার ওপেন। আর আর্ন্তজাতিকভাবেও বাংলাদেশে খেলা হয়। এই সামনের ডিসেম্বর মাসে খেলা হবে। একটি সিনিয়ার ওপেন ইন্টারন্যাশনাল আর একটি জুনিয়র ওপেন ইন্টারন্যাশনাল। সিনিয়ার ওপেন ইন্টারন্যাশনালে ১৮ বছরের উর্ধ্বে যারা তারা অংগ্রহণ করেন। জুনিয়র ওপেন ইন্টারন্যাশনালে ১৮ বছরের যারা নিচে তারা অংশগ্রহণ করেন।

 

উইমেননিউজ : ব্যাডমিন্টনে দেশের নারীদের অবস্থান কোথায়?
এলিনা সুলতানা : আমরা যারা মেয়ে শার্টলার আছি, আমাদের দেশের ব্যাডমিন্টনে সাফল্য আমরাই নিয়ে এসেছি। আমরা যখন এসএ গেমসে অংশ নেই ২০১০ সালে, সেবার ব্রোঞ্জ পদক লাভ করি। ২০১৬ সালে ব্রোঞ্জ অর্থ্যৎ ২০১৬ তে নেপালে আমি আর শাপলা ডাবলসে ব্রোঞ্জ পাই, মিকসড ডাবলসেও ব্রোঞ্জ পাই, মোট তিনটা ২০১৬ তে। ২০১৭ তে একই আমি আর শাপলা ডাবলসে ব্রোঞ্জ মেডেলিষ্ট। আপনার হচ্ছে এরকম বড় আসরে আলাদা ও দ্বৈতভাবে জেতা। কিন্তু খুবই কঠিন যা এদেশে মেয়েরাই এনে দিয়েছে।

 


উইমেননিউজ : তাহলে আপনি বলতে চাচ্ছেন, এদেশের ব্যাডমিন্টনে ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের অবস্থান ভাল?
এলিনা সুলতানা : অন্যান্য দেশের তুলনায় ব্যাডমিন্টনে বাংলাদেশের ছেলেরা অনেক এগিয়ে। তারা সবসময় আলোচিত থাকেন দেশে-বিদেশে। সে অনুসারে তাদের যে ফলাফল এনে দেওয়ার কথা তারা কিন্তু তা এনে দিতে পারেনি। সেই হিসেবে আমরা নারী শার্টলাররাই আর্ন্তজাতিক সম্মান এনে দিয়েছি। এত কিছু সত্বেও ছেলেরা যেমন গ্রহণযোগ্যতা পায় মেয়েরা সে অনুসারে পায় না।

 


উইমেননিউজ : সমস্যা কোথায়?
এলিনা সুলতানা : এটা হচ্ছে আমাদের ফেডারেশন। ফেডারেশনে যারা উপরের লেবেলের কর্মকর্তা আছে, যারা স্পোর্টসের সঙ্গে জড়িত আছেন তাদের স্পোর্টস সম্পর্কে ভাল জ্ঞান থাকলেও বাংলাদেশে যে ধারনা মেয়েরা হয়ত পারবে না অর্থাৎ মেয়েদের চাইতে ছেলেরা ভাল। ব্যাডমিন্টনে আমার ১৫ -১৬ বছর চলছে। লং জার্নি। এ পরিক্রমায় অনেক জায়গায় আমরা ইন্টারভিউ দিয়েছি, বারবার বলেছি ফেডারেশন যেন আমাদের ভালভাবে প্র্যাকটিস করার ব্যবস্থা করে দেয়। ভাল মানের কোচ এনে দেয়। তাহলে আমরা ভাল রেজাল্ট করব। পাশের দেশ ইন্ডিয়াকেই দেখুন।

 


উইমেননিউজ : কেন ইন্ডিয়ান ব্যাডমিন্টনের সঙ্গে আমাদের কোন মৌলিক জায়গায় পার্থক্য আছে নাকি?
এলিনা সুলতানা : ইন্ডিয়ার মেয়েরা যে ভাল খেলতে পারছে, সেটা কিন্তু এক দুদিনে হয় নি। এটি কিন্তু লং টাইম প্রোগ্রাম করা। তারা আগেই পরিকল্পনা করে নিয়েছে আগামী ৫ বছর পর তারা কোন অবস্থানে যাবে। ঠিক যেমনটি তারা ৫ বছর কিংবা ১০ বছর আগে করেছিল। আমাদের আর ইন্ডিয়ার কালচারের মধ্যে কিন্তু তেমন কোন পার্থক্য নেই। তারপরেও তারা আমাদের চেয়ে এগিয়ে যাচ্ছে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কারণে।

 


উইমেননিউজ : কেন আমাদের দেশে ব্যাডমিন্টনে কি এ ধরনের কোন সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নেই?
এলিনা সুলতানা : আমাদের কোন প্লানিং নেই। দেখা যাচ্ছে আমাদের যদি সুদূরপ্রসারী প্লান থাকত যে আমরা ২০২০ সালের মধ্যে এরকম একটা ফলাফল করব, তাহলে একটা না একটা ফলাফল পাওয়া যেত। এক বছরের পরিকল্পনা করে কতটুকুই বা আউটপুট বের করা যায়। সে জন্য লং টার্ম অর্থ্যাৎ ৫ বছর বা ১০ বছরের পরিকল্পনা করলে ভাল হবে।

 


উইমেননিউজ : তাহলে কি শুধু পরিকল্পনা না থাকার কারণে দেশীয় ব্যাডমিন্টনে খেলায় ঈপ্সিত উন্নতি হচ্ছে না?
এলিনা সুলতানা : আসলেও তাই। আমাদের কোন পরিকল্পনা না থাকার কারণে আমারা ব্যাডমিন্টনে পিছিয়ে আছি। যেহেতু কোন পরিকল্পনা থাকে না তাই যে কোন টুর্ণামেন্টে দায়সারাভাবে চলে যায়। মূল সমস্য হচ্ছে যথার্থ পরিকল্পনার অভাব।

 


উইমেননিউজ : তবে কি শুধু পরিকল্পনার কারণেই আমরা পিছিয়ে যাচ্ছি না অন্য কোন কারনও আছে ?
এলিনা সুলতানা : আমি যখন এশিয়া গেমসে ওমেন্স কো অর্ডিনেটর হিসেবে যাই সেখানেও আমাকে একই প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। আসলে আমাদের দেশে অশিক্ষিতের হার বেশি। অধিকাংশ পরিবারই কিন্তু অশিক্ষিত। দেখা যাচ্ছে যে মেয়েটি গরীব পরিবার থেকে আসে সে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলা চালিয়ে যেতে পারে না।

 


উইমেননিউজ : কেন? দুটো একসাথে চালিয়ে যেতে অসুবিধা কোথায়?
এলিনা সুলতানা : যেমন আমার কথা দিয়েই না হয় বোঝাই। আমি তো ২০১৬ তে মাস্টার্স করেছি। ২ মাস খেলা বাদ দিয়ে পুরো পড়াশোনায় ধ্যান দিয়েছি। তারপর আবার খেলায় যোগ দিয়েছি। আমার মত সব পরিবারে এক অবস্থা নেই। অনেক পরিবারে মেয়েরা খেলার জন্য পড়াশোনাকে বিসর্জন দেয়। কারণ পড়াশোনা চালিয়ে গেলে পরীক্ষাসংক্রান্ত কারণে খেলা বন্ধ রাখলে আয়ের উৎসও বন্ধ হয়ে যায়।

 


উইমেননিউজ : আপনারা নারী শার্টলার কি কোন বেতন-ভাতা পান না ফেডারেশন থেকে?
এলিনা সুলতানা : না আমরা বেতন-ভাতা পাই না। আমাদের সেভাবে কোন বেতন-ভাতা দেওয়া হয় না। যখন খেলোয়াড়রা খেলে তখন দেওয়া হয়।

