ঢাকা, শুক্রবার ২৮, ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১৭:২৯:২৯ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
এবার করোনায় আক্রান্ত ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবার পাকিস্তানে করোনাভাইরাসের হানা খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজ মশা যেন ভোট খেয়ে না ফেলে, মেয়রদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী করোনা আতঙ্কে সৌদি ভ্রমণ ভিসা স্থগিত

প্রথম বিশ্বকাপ এনে দিলো প্রিয় প্রজন্ম দল

ফজলুল বারী | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১১:৫৯ এএম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০ সোমবার

দক্ষিণ  আফ্রিকার পচেফস্ট্রুমে হচ্ছিল অনুর্ধ ১৯ বিশ্বকাপের ফাইনাল। প্রতিপক্ষ ভারতের বিরুদ্ধে  ক্রিকেট যুদ্ধ। যে দলটার মুখোমুখি দাঁড়ালে কেন জানি বরাবর স্নায়ুর লড়াইয়ে হেরে যেত বাংলাদেশ। ঠিক তেমন একটি স্নায়ুর লড়াই আবার সবাই দেখলো রবিবার। কিন্তু এবার হার মানেনি বাংলাদেশ। কাপ্তান আকবর সম্রাট আকবরের মতোই সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে দলকে প্রথমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেছেন। অনুর্ধ উনিশ বিশ্বকাপের বাংলাদেশ নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। রবিবার শেষ মূহুর্তে বৃষ্টি বাগড়া দিয়েছিল। কিন্তু সেই বৃষ্টি ঠেকিয়ে রাখতে পারেনি বাংলাদেশকে। এর আগেই বাংলাদেশ বিজয়ের ভিত্তি তৈরি করে রাখে। টস জিতে বল হাতে নিয়ে  চ্যাম্পিয়ন ভারতীয় দলকে ১৭৭ রানে বেঁধে ফেলে। কিন্তু স্নায়ুর লড়াইয়ে বৃষ্টির আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ ৭ উইকেটে ১৬৩ রান করে। জয়ের বাকি কাজটা বৃষ্টির পর সেরে নেন আকবর-রাকিব। খেলায় ৩ উইকেটে বিজয় পর্যন্ত রাকিব ৯ এবং  ৪৩ রানে অপরাজিত ছিলেন সম্রাট আকবর ।

বাংলাদেশ-ভারত ক্রিকেট যুদ্ধে স্নায়ুর লড়াইয়ে হেরে যাবার তেমন একটি খেলা এর আগে দেখেছি ভারতের বাঙ্গালোরের চেন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে বসে দেখেছি গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। আমরা তখন বিজয় উৎসবের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু মুশফিকদের ভুলে সেই ম্যাচটাই হেরে গিয়ে বিজয় উৎসবের বদলে সবাই কাঁদতে থাকি। তবে  পচেফস্ট্রুমের খেলাটির শুরু-শেষ অন্যভাবে হয়েছে। চলতি চ্যাম্পিয়ন দলটি যারা কিনা এই টূর্নামেন্টে একবারও হারেনি যুবাদের ভারতীয় দলটি জানলো বুঝলো এই দলটি ভিন্ন এক বাংলাদেশ। যারা কিনা দু’বছর ধরে একসঙ্গে থেকে খেলে বারবার শুধু জিততেও শিখেছে। এরজন্যে ভারতীয় যুবা দলটিকে ১৭৭ রানে গুটিয়ে দেয় যুবাদের বাংলাদেশ দল। যুবা টাইগার্স।  ভারতীয় বিষ্ণুর বোলিং খাড়ায় টপ অর্ডারের চার ব্যাটসম্যান হারালেও দলকে হারতে দেননি সম্রাট আকবর। বাংলাদেশের নতুন মাশরাফি বিন মর্তুজা।

