ঢাকা, সোমবার ১৬, সেপ্টেম্বর ২০১৯ ১:৫৩:১৬ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
দুর্নীতির অভিযোগে জাবি উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি ভিকারুননিসার নতুন অধ্যক্ষ ফওজিয়া পুলিশকে সততার সঙ্গে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী ডিপ্লোম্যাট ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে শেখ হাসিনা

নানা দেশের স্কুলে নানা রকম টিফিন

কাজী শেহেরিন নিয়াজী | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৯:৩৯ পিএম, ৪ জুলাই ২০১৯ বৃহস্পতিবার

বিশ্বের প্রতিটি দেশের স্কুলে টিফিনের নিজস্ব ধরন আছে। স্কুলগুলোতে বাচ্চাদের নানা রকম লাঞ্চ ও নাস্তা দেয়া হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো মাঝে মাঝে শিক্ষার্থীদের সেটম্যানুও দিয়ে থাকে। অনেক স্কুলেই বাচ্চাদের বিনামূল্যে খাবার সরবরাহ করা হয়। তবে প্রতিটি স্কুলেই খাবারের মান নিয়ন্ত্রণ করা প্রধান শর্ত। 

আপনি জানেন কি উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে কোন খাবার স্কুলের টিফিন বা লাঞ্চের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয়। আপনি কি জানেন দক্ষিন কোরিয়ার বাচ্চারা স্কুলে টিফিনে কি খায়? কিংবা তুরস্কের শিশুরা টিফিনে কি ধরনে খাবার খেতে পছন্দ করে? 

আসুন জেনে নেই কোন দেশের বাচ্চারা স্কুলে কি ধরনের খাবার খায়।

দক্ষিন কোরিয়া :
এশিয়ার একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত দেশ দক্ষিন কোরিয়া। দক্ষিন কোরিয়ার স্কুলে বাচ্চাদের খাবারের ব্যবস্থা বিশ্বের অনেক দেশের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।

এ দেশের স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের লাঞ্চ প্রদান করা হয় এক ধরনের বিশেষ ট্রেতে করে। এই ট্রেতে কয়েকটি ভাগ থাকে। এর মধ্যে বড় দুটি ভাগে স্যুপ আর ভাত দেয়া হয়। ছোট ছোট তিনটি ভাগে আলাদাভাবে সালাদ, সবজি ও নানা রকম সি ফুড দেয়া হয়। 

স্বাস্থ্য খারাপ যে সব শিশুদের, তাদের মেজরিং স্পুন দিয়ে মেপে ফিস ওয়েল খেতে দেয়া হয় নিয়মিত।
অন্যান্য খাবারের মধ্যে মিষ্টি কুমড়ার স্যুপ, প্যানকেক, তিল পাতার সবজি, বাধাকপির আচার (কিমচি) ও সালাদ দেয়া হয়।

জাপান :
জাপানি স্কুলেও বাচ্চাদের অনেকটাই দক্ষিন কোরিয়ার মতই খাবার দেয়া হয়। গরম স্যুপ, ভাত, মাছ, সালাদ ও দুধ খেতে দেয়া হয় টিফিনে।

জাপানে ছাত্র-ছাত্রীরা হাইস্কুলে যাওয়া না পর্যন্ত বাসা থেকে টিফিন আনতে পারে না।

জাপানে স্কুলগুলোতে কোনো ভ্যান্ডিং মেশিন থাকে না। স্কুলগুলোতে ক্যান্টিনে বসে খাওয়ারও কোনো নিয়ম নেই। বাচ্চারা সবাই একসঙ্গে ক্লাসরুমে বসেই খাবার খেতে হয়। খাবার খাওয়ার সময় তারা সাদা রঙের বিশেষ এক ধরনের পোষাক পড়ে। অনেকে আবার খোলা আকাশের নিচে স্কুলের মাঠে বসে খাবাব খেতে পছন্দ করে। 

তুরস্ক:
খুবই মজার ব্যাপার, তুরস্কের স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা টিফিন খাওয়ার জন্য এক ঘন্টা সময় পায়। এদেশে স্কুলগুলোতে ক্যান্টিন খুবই বিরল। তাই তারা লাঞ্চ করার জন্য মাঝে মাঝে স্কুল থেকে বাসায় যায়। আবার কখনো কখনো বাসা থেকেও খাবার নিয়ে যায় স্কুলে। কারো বাসা যদি স্কুল থেকে দূরে হয় তাহলে তার বেশ কষ্ট হয়।

ছাত্র-ছাত্রীরা টিফিনে পাউরুটি, ওয়ালনাট, আঙ্গুর, আপেল, বেদানা, লাচ্ছি (কিফির) খেয়ে থাকে। এ ধরনের খাবার বাচ্চাদের ব্রেইন শার্প করে তোলে।

থাইল্যান্ড :
জাপানের বাচ্চাদের মত থাইল্যান্ডের বাচ্চাদেরও কোনো ক্যান্টিন দরকার হয় না। তারা সাধারণত স্যুপ, শুকরের মাংস, ভাত, পুডিং খেয়ে থাকে। ক্যান্টিন থেকে তারা খাবার নিয়ে ক্লাসরুমে চলে যায় এবং সবাই একসাথে বসে খাবার খায়। 

ফ্রান্স :
ফ্রান্সের স্কুলগুলোতে সব সময় ছাত্র-ছাত্রীদের খুবই স্বাস্থ্যসম্মত খাবার দেয়া হয়। মাছ, পালং শাক, আলু, পনির, বানরুটি প্রভৃতি দেয়া হয়। ফান্সে স্কুলে শিক্ষার্থীদের জন্য দিনের সবচেয়ে বড় খাবারের ব্যবস্থা করা হয় লাঞ্চে। স্কুলগুলোতে লাঞ্চের সময় এক থেকে দুই ঘন্টা পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। এ সময় শিক্ষার্থীরা ইচ্ছে করলে বাসায় যেয়েও লাঞ্চ করতে পারে।

ফিনল্যান্ড :
ফিনল্যান্ডে স্কুলগুলোতে লাঞ্চকে খুব গুরুত্ব দেয়া হয়। প্রতিটি শিক্ষার্থীকে সকালে নাস্তা দেয়া হয়। আবার ক্লাস চলাকালেও নাস্তা দেয়া হয়। এমনকি দুপুরে লাঞ্চ দেয়া হয়। শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যান্টিনে নানা রকম খাবারের ব্যবস্থা থাকে। তারা নিজের পছন্দ মত খাবার নির্বাচন করতে পারে।

প্রতিটি স্কুলের শিশুর শারীরীক চাহিদা ও ধর্ম মত খাবারের ব্যবস্থা থাকে। ফিনল্যান্ডে স্কুলগুলোতে খাবারের মধ্যে রয়েছে, মিটবল, আলু, সালাদ, ওটমিল ইত্যাদি।

রাশিয়া :
রাশিয়ার স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা বিনা পয়সায় সকাল ৯ থেকে ১২টা পর্যন্ত নাস্তা খেতে পারে। ১২টার পর টাকার বিনিময়ে লাঞ্চ খেতে হয়। যদি বাসা কাছে হয় তাহলে বাচ্চারা মাঝে মাঝে বাসায় গিয়ে লাঞ্চ করে আসে। রুশ স্কুলগুলোতে সাধারণত স্যুপ, মাছ, মাংস, ভাত, বাকুউইট, বিভিন্ন ফলের জুস ইত্যাদি খেতে দেয়া হয়।

