ঢাকা, মঙ্গলবার ২৬, মে ২০২০ ১৭:৫৭:৩৩ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
সামনে কঠিন সময় আসছে: ওবায়দুল কাদের করোনা: গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে মারা গেছে ২১জন, নতুন শনাক্ত ১১৬৬ করোনা: ভারতে মোট আক্রান্ত এক লাখ ৪৫ হাজার, মৃত ৪১৬৭ উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ের সম্ভাবনা : সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর সংকেত ডেপুটি স্পিকারের স্ত্রী আনোয়ারা রাব্বী মারা গেছেন সৌদি আরবে বৃহস্পতিবার থেকে কারফিউ শিথিল করোনায় সানবিমস স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ নিলুফার মারা গেছেন

৯ হাজার কোটির প্রতিষ্ঠানের মালিক যে তরুণী

অনলাইন ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৮:০৪ পিএম, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ বুধবার

অঙ্কিতি বসু ও ধ্রুব কাপুর। ছবি: অঙ্কিতির ইনস্টাগ্রাম পেজ থেকে।

অঙ্কিতি বসু ও ধ্রুব কাপুর। ছবি: অঙ্কিতির ইনস্টাগ্রাম পেজ থেকে।

এটা স্বপ্ন নয়, বাস্তব। এটা গল্প নয়, সত্যি। এটা এক ভারতীয় বাঙালী তরুণীর সফলতার কাহিনী। তিনি ব্যবসা শুরু করেছিলেন মাত্র ২১ লাখ টাকা নিয়ে। মাত্র চার বছরে তা ফুলেফেঁপে দাঁড়াল ৯ হাজার ৮০০ কোটিতে। মাত্র সাতাশ বছর বয়সে এই অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখালেন এক বঙ্গ তনয়া। তাঁর নাম অঙ্কিতি বসু।

কোনও সংস্থার ব্যবসা ১০০ কোটি মার্কিন ডলার পেরোলে, কাল্পনিক জন্তুর নাম অনুসারে ইউনিকর্ন তকমা জোটে। অঙ্কিতির ফ্যাশন ই-কমার্স সংস্থা ‘জিলিঙ্গো’  ইতিমধ্যেই তা পেয়ে গেছে। তার জের ধরে কনিষ্ঠতম ভারতীয় নারী নির্বাচিত হলেন অঙ্কিতি, যিনি কোনও ইউনিকর্ন সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও।

বাঙালি পরিবারে জন্ম হলেও, বাংলার বাইরেই বেড়ে ওঠা অঙ্কিতি বসুর। ২০১২ সালে মুম্বইয়ের সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে অর্থনীতি ও গণিত নিয়ে পড়াশোনা করেন তিনি। তার পর চাকরি শুরু করেন মার্কিন কনসাল্টিং সংস্থা ম্যাকিনজির মুম্বই শাখায়। সেখান থেকে যোগ দেন অন্য একটি মার্কিন সংস্থা সেকোয়া ক্যাপিটালসের বেঙ্গালুরু অফিসে। তেইশ বছর বয়সে বেঙ্গালুরুতেই বছর চব্বিশের ধ্রুব কাপুরের সঙ্গে আলাপ তার। আইআইটি গুয়াহাটি থেকে পড়াশোনা সেরে গেমিং স্টুডিয়ো কিউয়ি আইএনসি-তে সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে কর্মরত ছিলেন ধ্রুব।

চাকরি ছেড়ে নিজের মতো কিছু করার স্বপ্ন ছিল দুজনেরই। প্রথমেই ই-কমার্স সাইট খোলার কথা মাথায় আসে তাদের। কিন্তু ভারতে তখন ফ্লিপকার্ট, অ্যামাজনের মতো সংস্থা জাঁকিয়ে বসে। তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পেরে ওঠা যাবে না বুঝেছিলেন তারা। তাই চিন্তাভাবনা জারি থাকে। সে বছরই ব্যাঙ্কক বেড়াতে গিয়ে চোখ খুলে যায় অঙ্কিতির। সেখানকার চতুচক বাজারে ঢুকে স্থানীয় ডিজাইনারদের তৈরি পোশাক, জুতো, ব্যাগ এবং অ্যাকসেসরিজ ইত্যাদি নজর কাড়ে তার। ভাষাগত সমস্যা থাকায়, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পক্ষে সেগুলি বাইরের লোকের কাছে পৌঁছে দেওয়া যাচ্ছে না বুঝতে পারেন তিনি।

তখনই মাথায় আইডিয়া আসে। দেশে ফিরে ধ্রুবের সঙ্গে আলোচনা সারেন অঙ্কিতি। চাকরি ছেড়ে ২১ লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে কাজে লেগে পড়েন তারা। তবে যাত্রা সহজ ছিল না। মার্কেট রিসার্চ সারতেই প্রায় একবছর লেগে যায় তাদের। ব্যাঙ্ককের বাজারে ঘুরে ঘুরে ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনলাইন ব্যবসায় আগ্রহ গড়ে তুলতে শুরু করেন অঙ্কিতি। 

বেঙ্গালুরুতে বসে প্রযুক্তিগত দিকটা সামলাতে শুরু করেন ধ্রুব। দক্ষিণ এশিয়ার বাজার দখল করতেই আগ্রহী ছিলেন তারা। সেই মতো কাজ শুরু করেন। গত চারবছরে সিঙ্গাপুর,ফিলিপিন্স, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান, চিন, কোরিয়া এবং কম্বোডিয়ার বাজার দখল করতে সফল হয়েছে জিলিঙ্গো। ভারত এবং অস্ট্রেলিয়াতেও লেনদেন শুরু হয়েছে।

একসময় যে সেকোয়া সংস্থার কর্মী ছিলেন অঙ্কিতি, আজ তারাও জিলিঙ্গোয় ২২ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে। বিনিয়োগ রয়েছে সিঙ্গাপুরের তামসেক হোল্ডিং প্রাইভেট লিমিটেডের। এই মুহূর্তে জিলিঙ্গোর সিইও অঙ্কিতি। সিঙ্গাপুরে সংস্থার সদর দফতর সামলান তিনি। বেঙ্গালুরুতে ১০০ জন কর্মীকে নেতৃত্ব দেন ধ্রুব। তিনি সংস্থার প্রযুক্তি বিষয়ক প্রধান (সিটিও)।

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা