ঢাকা, শনিবার ২৫, মে ২০১৯ ১১:৪২:৪৫ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
শিরোনাম
গুজরাটে কোচিং সেন্টারে আগুন, ১৮ শিক্ষার্থী নিহত পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন থেরেসা মে, কাঁদলেনও

পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হলেন বৃক্ষমাতা থিম্মাক্কা

অনলাইন ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০২:১০ পিএম, ২৮ জানুয়ারি ২০১৯ সোমবার

বৃক্ষমাতা থিম্মাক্কা

বৃক্ষমাতা থিম্মাক্কা

ভারতের কর্নাটকের থিম্মাক্কা এবার পেলেন পদ্মশ্রী। বয়স তার ১০৬ বছর। গত ৮০ বছরে প্রায় ৮ হাজার গাছ লাগিয়ে তাদের বড় করে তুলেছেন এই নারী। গাছেরা তার কাছে সন্তানতুল্য। কেন তিনি জীবনভর শুধু গাছই লাগিয়েছে? এর পেছনে রয়েছে এক করুণ গল্প।

বিবাহিত জীবনের ২৫ বছর পরেও কোনও সন্তান হয়নি তাঁর। সমাজ তাঁকে একঘরে করে রেখেছিল। গর্ভধারণ করতে না পারলে নাকি নারী পূর্ণতা পান না, আজও প্রচলিত সমাজে অনেকেরই ধারণা এমনটাই। কিন্তু তাকেই পাল্টে দিলেন থিম্মাক্কা। সমাজের প্রতি নিলেন মধুর প্রতিশোধ।

কর্নাটকের গুব্বি তালুকের বাসিন্দা বেকাল চিক্কাইয়ার সঙ্গে থিম্মাক্কার বিয়ে হয়। সন্তান না হওয়ায় স্বামীর সঙ্গে অনন্য এক সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ঠিক করেন, গাছ লাগাবেন। আর তাদেরই বড় করবেন সন্তানস্নেহে।

থিম্মাক্কার কিন্তু কোনও ডিগ্রি নেই। গ্রামের আর পাঁচজন দরিদ্র ভারতীয় নারীর মতোই শ্রমিক হিসেবে কাজ করে রুটিরুজি চালানো এক নারী।

ভূমিহীন দিনমজুর এই দম্পতি সমাজেও ছিলেন একঘরে। কথা বলার সমস্যা থাকায় চিক্কাইয়াকে তার পড়শিরা বলত ‘তোতলা চিক্কাইয়া’। সমাজ বিচ্ছিন্ন স্বভাব-লাজুক চিক্কান্না আর থিম্মাক্কার দিনগুলো ছিল বেশ একলা, বিষণ্ণ। তখন থেকেই সিদ্ধান্ত নেন সমাজের বঞ্চনার জবাব দেবেন। তখনই মাথায় আসে গাছ লাগানোর বিষয়টি।

শুরুটা কী ভাবে হল? প্রথম বছর ১০টি, দ্বিতীয় বছর ১৫টি, তৃতীয় বছর ২০টি বটগাছের চারা লাগালেন। এক সময় এই সন্তানদের দেখাশোনার জন্য দিনমজুরির কাজও ছেড়ে দেন চিক্কাইয়া। থিম্মাক্কা রোজগার করতেন, আর বাড়ি ফিরে স্বামীর সঙ্গে বৃক্ষসন্তানদের দেখভাল করতেন।

রোজ প্রায় চার কিলোমিটার পেরিয়ে তাঁরা এই গাছগুলিতে পানি দেওয়ার কাজ করতেন। গবাদি পশুর হাত থেকে চারাগাছগুলিকে বাঁচাতে কাঁটাতারের বেড়াও বানিয়ে দেন।
তাঁর গ্রাম হুলিকাল থেকে কুদুর অবধি ২৮৪টি বটগাছের চারা লাগিয়ে বড় করেছেন তিনি। প্রায় চার কিলোমিটার পথজুড়ে দাঁড়িয়ে থাকা ছায়াময় সুবিশাল গাছগুলি থিম্মাক্কার ভালোবাসারই নিদর্শন, বলেন পথচারীরাও।

১৯৯১ সালে স্বামী মারা যান। থিম্মাক্কা একা রইলেন গাছ সন্তানদের পরিচর্যায়। তাঁর কাজের প্রতি সম্মান দেখিয়ে গ্রামবাসীরা তাঁকে ‘সালুমারাদা’, বলে ডাকতে শুরু করলেন। কন্নড় ভাষায় যার অর্থ ‘গাছেদের সারি।’

সালুমারাদা থিম্মাক্কা লোকচক্ষুর আড়ালেই রয়ে যেতেন। ১৯৯৬ সালে ‘জাতীয় নাগরিক সম্মান’ ভূষিত হওয়ার পর তাঁর কথা জানতে পারে গোটা দেশ। বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সংস্থা এগিয়ে আসে তাঁকে সাহায্য করতে।

বর্তমানে থিম্মাক্কার গাছগুলিকে দেখভালের দায়িত্ব নিয়েছে কর্নাটক সরকার। সেই প্রসঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, সন্তানদের নিজে প্রতিপালন করতে পারলেই তিনি খুশি হতেন। কারণ কখনওই কারও সাহায্য চাননি তাঁরা।

২০১৬ সালে বিবিসি-র বিচারে বিশ্বের ১০০ জন প্রভাবশালী নারীর তালিকায় রয়েছে সালুমারাদা থিম্মাক্কার নামও। আন্তর্জাতিক স্তরের উদ্যোগে থিম্মাক্কা ফাউন্ডেশনও তৈরি হয়েছে বিদেশের বিভিন্ন জায়গায়।

সাংবাদিক গৌরী লঙ্কেশ খুনের প্রতিবাদ সভাতেও থিম্মাকাকে দেখা গেছে সম্প্রতি।

বিবিসির তথ্য মতে, গত ৮০ বছরে প্রায় ৮ হাজার গাছ পুঁতে তাদের বড় করে তুলেছেন ১০৬ বছর বয়সী এই বৃক্ষমাতা। স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পর্যন্ত হয়নি। সেই থিম্মাকাই এবার পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হয়েছেন পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়নের কারণেই। পদ্মশ্রী ছাড়া আন্তর্জাতিক স্তরেও বহু পুরস্কার পেয়েছেন এই বৃক্ষমাতা।