ঢাকা, বুধবার ১১, ডিসেম্বর ২০১৯ ২৩:০৬:১৩ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
রাখাইনে গণহত্যার কথা অস্বীকার করলেন সু চি সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্যকোর্স বন্ধের নির্দেশ সু চির ‘নৈতিক অবক্ষয়’ দেখে দুঃখ পেয়েছি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী কুষ্টিয়ায় অধ্যক্ষের কক্ষে বিষপানে কলেজ ছাত্রীর মৃত্যু ২০৩০ সাল নাগাদ কুষ্ঠরোগ নির্মূল সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

পুরাণ: সিফালাস ও প্রক্রিস: চির বিরহের কাব্য

শান্তা মারিয়া | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৫:৩৭ পিএম, ১৫ নভেম্বর ২০১৯ শুক্রবার

গ্রিক পুরাণের একটি বেদনাবিধুর প্রেমকাহিনি হল সিফালাস ও প্রক্রিসের কাহিনি। রোমান পুরাণের ওভিদ ও অন্যান্যরা এই কাহিনি বর্ণনা করেছেন। সিফালাস ও প্রক্রিস ছিলেন  স্বামী- স্ত্রী। সিফালাস ছিলেন বায়ুরাজ ইয়োলাসের পৌত্র। আর প্রক্রিস ছিলেন এথেন্সের রাজা ইরেকথিউসের কন্যা। তারা ছিলেন প্রেমিক প্রেমিকা। তারপর তাদের বিয়ে হয়। তারা সুখী দাম্পত্যজীবন শুরু করেন।

সিফালাসের শিকারের নেশা ছিল।একবার তিনি যখন ভোররাতে শিকার করছিলেন সেই সময় ঊষা দেবী ইওস তাকে দেখতে পান।  সুদর্শন ফালাসকে দেখে মোহিত হন ইওস। তিনি তাকে অপহরণ করে নিয়ে যান। মতান্তরে সিফালাস তার বিয়ের রাতেই অপহৃত হন।

আফ্রোদিতির অভিশাপে ইওসের ছিল মর্ত্যমানবদের প্রতি অবৈধ আসক্তি এবং তিনি ছিলেন প্রেমে চির অসুখী। যাই হোক ইওস সিফালাসের প্রতি বারে বারে প্রেম নিবেদন করেন। তিনি আট বছর সিফালাসকে আটকে রাখেন। তাদের একটি সন্তান হয়। কিন্তু ইওস কোনোভাবেই সিফালাসের মন থেকে প্রক্রিসের প্রতি প্রেমকে দূর করতে পারেন না। সিফালাস মানসিকভাবে একমাত্র প্রক্রিসের প্রতিই অনুরক্ত থাকেন। সিফালাসের মন থেকে প্রক্রিসের প্রতি প্রেম দূর করতে না পেরে ইওস তাকে মুক্ত করে দেন। কিন্তু সেই সঙ্গে বলেন, প্রক্রিসকে যতটা বিশ্বস্ত ভাবছেন সিফালাস সে প্রকৃতই ততোটা বিশ্বস্ত কি না তা পরীক্ষা করে দেখতে। এই কথায় সিফালাসের মনে সন্দেহের বিষ ঢুকে যায়। তিনি এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর ছদ্মবেশ নিয়ে নিজের বাড়িতে ফিরে আসেন।

এদিকে আট বছর ধরে প্রক্রিস প্রিয়তমের জন্য প্রতীক্ষা করছিলেন। সেই সময় ছদ্মবেশী সিফালাস তার আতিথ্য গ্রহণ করেন। তিনি প্রক্রিসের প্রতি প্রেম নিবেদন করেন। কিন্তু বারে বারে প্রত্যাখ্যাত হন। তারপর প্রচুর স্বর্ণালংকারের লোভ দেখিয়ে তিনি বলেন, যে স্বামী হয়তো কোনোদিন ফিরবে না তার জন্য প্রতীক্ষা করে এই আন্তরিক প্রেমকে প্রত্যাখ্যান করা নিরর্থক। এই বার প্রক্রিস তার প্রেমে সাড়া না দিলেও দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেন না। মতান্তরে প্রক্রিস তার সঙ্গে অনিচ্ছা নিয়েও মিলিত হন।