হাঙ্গেরী :
হাঙ্গেরী রেস্টুরেন্ট এবং ক্যাফের জন্য বিখ্যাত। স্কুলের লাঞ্চ ব্যবস্থার জন্যও দেশটির বেশ খ্যাতি রয়েছে। এদেশে শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন রকমের খাবার ব্যবস্থা করা হয় স্কুলগুলোতে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, নডুল, স্যুপ, বেক বিন ইউথ চিকেন, বাদাম, সালাদ এবং ডিজাট প্রভৃতি।

ইসরাইল :
ইসারইলের স্কুলগুলোতে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার সরবরাহ করা প্রধান শর্ত। দেশটির সরকার চর্বি ও চিনিযুক্ত খাবার স্কুল থেকে ব্যান্ড করে দিয়েছে। বাচ্চারা সাধারণ বাসা থেকে খাবার নিয়ে আসে স্কুলে। এ সব খবারে মধ্যে রয়েছে টুনা মাছ ও ডিম দিয়ে তৈরি স্যান্ডইউচ, ফল, সবজি এবং মিষ্টি।

কলম্বিয়া :
কলম্বিয়ায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ শিশুকে স্কুলে পুস্টিযুক্ত খাবার সরবরাহ করা হয় বিনামূল্যে। ছাত্র-ছাত্রীরা সাধারণত স্যুপ, ভাত বা পাস্তা, সালাদ, মাংস, ফলের শরবত খায়। আবার ফল, জুস, স্যান্ডইউচ, ছোট কেকও শিশুদের টিফিন বা লাঞ্চে দেয়া হয়। 

ইটালি :
ইটালিতে একেকটি প্রদেশে একেক রকম খাবার দেয়া হয় স্কুলগুলোতে। কতগুলো কমন খাবার আছে, যেগুলো পুষ্টিকর আর সুস্বাধু। লাঞ্চের আগে বাচ্চাদের নাস্তায় ক্রেকারর্স, ব্রেড স্টিকস, ফল ও বিস্কিট দেয়া হয়। আর লাঞ্চে দুই ধরনের খাবার দেয়া হয়। প্রথমত: পাস্তা অথবা ভাত, সি ফুড বা সবজি। আবার মাছ, মাংস ও পনিরও রাখা হয় ম্যনুতে। অনেক বাচ্চা এই খাবারগুলো পছন্দ না করলেও খেতে বাধ্য হয়। অসুস্থ্যতা অথবা ধর্মীয় কারণে কোনো কোনো শিক্ষার্থী বিশেষ খাবার পেয়ে থাকে।

অস্ট্রেলিয়া : 
অস্ট্রেলিয়ায় স্কুলে চিনি, চর্বি, লবনযুক্ত খাবার দেয়া হয় না। এদেশের স্কুলগুলোতে খাবার ম্যানুতে সাধারণত থাকে শুশি, ভূট্টা, ফল, স্যান্ডোইচ প্রভৃতি। খাবার যে কোনো সময় পাওয়া যায়। ছাত্র-ছাত্রীরা নিজেদের খাবার নিজেরাই কিনতে পারে। 

অধিকাংশ স্কুলেই স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাওয়ার সুযোগ দেয়া হয়। স্কুলগুলোতে প্রায় আশি ধরনের খাবারের ব্যবস্থা থাকে। এসব খাবার থেকে নিজের পছন্দের খাবারটি বেছে নিতে পারে বাচ্চারা। 

অস্ট্রেলিয়ান স্কুলগুলোতে ছোট ছোট ক্যান্টিনের মত দোকান থাকে। এসব দোকানে নাস্তা, চকলেট ও পানীয় বিক্রি করা হয়।

চিলি :
চিলির স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য চমৎকার স্বাদের নানা রকম লাঞ্চের ব্যবস্থা রয়েছে। খাবারের মধ্যে রয়েছে ভাত, বিফ রোল, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, সালাদ, অ্যাবাকাড, অরেঞ্চ জুস এবং ফল। এসব খাবারের মান খুবই উন্নত। 

৥ লেখক : সানিডেল স্কুলের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী।