ঢাকা, সোমবার ১৮, নভেম্বর ২০১৯ ০:১৭:২০ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
বাংলাদেশীদের জন্য আমিরাতের শ্রমবাজার খুলে দেয়ার ইঙ্গিত সরকারি ব্যয়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে: স্পিকার প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিলো বিএনপি প্রাথমিক-ইবতেদায়ি পরীক্ষা শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রামে বিস্ফোরণের ঘটনায় ৫ সদস্যের কমিটি গঠন

সুযোগ হয়েছে ঢাবিতে পড়ার, টাকার অভাবে ভর্তি অনিশ্চিত

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৩:৫০ এএম, ১৯ অক্টোবর ২০১৯ শনিবার

অটোরিকশা চালক বাবার সঙ্গে মেধাবী ছাত্রী সুমাইয়া আক্তার। ছবি : সংগৃহীত

অটোরিকশা চালক বাবার সঙ্গে মেধাবী ছাত্রী সুমাইয়া আক্তার। ছবি : সংগৃহীত

ভর্তি পরীক্ষায় মেধাতালিকায় জায়গা হলেও অর্থের অভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ভর্তি হতে পারছেন না বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার পৌর এলাকার মেধাবী ছাত্রী সুমাইয়া আক্তার। ঢাবির ‘খ’ ইউনিটের মেধা তালিকায় ২২০১ নম্বরে এসেছে সুমাইয়া আক্তারের নাম। তবে মেধা তালিকায় স্থান পেলেও তার ভর্তিতে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

সুমাইয়া সান্তাহার পৌর শহরের ঘোড়াঘাট মহল্লার আব্দুল আলিমের মেয়ে। আব্দুল আলিম পেশায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক। শারীরিক কিছুটা অসুস্থ আলিমকে সংসারে ঘানি টানতে বাধ্য হয়েই অটোরিকশা চালাতে হয়। সংসারের খরচ মিটিয়ে তিনি মেয়েকে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে ভর্তির জন্য টাকা জোগাড় করতে পারেননি।

সুমাইয়া আক্তারের বাবা আব্দুল আলিম বলেন, ‘সম্পদ বলতে বাড়িটা ছাড়া আমার আর কিছু নেই। সংসার জীবনে আমার এক ছেলে ও এক মেয়ে। দুজনেই মেধাবী। অর্থের অভাবে ছেলেকে ভালো জায়গায় পড়াশোনা করাতে পারিনি। বর্তমানে ছেলেটি একটি বেসরকারি এনজিওতে স্বল্প বেতনে মাঠকর্মী হিসেবে চাকরি করে। দুজনের আয়ে কোনো মতে সংসারটা চলে।’

দারিদ্রকে জয় করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়া সুমাইয়া আক্তার বলেন, ‘ঢাবিতে ভর্তিও সুযোগ পেয়েও বাবার পক্ষে ভর্তির এতগুলো টাকা জোগাড় করা সম্ভব নয়। বাবা, ভাই ও শিক্ষকরা মিলে যেটুকু অর্থ দিয়েছিল, তা তো ভর্তি পরীক্ষার ফরম আর ঢাকা যাওয়া-আসার খরচ মেটাতেই শেষ। খুশি হয়েছিলাম চান্স পেয়ে। কিন্তু ভর্তি বা টাকার চিন্তায় সব কিছু এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়ার স্বপ্ন মনে হয় আমার পূরণ হবে না।’

তিনি বলেন, ‘কখনো গৃহশিক্ষকের কাছে পড়তে পারিনি। নিজের চেষ্টায় আমি এতদূর এসেছি। এ পর্যন্ত কোনো ক্লাসের সব বই একসঙ্গে কিনতে পারিনি। কলেজের শিক্ষক অমিত কুমার ও প্রতিবেশী আরেক শিক্ষক মোছাদ্দেক হোসেন অর্থ ছাড়াই পড়িয়ে সহযোগিতা করতেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘২০১৭ সালে এসএসসিতে জিপিএ ৪.৭৩ এবং ২০১৯ সালে সান্তাহার সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়েছি। ঢাবিতে লেখাপড়া করে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ায় আমার এখন সবচেয়ে বড় স্বপ্ন।’

সান্তাহার সরকারি কলেজের ভুগোল ও পরিবেশ বিভাগের প্রভাষক অমিত কুমার পাল বলেন, ‘সুমাইয়া অসম্ভব মেধাবী। আমরা যতটুকু পেরেছি তাকে সাহায্য সহযোগিতা করেছি। তার লেখাপড়ায় প্রচুর আগ্রহ। কলেজে তার উপস্থিতিও ভালো ছিল।’

এ বিষয়ে আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ্ বিন রশিদ বলেন, ‘মেয়েটির বাবার সঙ্গে কথা হয়েছে। ভর্তির সময় তাকে সহযোগিতা করা হবে।’