যাই হোক এর পরই সিফালাস নিজের পরিচয় প্রদান করেন এবং প্রক্রিসকে অসতী বলে তীব্রভাবে অপমান করেন। মনের দুঃখে প্রক্রিস বাড়ি ত্যাগ করে দেশে দেশে ঘুরে বেড়াতে লাগলেন। তিনি ক্রিটে পৌঁছে রাজা মাইনসের আতিথ্য নেন। মাইনস প্রজনন অঙ্গের অসুখে ভুগছিলেন। এবং ভবিষ্যতবাণী ছিল যে একমাত্র প্রক্রিসের সঙ্গে মিলিত হলে এই রোগ সারবে। মাইনসকে আরোগ্য করার জন্য প্রক্রিস তার সঙ্গে মিলিত হন। বিনিময়ে মাইনস তাকে একটি কুকুর ও বর্শা প্রদান করেন। এই কুকুর ও বর্শা তাকে দিয়েছিলেন দেবী আর্টেমিস। এই বর্শা আর কুকুর ছিল অব্যর্থ।

অন্য এক কাহিনিতে আছে প্রক্রিস আর্টেমিসের শিকার সঙ্গী হন। এবং আর্টেমিস স্বয়ং তাকে এই বর্শা ও কুকুর দান করেন। যাই হোক বর্শা ও কুকুর নিয়ে দেশে ফেরেন প্রক্রিস। সিফালাসের সঙ্গে তার দেখা হয়। সিফালাস অনুতপ্ত হয়ে তাকে গ্রহণ করেন। প্রক্রিস তাকে বর্শা ও কুকুর প্রদান করেন। এর ফলে দুজনের মধ্যে প্রেম পুনর্স্থাপিত হয়।

কিছুকাল তারা সুখি দাম্পত্য জীবন যাপন করেন। দৈব কুকুরটি একটি দৈব শিয়ালকে তাড়া করতে গিয়ে জিউস কর্তৃক পাথরে পরিণত হয়। জিউস শিকার ও কুকুর দুটিকেই পাথরে পরিণত করেন। তবে বর্শাটি শিকারে অব্যর্থ প্রমাণিত হয়।

এদিকে আর্টেমিস প্রক্রিসের উপর ক্ষুব্ধ হন কারণ তার দেওয়া কুকুর ও বর্শা দিয়ে প্রক্রিস প্রেম করছে। চিরকুমারী আর্টেমিস প্রক্রিসের নতুন জীবন ধ্বংসের পাঁয়তাড়া করেন। তিনি কৌশলে এক ভৃত্যকে দিয়ে বলে পাঠান যে সিফালাস শিকারে গিয়ে ‘নেফেলি’কে ডাকছিলেন। মতান্তরে ‘অরা’কে ডাকছিলেন। গ্রিক ভাষায় নেফেলি যেমন নারীর নাম হয় তেমনি মেঘকেও নেফেলি বলা হয়। অরা রোমান ভাষায় নারীর নামও হতে পারে আবার বাতাসকেও অরা বলা হয়। সিফালাস অন্য নারীর সঙ্গে প্রেম করছেন ভেবে ঈর্ষায় জ্বলে ওঠেন প্রক্রিস। এর পরের বার সিফালাস শিকারে গেলে তিনি গোপনে তার পিছু নেন।

এদিকে শিকারে ক্লান্ত হয়ে এক জায়গায় বসে সিফালাস ডাকছিলেন এস অরা আমার কাছে।  তিনি বাতাস চাচ্ছিলেন। অন্য কাহিনিতে আছে তিনি শিকারের সময় চাঁদের উপর যেন মেঘের ছায়া পড়ে সেজন্য বলছিলেন এসো নেফেলি এসো। গোপন প্রেমিকাকে ডাকছেন মনে করে প্রক্রিস ক্রুদ্ধ হয়ে ঝোপের পিছন থেকে এগিয়ে আসতে থাকেন। এদিকে শিকার আসছে মনে করে বর্শা ছুঁড়ে মারেন সিফালাস। বর্শা অব্যর্থভাবে আঘাত করে প্রক্রিসের বুকে। মাটিতে লুটিয়ে পড়েন প্রক্রিস। সিফালাস ছুটে আসেন। তার কোলে মাথা রেখেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন প্রক্রিস।

এরপর দু’রকম পরিসমাপ্তি পাওয়া যায়। একটি কাহিনিতে আছে শোক বিহ্বল সিফালাস পাহাড় থেকে সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেন। অন্য কাহিনিতে আছে সিফালাস পরবর্তীতে রাজা মাইনসের এক কন্যাকে বিয়ে করেন এবং তাদের একটি ছেলে হয়।

সিফালাস কখনই প্রক্রিসের মৃত্যুশোক ভুলতে পারেননি। তিনি তার মৃত্যুর জন্য নিজেকে দোষী মনে করতে থাকেন এবং পরবর্তীতে পাহাড় থেকে সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেন। সিফালাস ও প্রক্রিসের কাহিনি গ্রিক ও রোমান পুরাণের উল্লেখযোগ্য প্রেমকাহিনি। সন্দেহ কিভাবে সুখি প্রেমকে ধ্বংস করে দেয় এটা তারও একটা দৃষ্টান্তমূলক গল্প।