 


উইমেননিউজ : তাহলে এ সংকট থেকে উত্তরণে পরিবার ও ফেডারেশন, দু ক্ষেত্রেই মনোভাব পরিবর্তন করতে হবে। 
এলিনা সুলতানা : অবশ্যই আমাদের যদি ফেডারেশন থেকে একটা বেতনের ব্যবস্থা করে দেয় তাহলে যে মেয়েরা ব্যাডমিন্টন খেলবে তাদের পরিবারে অস্বচ্ছলতা থাকবে না। এটিন বাংলাসহ বেশ কয়েকটি টিভি চ্যানেলে আমরা এ ব্যাপারে দাবী করেছিলাম। সে সময় মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তারা আমাদের বলেছিলেন ভাল কোন ফল এনে দিতে। পরে তারা দেখবেন। আমরা তো ভাল ফলাফল এনে দিয়েছি, কাজের কাজ তো কিছই হয় নি। তাছাড়া পাশাপাশি সরকার থেকে যদি আলাদাভাবে অর্থাৎ খেলোয়াড়দের জন্য আলাদা একটা স্কুলের ব্যবস্থা করে দেয় তাহলে খেলোয়াড়ও উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারে। এভাবে করলে খেলোয়াড়রা সবখানেই খাপ খাওয়াতে পারত। আজকের দিনের খেলোয়াড়রাই আগামী দিনের ভবিষ্যত। আগামী দিনে তারাই কোচ হবে, দেশকে নেতৃত্ব দিবে। আর পরিবারকে তো সবার আগে করতে হবে। পরিবারের সবাইকে একসাথে সেই নারীকে সহযোগিতা করতে হবে। তাছাড়া ঘরের বাইরের প্রতিবন্ধকতাও কমাতে হবে।

 


উইমেননিউজ : ঘরের বাইরে কি ধরনের প্রতিবন্ধকতা?
এলিনা সুলতানা : ঘরের বাইরে অবশ্যই প্রতিবন্ধকতা আছে বৈকি। শহরে তেমন একটা না হলেও গ্রামের কোন মেয়ে যখন খেলোয়াড়ের পোশাকে বের হয় তখন অনেককেই খোটা শুনতে হয়। গ্রামের উশৃঙ্খল ছেলেরা পিছন থেকে বাজে বাজে মন্তব্য করে। ফলে সামাজিকভাবে নারী খেলোয়াড়রা হেনস্থা হচ্ছে। এর সমাধানে সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

 


উইমেননিউজ : আপনি কি এখন আর্মিতে খেলছেন?
এলিনা সুলতানা : হ্যাঁ, আমি এখন আর্মিতে খেলছি। সেখান থেকে আমাকে বেতন দেওয়া হয়। তাছাড়া ফেডারেশন থেকে সরকারিভাবে কিছুই পাই না। সবাই আমাদের অবহেলা করে। এমনকি মিডিয়াও আমাদের পাশে এসে দাঁড়ায় না।

 


উইমেননিউজ : কেন? আমরা তো সব সময় আপনাদের পাশে আছি?
এলিনা সুলতানা : আমাদের দেশে ক্রিকেট খেলাকে যে পরিমান হাইলাইটস করা হয়, সে অনুসারে আমরা কখনই লাইমলাইটে আসতে পারি না। অথচ আমরা বাংলাদেশের জন্য আর্ন্তজাতিক খ্যাতি এনে দিয়েছি।

 


