ভারতে তিন তালাক দিলে তিন বছর কারাদণ্ড
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০২:২৯ পিএম, ২৬ জুলাই ২০১৯ শুক্রবার
মুসলিম নারীদের তিন তালাক নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিতলার অবসান করলো ভারত। বৃহস্পতিবার লোকসভায় তিন তালাককে সন্ত্রাসবাদী আখ্যা দিয়ে বিলটি পাস করা হয়। এ বিল অনুসারে তিন তালাক প্রদানকারীকে তিন বছর কারাভোগ করতে হবে।
বিলের যৌক্তিকতা দেখিয়ে মুসলিম উইমেন বিল এনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেন, এর মাধ্যমে নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত হবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের পাশ্ববর্তী দেশ পাকিস্তান, মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের ২০টি দেশ যদি তিন তালাক নিষিদ্ধ করতে পারে, তাহলে আমরা পারব না কেন?
রবিশঙ্করের কথায় সহমত পোষণ করে বিলের পক্ষে সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী মুখতার আব্বাস নকভি বলেন, সন্ত্রাসবাদ যেমন অপরাধ, তিন তালাকাও তেমনি অপরাধ। অপরাধ করলে জেলে যেতেই হবে। এদিন ৩০৩ ভোটে বিলটি পাস হয়। বিলের বিরুদ্ধে ভোট দেন ৮২ জন সাংসদ।
তবে, এ আইন মুসলিম বিরোধী আখ্যা দিয়ে এ বিলের বিরোধীতা করেছে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেসসহ শরিক দল জেডিইউ। প্রতিবাদ স্বরুপ তারা লোকসভা থেকে ওয়াকআউট করেন।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে বলা হয়, সন্ত্রাস আর তিন তালাককে এসসঙ্গে জুড়ানো কখনো ঠিক হবেনা। তবে সেই আপত্তি মানেনি সরকার। ফলে তৃতীয়বারের মতো তিন তালাক বিল পাস হলো।
মোদির টানা দ্বিতীয়বার ক্ষমতার আসার পর এটাই ছিল প্রথম বিল। ২০১৭ সালের ২২ আগস্ট সুপ্রিম কোর্ট তাৎক্ষণিকভাবে তিন তালাককে ‘অসাংবিধানিক’বলে রায় দিয়েছিল। এরপর মোদি সরকার তিন তালাককে ফৌজদারি অপরাধের সঙ্গে তুলনা করে ৩ বছর শাস্তির কথা জানানো হয়।
এ কারণে কংগ্রেস ও তৃণমূলের দাবি মুসলিম পুরুষদের হীন বলে প্রতিপন্ন করতেই এমন বিল পাস করা হলো।
এদিকে, এই বিলকে বারবার মুসলিম বিরোধী বলে উল্লেখ করে প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন ভারতের মুসলিম সংগঠন এআইএমআইএম এর সাংসদ আসাদুদ্দিন ওয়াইসি।
সূত্র: আনন্দবাজার
