ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৩, জুলাই ২০২৬ ১০:০৪:২৮ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা : শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের জন্য জাতীয় মানদন্ড তৈরি হয়নি

প্রকাশিত : ১২:৫০ পিএম, ১৬ নভেম্বর ২০১৩ শনিবার | আপডেট: ১২:৫০ পিএম, ১৬ নভেম্বর ২০১৩ শনিবার

SAM_4342 11111স্টাফ করেসপন্ডন্ট, উইমেননিউজ২৪.কম ঢাকা : বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী ড. হামিদা হোসেন বলেছেন, রানা প্লাজার ঘটনায় সাধারণ জনগণ সহমর্মিতা ও সাহায্য-সহযোগিতার দৃষ্টানত্ম স্থাপন করলেও ক্ষতিপূরণ দেবার জন্য দায়িত্বশীল ভবন মালিক, কারখানা মালিক ও তাদের সংগঠন বিজিএমইএর জবাবদিহিতা দৃশ্যমান নয়৷ তাজরিন ফ্যাশনে ভয়াবহ অগি্নকান্ডের এক বছর স্মরণে এবং কর্মক্ষেত্রে পেশাগত দুর্ঘটনায় আহত-নিহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ প্রদানে জাতীয় মানদন্ড নির্ধারণ বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন৷ শনিবার ঢাকা রিপোর্টারস্ ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরামের এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সংগঠনের আহবায়ক হামিদা হোসেন৷ এ সময় ফোরামের সদস্য সচিব সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদসহ ফোরামের সদস্য সংগঠনসমুহের প্রতিনিধিবৃন্দ ও ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দসহ নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন৷ ড. হামিদা হোসেন বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, শ্রমজীবী মানুষ, তাদের পরিবার ও সর্বোপরি দেশের এই ক্ষতির জন্য দায়ী আইন অমান্যকারী ভবন মালিক, উত্‍পাদনকারী দেশীয় মালিক ও তাদের সংগঠন, ব্যবসার মুনাফার অংশীদার ও সরবরাহ প্রক্রিয়ায় সাথে যুক্ত বায়ার, ব্র্যান্ডস ও রিটেইলারসহ মালিকপক্ষসমূহ৷ আইন প্রয়োগে ব্যর্থতার জন্য সরকার দায়ি৷ সুতরাং ক্ষতিপূরণ প্রদানের দায়িত্ব তাদের সকলের৷ এক্ষেত্রে সরকারসহ সকলকে উদ্যোগী ও সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণের আহবান জানান তিনি৷ সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ক্রমাগতভাবে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ক্ষতির সম্মুখীন হলেও শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের জন্য কোন জাতীয় মানদন্ড আজও তৈরি হয়নি৷ তারা বলেন, সঠিক ও সমন্বিত চিকিত্‍সার অভাবে ভুক্তভোগীদের দূর্ভোগ বেড়েছে, মাঠ পর্যায়ের চিকিত্‍সা সুবিধা না থাকায় আহতদের জটিলতা বেড়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদী চিকিত্‍সার পরিকল্পনা না থাকায় বর্তমানে অনেক এখন বিভিন্ন জটিলতায় ভূগছেন৷ ভবন মালিক, কারখানা মালিক ব্র্যান্ডস রিটেইলারসহ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী সকল পক্ষকে ক্ষতিপূরণ প্রদানে বাধ্য করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্থদের কমপক্ষে এক বছরের জন্য সামাজিক সুরক্ষার আওতায় নিয়ে আসার আহ্বান জানান বক্তারা৷ 'ইন্ডাষ্ট্রি-অল' এর পক্ষ থেকে ২৮ লক্ষ টাকা এবং 'জিওসি সাব-কমিটির' পক্ষ থেকে ২৩ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের জন্য যে দাবী উত্থাপন করা হয়েছে তা অনুসরন করতে সরকারের প্রতি আহবান জানান তারা৷ সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ প্রদান প্রক্রিয়ায় সকল পক্ষকে যুক্ত করার গুরুত্ব উল্লেখ করে বক্তারা নিখোঁজ ও মৃত ব্যক্তিদের পাওনা বেতন, ওভার টাইম, চাকরি সংক্রানত্ম ক্ষতিপূরণ প্রদানের পাশাপাশি নিখোঁজ শ্রমিকদের ডিএনএ টেষ্ট অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ ও পূণর্বাসনের মাধ্যমে পরিবারগুলোকে নিশ্চিত জীবনের ধারায় ফিরিয়ে আনার আহবান জানান৷ ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে সে জন্য অতীতের সমসত্ম ঘটনা তদনত্ম কমিটির সুপারিশ প্রকাশের আহ্বন জানান তারা৷ সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ২৪ নভেম্বর তাজরিনে সংঘটিত ভয়াবহ অগি্নকান্ডের এক বছর স্মরণে শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরাম রাজধানীর জুরাইন কবরস্থানে নিহতদের স্বরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করবে এবং সেখান থেকে কর্মক্ষেত্র দুর্ঘটনায় সচেতনতামুলক একটি স্মারক ট্রাক র্যালি যাত্রা শুরু করে সাভারের তাজরিন গার্মেন্টস্ এর সামনে এসে সমাপ্ত হবে৷ ১৬ নভেম্বর'২০১৩