উইমেননিউজ : কোচ কো-অর্ডিনেটর হিসেবে কিভাবে এগিয়ে যাওয়ার চিন্তাভাবনা আপনার?
এলিনা সুলতানা : সাউথ এশিয়ান রিজিওনে বাংলাদেশ থেকে প্রথম নারী শাটলার হিসেবে আমি লেভেল ওয়ান কোচেস কোর্স করেছি। এটা করেছি আমাদের দেশের মেয়েদের জন্য। তাদের খেলায় এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য। কোচ, কো-অর্ডিনেটর দুটো কিন্তু সম্পূর্ন আলাদা ব্যাপার। কোচের লাইন আলাদা আর কো-অর্ডিনেটরের লাইন আলাদা।

 


উইমেননিউজ : যেমন...।
এলিনা সুলতানা : কোচ হিসেবে আমি কাজ শুরু করেছি। তবে এত বড়ভাবে শুরু করেনি। অল্প কয়জন স্টুডেন্ট নিয়ে কোচিং শুরু করেছি। আর কো-অর্ডিনেটরের কাজ হচ্ছে যখন আমি বাংলাদেশের মেয়েদের উন্নয়নের জন্য নতুন কিছু বের করব, তাদের নিরাপত্তার জন্য চিন্তা করব, বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে বিদেশে নিজেকে উপস্থাপন করব, মূল কথা সার্বিক সমন্বয়ই হচ্ছে কো-অর্ডিনেশন। যেমনটা এবারের প্রোগ্রামে আমি করেছি।

 


উইমেননিউজ : যেটা গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হল?
এলিনা সুলতানা : যেমন এবার আমি অনেক চিন্তাভাবনা করে একটা পরিকল্পনা জমা দিয়েছি। আমাকে বলা হয়েছিল ১ বছরের প্ল্যান করে আনতে। আমি তা করেছি। এতটা সহজ ছিল না আমার জন্য। এ ব্যাপারে বাইরের দেশে যারা করছে তারা যে পরিমান ফিডব্যাক পাচ্ছে সে তুলনায় আমি কিছুই পাচ্ছি না। অথচ কাজ কিন্তু একই। আমি তাদের তুলনায় বয়সেও অনেক ছোট। আর বাজেটের ব্যাপারে আমি নিজে কিছুই বলিনি। বাজেট রিজিওনাল কর্মকর্তারা নির্ধারণ করবে। আমাদের ফেডারেশন, অলিম্পিক ফেডারেশন, ওয়ার্ল্ড ব্যাডমিন্টন ফাউন্ডেশন, ওয়ার্ল্ড ব্যাডমিন্টন এশিয়া হয়ে আমার প্ল্যান পাশ হবে। কারণ স্পন্সরেরও প্রয়োজন আছে। এখানে কাজ করতে গেলে নিজের পকেট থেকে উল্টো টাকা খরচ করতে হয়।

 


উইমেননিউজ : স্বামী এনায়েত উল্লাহ খানকে সব বিষয়েতো পাশে পেয়েছেন -
এলিনা সুলতানা : আমি এনায়েতকে পেয়েছি বন্ধু-কোচ-স্বামী রূপে। আমার চেষ্টার সঙ্গে এনায়েতের সার্বিক সহযোগীতার কারণে আজকের আমি। ও দেশকে, ব্যাডমিন্টনকে খুব ভালবাসে। আমাকে তাই সবসময় এ নিয়েই কাজ করতে বলে। শুধু ও নয়.আমিও স্বপ্ন দেখি ব্যাডমিন্টনে বাংলাদেশের মেয়েরা অনেক দূর যাবে।

 


উইমেননিউজ : ব্যাডমিন্টনই তো আপনার ধ্যানজ্ঞান সব তাই না -
এলিনা সুলতানা : ব্যাডমিন্টনই তো আমার ধ্যানজ্ঞান সব। আমি চাই আমার মত ব্যাডমিন্টনে মেয়েরা এগিয়ে আসুক। এটা আমার রক্তের সাথে মিশে আছে। এদেশকে আমি প্রচন্ড ভালবাসি। আর এই দেশপ্রেমের প্রতিদানে দেশকে কিছু দিতে চাই। দেশকে আরো গৌরব, সম্মান এনে দিতে চাই।