ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৭, জানুয়ারি ২০১৯ ২৩:৩৩:০৭ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
শিরোনাম
সন্ত্রাস-মাদক-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে `জিরো টলারেন্স` : প্রধানমন্ত্রী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে অফিস করছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর নামে ফেসবুক খুলে প্রতারণা, গ্রেফতার ৫ পরীক্ষায় নকল রোধে আসছে আধুনিক প্রযুক্তি অনাস্থা ভোটে টিকে গেলেন থেরেসা মে বঙ্গমাতা আন্তর্জাতিক নারী ফুটবলের স্পন্সর ‘কে-স্পোর্টস’ জাতিসংঘের এক-তৃতীয়াংশ নারীকর্মী যৌন হয়রানির শিকার মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর সংরক্ষিত আসনে ত্যাগী-রাজপথে সক্রিয়দের প্রাধান্য : কাদের জমতে শুরু করেছে বাণিজ্যমেলা, ছাড়ের ছড়াছড়ি

বিশ্বে প্রথমবার মৃতের ডিম্বাশয়ে জন্ম নিল সন্তান

স্বাস্থ্য ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০১:৪২ পিএম, ৫ ডিসেম্বর ২০১৮ বুধবার

ছবি রয়টার্সের সৌজন্যে।

ছবি রয়টার্সের সৌজন্যে।

মৃত নারীর দেহ থেকে গর্ভাশয় নিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল এক ব্রাজিলীয় নারীর শরীরে। প্রতিস্থাপিত গর্ভাশয়ে ভ্রূণকে লালন করে সেই নারী জন্ম দিলেন এক ফুটফুটে কন্যা সন্তানের। 


তিনিই হলেন বিশ্বের প্রথম যিনি মৃতার গর্ভাশয় নিজের শরীরে প্রতিস্থাপন করিয়ে, তা থেকে জন্ম দিলেন সন্তানের।
ল্যানসেট মেডিকেল জার্নালে এই প্রতিস্থাপনের বিস্তারিত খবর সম্প্রতি প্রকাশ করা হয়েছে।

 

ইউনিভার্সিটি অফ সাও পাওলোর গবেষকদলের প্রধান দাবি এজেনবার্গ জানিয়েছেন, অঙ্গ দাতা মৃত ব্যক্তি হলে গোটা প্রক্রিয়ার ঝুঁকি অনেকটা কম হয়। পাশাপাশি গোটা প্রক্রিয়ার খরচ অনেকটা কমে যায়। কারণ, দাতা মৃত হওয়ায়, তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা, তার দীর্ঘ অপারেশন করার ঝক্কি থাকে না। জীবিত দাতার ক্ষেত্রে কাজটা আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ায়।


চিকিত্সকরা জানান, ৩৫ সপ্তাহ ৩ দিন গর্ভধারণের পর সিজারের মাধ্যমে ওই কন্যা সন্তানের জন্ম দেওয়া হয়েছে। জন্মের সময় বাচ্চাটির ওজন ছিল ২ কিলোগ্রাম ৫৫০ গ্রাম।

 

কী ভাবে গোটা প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হয়েছে তার বিস্তারিত বিবরণ ল্যানসেট জার্নালে লেখা হয়েছে। মস্তিষ্কের রক্তবাহ ফেটে মৃত্যু হয়েছিল ৪৫ বছর বয়সী এক নারীর। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রায় সাড়ে দশ ঘণ্টার অপারেশনের মধ্যে দিয়ে ওই নারীর দেহ থেকে গর্ভাশয় বের করা হয়েছিল। তার গর্ভাশয়ের ওজন ছিল ২২৫ গ্রাম। দাতা ওই নারী ইতিপূর্বেই তিনটি সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন। যে ব্রাজিলীয় নারীর দেহে ওই গর্ভাশয়টি প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল তার বয়স ছিল ৩২ বছর। জন্ম থেকেই তার দেহে গর্ভাশয় ছিল না। দেহের এই কমতিকে চিকিত্সার ভাষায় বলা হয় ‘মেয়ার রকিটান্সকি কাস্টার হাউজার সিনড্রোম’।


গর্ভাশয় প্রতিস্থাপনের প্রায় পাঁচ মাস পর গ্রহীতা নারীর শরীরে অঙ্গ প্রত্যাখ্যান জনিত কোনও সমস্যা দেখা যায়নি। আলট্রা সাউন্ড স্ক্যানের রিপোর্টও ছিল স্বাভাবিক। এমনকি তার নিয়মিত ঋতুস্রাবও হচ্ছিল। এই লক্ষণগুলি দেখে চিকিত্সকরা কিছুটা হলেও নিশ্চিন্ত হয়েছিলেন।

 

তবে ওই ব্রাজিলীয় নারীর গর্ভাশয় না থাকলেও ডিম্বাশয় ছিল। তাই তার ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বানু সংগ্রহ করে ‘আইভিএফ’ বা ‘ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন’ পদ্ধতিতে প্রতিস্থাপিত গর্ভাশয়ে রোপন করা হয়েছিল ভ্রূণ। গর্ভাশয় প্রতিস্থাপনের সাত মাস দশ দিন পর এই ভ্রূণ রোপনের কাজটি হয়েছিল।


এর আগে মৃত নারীর গর্ভাশয় প্রতিস্থাপন করে সন্তান জন্ম দেওয়ার চেষ্টা করেছেন আমেরিকা, চেক প্রজাতন্ত্র ও তুরস্কের চিকিত্সক-গবেষকরা। কিন্তু তারা সে কাজে সাফল্য পাননি। অবশেষে ব্রাজিলের সাও পাওলোর চিকিত্সকদের হাতে ধরা দিল সাফল্য।


এর আগে প্রতিস্থাপিত গর্ভাশয় থেকে সন্তানের জন্ম হয়নি, তা নয়। কিন্তু সেই প্রতিস্থাপিত গর্ভাশয়ের দাতারা ছিলেন জীবিত।জীবিত নারীর গর্ভাশয় প্রতিস্থাপন করে প্রথম সন্তানের জন্ম হয়েছিল সুইডেনে, ২০১৩ সালে। তখন থেকে মোট ৩৯ বার এই পদ্ধতিতে সন্তানের জন্ম দেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছেন পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের চিকিত্সক-বিজ্ঞানীরা। কিন্তু সাফল্য পেয়েছেন মাত্র ১১ বার। সেদিক থেকে দেখলে, মৃত মহিলার গর্ভাশয় থেকে সন্তানের জন্ম দেওয়া আধুনিক চিকিত্সা বিদ্যার এক অভূতপূর্ব সাফল্য।