ঢাকা, শনিবার ২৫, জানুয়ারি ২০২০ ১৩:১৫:৩৩ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
বিশ্বের দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় ঢাকা ৪র্থ মঙ্গলবার থেকে হতে পারে বৃষ্টি, বাড়বে শীতের প্রকোপ দেশজুড়ে চলছে স্টুডেন্টস কেবিনেট নির্বাচন তুরস্কে ৬ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ১৮ চীনে ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪১

সৌদিতে নারীকর্মী নির্যাতনের প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ

অনলাইন ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৩:২৩ পিএম, ১২ নভেম্বর ২০১৯ মঙ্গলবার

সৌদিতে নারীকর্মী নির্যাতনের প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল।

সৌদিতে নারীকর্মী নির্যাতনের প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল।

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে নারী গৃহকর্মী ও শ্রমিক নির্যাতনের প্রতিবাদে ‘প্রবাসী নারী শ্রমিকের পাশে বাংলাদেশ’ শীষর্ক ব্যানারে  বিক্ষোভ মিছিল করেছে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক সংগঠনসমূহ ও অ্যাক্টিভিস্টদের উদ্যোগে গঠিত উদ্বিগ্ন নাগরিকবৃন্দের একটি প্ল্যাটফরম।

আজ মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রতিবাদ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এই বিক্ষোভ মিছিল। মিছিলটি টিএসসি ও শাহবাগ হয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে এসে শেষ হয়।  

পরে লুনা নূর, শম্পা বসু, মার্জিয়া প্রভা, সীমা দত্ত, জাকিয়া শিশির, বহ্নিশিখা জামালিসহ ৬ জনের একটি প্রতিনিধিদল প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে ১৩ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি প্রদান করেন।

দাবিগুলো হল, অভিবাসী কর্মীর মানবিক মর্যাদা ও অধিকারের সুরক্ষায় প্রণীত আন্তর্জাতিক ঘোষণানীতি-সনদ-চুক্তি যে সকল রাষ্ট্র অনুসরণ করে না বা করবে না,  সে সকল রাষ্ট্রে বাংলাদেশ থেকে অভিবাসী কর্মী প্রেরণ করা চলবে না এবং ঐ সকল দেশের সাথে বিদ্যমান অভিবাসী কর্মী প্রেরণের সকল প্রকার সমঝোতা স্মারক, চুক্তি বাতিল করতে হবে।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের যে সকল দেশে নারী অভিবাসী কর্মী প্রেরণ করা হয়েছে, সেখানে নারী অভিবাসী কর্মীদের শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতন প্রতিরোধে বাংলাদেশ সরকার ও সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সম্পাদন ও বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের যে সকল দেশে নারী অভিবাসী কর্মী পাঠানো হয়েছে, সে সকল দেশে কর্মরত নারী কর্মীদের নিয়োগকর্তার নাম, কর্মস্থলের ঠিকানাসহ নারীকর্মীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার তথ্য অনতিবিলম্বে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশসহ অভিবাসী কর্মীর পরিবারের কাছে নিয়মিত হালনাগাদ তথ্য প্রেরণ/প্রদানের জন্য হেল্প ডেস্ক চালু করতে হবে।

বাংলাদেশের যে সকল রিক্রুটিং এজেন্ট মধ্যপ্রাচ্যের দেশসমূহে উন্নত জীবনের প্রতিশ্রুতি ও প্রলোভন দিয়ে নারীকর্মীদের প্রেরণ করেছেন তাদের লাইসেন্স বাতিলসহ তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাগ্রহণ করতে হবে।

মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বাংলাদেশ দূতাবাস ও কনস্যুলেটে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারিদের দায়িত্বশীলতার সাথে অভিবাসী কর্মীদের স্বার্থ রক্ষায় নিয়োজিত করতে কার্যকর পরিবীক্ষণ ও তত্ত্বাবধান ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে।

অভিবাসী কর্মীর কর্মস্থলের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা বিধানে দূতাবাস ও কনস্যুলেটে নিয়োজিত কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সমূহের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করে প্রবাসে অবস্থানকারী নারীকর্মীদের কর্মস্থল পরিদর্শন, নিয়োগকর্তা ও অভিবাসী কর্মীদের সমন্বয়ে যৌথ সভা করে অভিবাসী কর্মীদের মানবিক মর্যাদা ও অধিকার সুরক্ষায় ঘোষিত আন্তজার্তিক মানদণ্ড বাস্তবায়ন করতে হবে।

অভিবাসী কর্মীরা যে কোনো ধরনের বিরূপ পরিস্থিতির শিকার হলে বাংলাদেশী দূতাবাস ও কনস্যুলেটের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক উদ্ধার, আবাসন, খাদ্যসহ আইনি সহায়তা প্রদান করতে হবে।

নির্যাতিত ও ক্ষতিগ্রস্ত অভিবাসী কর্মীরা যাতে তাদের অধিকারের সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট দেশের আইনের আওতায় সহজেই মামলা করতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট দেশে না থেকেও নিজ দেশ থেকে মামলার কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন এমন সুযোগক্ষেত্র তৈরি করতে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সম্পাদন করতে হবে।
 
এ যাবৎ নির্যাতনের শিকার হয়ে মৃত্যুবরণকারী অভিবাসী কর্মীদের মৃত্যুর জন্য দায়ি নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট দেশের আইনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাগ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জনমত গড়ে তোলাসহ ভবিষ্যতে মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশের নিশ্চয়তা বিধানে নির্যাতনকারী নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দ্বিপাক্ষিক চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত নারী অভিবাসী কর্মী প্রেরণ বন্ধ রাখতে হবে।

সরাসরি সরকারিভাবে নারী অভিবাসী কর্মী প্রেরণ নিশ্চিত করতে হবে।

যে সকল নারী অভিবাসী কর্মী দেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন তাদের আর্থিক, সামাজিক ও পারিবারিক পুনঃএকত্রীকরণের নিশ্চয়তায় কার্যকর প্রত্যাবর্তন ও পুনঃএকত্রীকরণ আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।

ইতোমধ্যে নির্যাতনের শিকার হয়ে যে সকল নারী কর্মী মৃত্যুবরণ করেছেন, আত্মহত্যায় বাধ্য হয়েছেন এমনকি দেশে ফিরে এসেছেন তাদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।

নারী কর্মীদের শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতনের তথ্য জানার পরও দূতাবাসসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের যে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করেননি, বিভ্রান্তিকর বক্তব্য-বিবৃতি প্রদান করে নির্যাতনকারীর পক্ষাবলম্বন করেছেন, তাদের প্রত্যেককে বিচারের আওতায় আনতে হবে।