ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৪, সেপ্টেম্বর ২০২০ ৬:৩৩:৫১ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
ভারত থেকে পেঁয়াজ আসছে না, অস্থিরতা বাড়ছে বাজারে করোনায় প্রাণ গেল আরও ৩৭ জনের দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়ে গেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংকট মোকাবিলায় বৈশ্বিক কর্মপরিকল্পনার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বিশ্বে করোনায় মৃত্যু ৯ লাখ ৭৫ হাজার ছাড়াল

শুক্র গ্রহে মিলেছে প্রাণের সন্ধান

ডেস্ক রিপোর্ট | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০২:৩৭ পিএম, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ মঙ্গলবার

ছবি: ইন্টারনেট

ছবি: ইন্টারনেট

বিশাল এই মহাবিশ্বে মানুষের আবিষ্কারের পরিধি দিয়ে বিচার করলে সৌরজগতে কেবল পৃথিবী ছাড়া মহাবিশ্বের আর কোথাও প্রাণ রয়েছে কি না, তা নিয়ে বছরের পর বছর গবেষণা চললেও কোনো সাফল্য মেলেনি। তবে সম্প্রতি আশা জাগানিয়া তথ্য এসেছে শুক্র নিয়ে; যে গ্রহটি শুকতারা ও সন্ধ্যাতারা নামে পৃথিবীর আকাশে সবচেয়ে স্পষ্টভাবে উদিত হয়, যার নাম পৃথিবীর মানুষ দিয়েছে গ্রিক পুরানের প্রেমের দেবী ভেনাসকে স্মরণ করে। শুক্র গ্রহের বিষাক্ত পরিবেশেই এবার প্রাণের লক্ষণ আবিষ্কার করেছেন পৃথিবীর জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।

পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের এই গ্রহটির মেঘে ফসফিন গ্যাস দেখতে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা, যা প্রাণের অস্তিত্বের বিষয়ে আশাবাদী করে তুলেছে তাদের। সেখানে প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে এমন সুস্পষ্ট প্রমান যদিও এখনও মেলেনি, তবে পৃথিবীতে ফসফিন গ্যাস উৎপাদনে ব্যাকটেরিয়ার ভূমিকা থাকার কারণে, শুক্র গ্রহেও তেমন কোনো অনুজীব থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা।

গত সোমবার এই আবিষ্কার নিয়ে নেচার অ্যাস্ট্রনমি সাময়িকীতে প্রকাশিত প্রবন্ধের মূল লেখক যুক্তরাজ্যের কার্ডিফ ইউনিভার্সিটির গবেষক জ্যোতির্বিজ্ঞানী গেন গ্রেভস বলছেন, এটা একেবারে অপ্রত্যাশিত, স্তম্ভিত করে দেয়ার মতোও বটে।

নাসার প্রশাসক জিম ব্রিডেনস্টাইন টুইটারে এই আবিষ্কারের বিষয়ে বলেছেন, ভেনাসকে অগ্রাধিকার দেয়ার সময় এসেছে।

ফসফিন হল ফসফরাস ও হাইড্রোজেন মিলে গঠিত একটি রাসায়নিক যৌগ। পৃথিবীতে কিছু ব্যাকটেরিয়া প্রাকৃতিকভাবে ফসফরাসের সঙ্গে হাইড্রোজেনের মিলন ঘটিয়ে এই গ্যাস তৈরি করে। কিছু গবেষক অবশ্য এই অনুমানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বলেছেন যে, কোনও গ্রহের অজানা বায়ূমন্ডলীয় বা ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার রহস্যজনক অবস্থা থেকে গ্যাসটি আসতে পারে। তবে পৃথিবীতে রসায়নাগারে কিংবা কারখানায় ফসফিন তৈরি করা সম্ভব হলেও, শুক্রে তো কোনো কারখানা নেই। তাহলে শুক্রের ভূ-পৃষ্ঠের ৫০ কিলোমিটার উপরে মেঘরাশির মধ্যে এই ফসফিন কেমন করে এল? গ্রেভসের সহ গবেষক হাভার্ড বিশ্ববিদ্যারয়ের মলিকুলার এস্ট্র ফিজিসিস্ট কøারা সওসা-সিলভা এর জবাবে বলেছেন, শুক্রে না গিয়ে তা আমাদের জানা সম্ভব নয়।

শুক্র গ্রহ পৃথিবীর চেয়ে সূর্যের অনেক কাছে বলে এর তাপমাত্রা অনেক বেশি। এর পৃষ্ঠে ৪শ’ ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো তাপমাত্রায় কোনো জীবের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা দেখেন না বিজ্ঞানীরা। তবে শুক্রের পৃষ্ঠ ছাড়িয়ে অনেক উপরে যেখানে কিনা তাপমাত্রা পৃথিবীর মতোই ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাই সেখানে ফসফিন গ্যাসের এই আবরণের পেছনে কোনো অনুজীবের অবদান উড়িয়ে দিয়ে পারছেন না তারা। যে কোনও ধাতুকে দ্রবীভূত করার পক্ষে যথেষ্ট গরম এবং অ্যাসিডে পূর্ণ মেঘের সাথে শুক্রের বায়ূমন্ডলে বেঁচে থাকতে যেকোনও জীবাণুুর চরম সহ্য ক্ষমতা থাকতে হবে এবং সম্ভবত পৃথিবীর সবচেয়ে চরম পরিবেশের অণুজীবগুলির মতোই শুক্রের চরম অম্লজাত পরিবেশে বেঁচে থাকার জন্য এ জাতীয় জীবের প্রতিরক্ষামূলক বাহ্যিক স্তর রয়েছে।

সিলভা বলেন, শুক্র এখন হয়ত বাসযোগ্য নয়, তবে অনেক অনেক কাল আগে হয়ত এর পৃষ্ঠে প্রাণের অস্তিত্ব ছিল। হয়ত গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়া এই গ্রহকে এখন অবাসযোগ্য করে তুলেছে। এই জীবাণুগুলি কীভাবে সেখানে পেল, তার সম্পর্কে সর্বোত্তম অনুমান হিসেবে সিলভা বলেছেন যে, ৭শ’ মিলিয়ন বছর আগে শুক্রে সমুদ্র ছিল। তবে গ্রহটি শুকিয়ে যাওয়ার তা মেঘে পরিণত হয়। এবং কেউ জানে না যে জীবাণুগুলি, সত্যিই আমাদের মতো ডিএনএ দিয়ে তৈরি, বা সম্পূর্ণ আলাদা কিছু। সূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইম্স

-জেডসি