ঢাকা, শনিবার ১৪, ডিসেম্বর ২০১৯ ২:২৯:০৩ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
আজ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস খালেদার জামিন নাকচ নিয়ে বিতর্কের সুযোগ নেই: আইনমন্ত্রী এনআরসি রুখতে আন্দোলনের ডাক দিলেন মমতা গুগল সার্চের শীর্ষ দশে দীপু মনি রোহিঙ্গা গণহত্যা ইস্যুতে শুনানি শেষ; শিগগিরি রায়

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় বানরের মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৩:৩২ পিএম, ২১ নভেম্বর ২০১৯ বৃহস্পতিবার

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় একটি বানরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে এলাকাবাসী। বানরটির কামড়ে গত ১ মাসে ৩৫ শিশু আহত এবং এক শিশুর মৃত্যু হওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে এলাকাবাসী এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে কাঁঠালতলী বাজার সংলগ্ন স্থানে শতশত জনতার উপস্থিতি এবং সিদ্ধান্তে বানরটির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। পরে বানরটিকে মাটি নিচে পুঁতে ফেলা হয়।

দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এনাম উদ্দিন জানান, ১৫ জন শিশু এই বানরের কামড়ে গুরুতর আহত হয়ে ওসামানী হাসপাতালে ভর্তি আছে এবং এক শিশু মারা গেছে। একই দাবি স্থানীয় ইউপি সদস্য আলতাফ হোসেনের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোনো ব্যক্তির পালিত বা দলছুট একটি বানর গত ১ মাস ধরে বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়নে কাঁঠালতলী, রুকনপুর, বড়খলা, দক্ষিণ মুছেগুল, উত্তরভাগসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে তাণ্ডব চালায়। বানরটি সেলিম আহমদ (৮), মারুফ আহমদ (১০), বিউটি বেগম (১১) ছাড়াও প্রায় ৩০ জনকে আঁচড়ে-কামড়ে আহত করেছে। আহতদের বেশিরভাগের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।

স্থানীয়রা জানান, বানরের আতঙ্ক এতটাই ছড়িয়েছিল যে গত বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) বড়লেখা উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। গত সপ্তাহে বন ও পরিবেশমন্ত্রী এলাকায় আসলে তাকেও জানানো হয়। মন্ত্রী বনবিভাগকে বিষয়টি দেখতে নির্দেশ দেন। মন্ত্রীর নির্দেশের পর মৌলভীবাজার ওয়াইল্ড লাইফ বিভাগ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যায় এবং তাদের কাছে বানর ধরার যন্ত্র নেই জানিয়ে ঢাকা থেকে ক্রাইম কন্ট্রোল টিম আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেন। এর আগে বড়লেখা রেঞ্জের সহযোগী কর্মকর্তা শেখর রঞ্জন দাস স্থানীয়ভাবে খবর পেয়ে এলাকা পরিদর্শন করে মৌলভীবাজার জেলা কর্মকর্তাদের জানান।

মৌলভীবাজার ওয়াইল্ড লাইফ বিভাগ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আসার পর এলাকাবাসী ঢাকার ওয়াইল্ড লাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ইউনিটের অপেক্ষা করতে থাকেন। প্রতিদিনই ইউপি চেয়ারম্যান এক বা একাধিক বার বন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও দেখা মিলেনি। এর মধ্যে মঙ্গলবার সকালে আরও একটি শিশুকে বানরটি কামড়ে আহত করে। এরপর উত্তেজিত গ্রামবাসী বানরটিকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়। ভাতের সঙ্গে অতিমাত্রায় ঘুমের ওষুধ খাইয়ে বিকেল ৩টার দিকে একটি ধানক্ষেত থেকে বানরটিকে আটক করা হয়। পরে কাঁঠালতলী বাজার সংলগ্ন স্থানে শতশত জনতার উপস্থিতি এবং সিদ্ধান্তে বানরটির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। পরে বানরটিকে মাটি নিচে পুঁতে ফেলা হয়।

বড়লেখার অতিরিক্ত দ্বায়িত্বে থাকা জুড়ি রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা এনামুল হক বানরটিকে মেরে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন বলে একটি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে। এ বিষয়ে রেঞ্জ কর্মকর্তা বলেন, আমি কাউকে বক্তব্য দেইনি। আমি বনের দায়িত্বে, ওয়াইল্ড লাইফের ঘটনায় আমি মন্তব্য বা সিদ্ধান্ত দেয়ার কে? আমি বন বিভাগের লোক হয়ে বন্যপ্রাণী হত্যার নির্দেশ দেব সেটা কারও কাছেই বিশ্বাসযোগ্য হবে না।

এ দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরে টিম পাঠানোর কথা বলেও কেন আর এলাকায় জাননি- এমন প্রশ্নে জবাবে ওয়াইল্ড লাইফ মৌলভীবাজারের রেঞ্জ কর্মকর্তা জৌলহাস উদ্দিন বলেন, আমরা যে দিন পরিদর্শনে যাই সে দিন বানরটিকে অনেক খুঁজেও পাইনি এবং আমাদের কাছে সেই ধরণের সরঞ্জামও নেই। তাই আমরা ঢাকার ক্রাইম কন্ট্রোল টিমকে খবর দেই। টিম আসবে আসবে করছিল এরই মধ্যে বানরটিকে হত্যা করা হয়েছে এমন খবর পেয়েছি।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী ক্রাইম কন্ট্রোলের পরিচালক এস এম জহির আকন বলেন, আমরা খবর পেয়েছিলাম কিন্তু এরই মধ্যে বান্দরবানে একটি হাতি মারা যাওয়ায় আমাদের টিম সেদিকে চলে যায়। সেখান থেকে আসার পর যখন বড়লেখায় পাঠাব এরই মধ্যে খবর পেয়েছি বানরটিকে মেরে ফেলা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের টিমে মাত্র তিনজন ইন্সপেক্টর আছেন তার মধ্যে একজন ট্রেনিংয়ের জন্য বিদেশে আছেন। মাত্র দুইজন দিয়ে আমাদের সারাদেশের কাজ করতে হচ্ছে।

-জেডসি