ঢাকা, রবিবার ১৫, ডিসেম্বর ২০১৯ ০:৩৩:৪৩ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
জিয়া ছিলেন মোস্তাকের সবচেয়ে বিশ্বস্ত : প্রধানমন্ত্রী তাইওয়ানে আগুনে ৭ জনের মৃত্যু, আহত ২ আজ নয়, ১৬ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার সাথে স্বজনদের সাক্ষাৎ স্টামফোর্ড শিক্ষার্থী রুম্পাকে ধর্ষণের আলামত মেলেনি বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

যে কথা আজো জানা হলো না: সিকদার নাজমুল হক

সিকদার নাজমুল হক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৪:৪০ পিএম, ৬ আগস্ট ২০১৯ মঙ্গলবার

বাংলাদেশের পতাকা হাতে সিকদার নাজমুল হক

বাংলাদেশের পতাকা হাতে সিকদার নাজমুল হক

প্রতিবছর ৬ আগষ্ট এলেই মনটা ভারী হয়ে ওঠে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এদিন জাপানের হিরোশিমায় আণবিক বোমা নিক্ষেপ করেছিল আমেরিকা।

আমি যখন জাপানে অধ্যয়ন করতাম, তখন তোহোকু বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদেশী ছাত্রদের প্রতিনিধি হয়ে এমনি একটি দিনে আণবিক বোমা বিস্ফোরণের স্মৃতি বিজড়িত হিরোশিমা ‘শান্তি পার্ক’ এ সমবেত হয়েছিলাম। বোমাবিধ্বস্ত আণবিক বোমা গম্বুজ, জাদুঘরে রক্ষিত ক্ষতবিক্ষত নানান উপকরণ সেদিনের নির্মমতাকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

ঠিক ৮.১৫ তে কাঁটা থেমে গেছে এমন একটি ঘড়ি রয়েছে জাদুঘরে, মনে করিয়ে দেয় সকাল সোয়া আটটায় বোমা নিক্ষিপ্ত হয়েছিল হিরোশিমায়। জাপানী নারীদের গায়ে লেপ্টে আছে উত্তাপে গলে যাওয়া কিমোনো, প্রচণ্ড তাপে আস্তরণ উঠে যাওয়া টেবিল, গেরস্থালী আসবাব- জাদুঘরে রাখা এমনি আরো নানান জিনিস সেদিনের নিষ্ঠুরতার সাক্ষ্য বহন করছে।

প্রতি বছরের মতো সেদিনও সকাল সোয়া আটটায় হিরোশিমা শান্তি পার্কে শান্তির ঘণ্টা বেজে উঠেছিল। হস্তযুগল একত্রিত করে মৌন প্রার্থণায় দাঁড়িয়ে ছিল শান্তিকামী মানুষ। তখন অদ্ভূত এক নীরবতা নেমে এসেছিল চারপাশে।

সেদিন এক হাজারটি কাগজের পাখি দিয়ে মালা গেঁথেছিল শিশুরা, আণবিক বোমায় নিহতদের স্মরণে। বৌদ্ধভিক্ষুগণ মগ্ন হয়েছিলেন সমবেত প্রার্থণায়। পথের পাশে দাঁড়িয়ে শান্তির আহবানে কবিতা পাঠ করছিলেন এক জাপানী কবি। জাপানের উত্তরের দ্বীপ হক্কাইদো থেকে একমাস ধরে সাইকেল চালিয়ে দক্ষিণের শহর হিরোশিমায় এসেছেন যে যুবক, তিনি দীর্ঘ পথভ্রমণের ক্লান্তিকে উৎসর্গ করেছেন নিহতদের উদ্দেশে।

শান্তি পার্কের একপাশে বিদেশীদের নিয়ে নিজ নিজ দেশের জন্য শান্তি প্রার্থণার অনুষ্ঠান শুরু হল। নানান দেশের পতাকা সাজানো রয়েছে সেখানে, বাংলাদেশেরও। আমার ডাক পড়লো। স্বদেশের পতাকা হাতে উচ্চারণ করলাম, ‘বাঙ্গুরাদেশু নি হেইওয়া নি নারু ইউনি’, অর্থাৎ বাংলাদেশে যেন শান্তি বিরাজ করে। আমার কণ্ঠে কণ্ঠ মেলালেন সমবেত সবাই।

হিরোশিমা শান্তি পার্কে প্রতিবছর ৬ আগষ্ট এমনিভাবেই শান্তির জন্য প্রার্থণা হয়। অনাদিকাল ধরে চলবে এ প্রার্থণা। কিন্তু, শান্তি কবে ফিরে আসবে পৃথিবীতে, আমার তা আজো জানা হলো না। হয়তো জানবো না কোনোদিন।

# ছড়ালেখক সিকদার নাজমুল হক, প্রবাসী চিকিৎসক।
৬ আগষ্ট ২০১৯, সৌদি আরব।