এর আগে সেমি ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে বাংলাদেশি জুনিয়র দলটির খেলাটি মন ভরে দেখেছি। ফাইনাল খেলা শুরুর সময়টা ছিল সিডনির সন্ধ্যা। ওদিকে আবার রাওয়ালপিন্ডিতে খেলছে বাংলাদেশের সিনিয়র দল। উনাদের খেলা শেখানোর কাজ করছিল পাপনের পাকিস্তান। হাতে অনেক কাজ। কিন্তু দেশটার জন্যে আমাদের সবার ভালোবাসা যে সবার আগে। এটি দেশে বিদেশে সবখানে। পচেফস্ট্রুমের মাঠে যে বাংলাদেশিদের টেলিভিশনে দেখেছেন তারাই কিন্তু বিদেশে বাংলাদেশের আসল দূত। এরা কাজ করে পরিজনের মুখে হাসি ফোটাতে বিদেশে গেছেন। বেশিরভাগই সপ্তাহের সাতদিন কাজ করেন। রবিবার যাদের ছুটি তাদের সেদিন সারা সপ্তাহের জমানো কাজ, বাজার-রান্না করা, ঘর পরিষ্কার করা এমন নানান কাজ করতে হয়। কিন্তু পচেফস্ট্রুম এবং আশেপাশের বাংলাদেশিদের এই ম্যাচটা নিয়ে প্রস্তুতি ছিল অনেক দিনের। জার্সি-পতাকা কেনা বা বাংলাদেশ থেকে আনাতে হয়েছে। খেয়াল করে হয়তো দেখেছেন জার্সিগুলো পুরনো, রবির বিজ্ঞাপনযুক্ত। জার্সি নতুন না পুরান তা দিয়ে বিদেশে বাংলাদেশিদের ভালোবাসা মাপা যাবেনা। বিদেশে গেলেই দেশটাকে বেশি ভালোবাসা-ফিল করা যায়।

বিদেশের মাটিতে প্রবাসীদের খেলা দেখার আবেগ-আনন্দ-কান্না দেশে বুঝে ধারনা করা কঠিন। সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপের সময় নিউজিল্যান্ডের নেলসনে বাংলাদেশ-স্কটল্যান্ড ম্যাচটার  অভিজ্ঞতাটা বলি। নেলসনে অনেক স্কটিস অরিজিন লোকজন থাকায় সেখানে ম্যাচটির আয়োজন করা হয়। কিন্তু কোন বাংলাদেশি ছিলেননা নেলসনে। অথবা তাদের কেউ মাঠে আসেননি। সেখানে বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে যারা মাঠে গিয়েছিলেন তারা মূলত ক্রাইস্টচার্চ থেকে আসা বাংলাদেশি। এর আগে ক্রাইস্টচার্চেও তেমন বাংলাদেশি ছিলেননা। ভূমিকম্পে বিধবস্ত শহর পুনর্নিমানের কাজ পায় সিঙ্গাপুরের একটা কোম্পানি। তারাই তাদের বাংলাদেশি শ্রমিকদের ক্রাইস্টচার্চে নিয়ে যান। সেদিন মাঠে যে ৩০-৪০ জন বাংলাদেশি ছিলেন তারাই তিরিশ-চল্লিশ হাজার হয়ে বাংলাদেশ বাংলাদেশ বলে গলা ফাটিয়েছেন।

সেদিনের খেলায় বাংলাদেশ জিতেছিল। হার নিশ্চিত বুঝতে পেরে আগেভাগেই মাঠ ছাড়তে শুরু করে স্কটিশ নিউজিল্যান্ডানরা। তাদের গ্যালারি জুড়ে শুধু হাহাকার করতে করে শুধু খালি বিয়ারের বোতল। আর স্ক্রাইস্টচার্চ থেকে আসা বাংলাদেশিরা বিজয় উৎসবের পাশাপাশি পরষ্পরের সঙ্গে হিসাব মেলাচ্ছিল কাকে কতবার টিভিতে দেখিয়েছে। অল্পস্বল্প বাংলাদেশি থাকায় বাংলাদেশের প্রতিটি উইকেট বা চারের মারের সময় টিভি ক্যামেরা খুঁজে খুঁজে তাদেরকেই বারবার দেখাচ্ছিল। বিদেশে বাংলাদেশিদের এমন জয়ের আনন্দ পাবার অভিজ্ঞতা খুব কম হয়। যে সৌভাগ্য হয় সেটি মনে থাকে বাকি জীবন। তেমনি রবিবারের খেলাটি পচেফস্ট্রুমের স্টেডিয়ামে থাকা বাংলাদেশিরা কোনদিন ভুলবেননা। রবিবারের বিজয় উৎসর্গ করলাম তাদেরকেই। অভিনন্দন বাংলাদেশ। জয় বাংলা। মুজিববর্ষে যুবাদের পক্ষে এটি দেশবাসীকে শ্রেষ্ঠ উপহার।