টিকিট প্রত্যাশীদের ভিড়ে কমলাপুর জনসমুদ্র
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১২:৪৫ পিএম, ৩১ জুলাই ২০১৯ বুধবার
ছবি: সংগৃহীত
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ট্রেনের আগাম টিকেট বিক্রির তৃতীয় দিনে কমলাপুর স্টেশনে তিল ধারনের ঠাঁই নেই। টিকেট প্রত্যাশীদের উপচেপড়া ভিড় স্টেশন চত্বর ছাড়িয়ে বাহিরে চলে গেছে।
বুধবার সকালে প্রতিটি কাউন্টারের সামনেই টিকেট প্রত্যাশীদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। মানুষের ভিড়ে পা ফেলানোর জায়গা নেই কমলাপুর রেল স্টেশনে। টিকিটের আশায় এখনো মানুষ স্রোতের মতো ছুটছে কমলাপুরের দিকে। মহাসড়কে যানজট এড়াতে যাত্রার জন্য বহু মানুষ ট্রেনকে বেছে নেয়ায় টিকিট প্রত্যাশীদের এমন ভিড় হয়েছে।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হয় ২৯ জুলাই। প্রথম দিন ৭ আগস্টের ও পরদিন ৮ আগস্টের টিকিট দেওয়া হয়েছে। আজ দেওয়া হচ্ছে ৯ আগস্টের টিকিট।
যাত্রীর সুবিধার্থে ঈদুল ফিতরের মতো এবারও ঢাকায় পাঁচটি স্থান থেকে রেলের আগাম টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। স্থানগুলো হলো- কমলাপুর স্টেশন, বিমানবন্দর স্টেশন, বনানী স্টেশন, তেজগাঁও স্টেশন এবং ফুলবাড়িয়া স্টেশন। কমলাপুরের মতো এসব স্টেশনেও প্রতিদিন সকাল নয়টা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে।
যমুনা সেতু হয়ে পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলগামী সব আন্তঃনগর ট্রেনের টিকেট বিক্রি করা হচ্ছে কমলাপুর থেকে। চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীগামী সব আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট বিমানবন্দর স্টেশন থেকে, ময়মনসিংহ জামালপুরগামী আন্তঃনগর ট্রেনের টিকেট তেজগাঁও রেলওয়ে স্টেশন থেকে, নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ ও হাওড় এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকেট বনানী স্টেশন থেকে এবং সিলেট ও কিশোরগঞ্জগামী সব আন্তঃনগর ট্রেনের টিকেট বিক্রি হচ্ছে ফুলবাড়িয়ার পুরাতন বিল্ডিং থেকে।
একজন যাত্রী চারটি টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন। জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে টিকিট সংগ্রহ করতে হবে।
টিকিট বিক্রির প্রথম দুই দিন কমলাপুরে ভিড় থাকলেও আজকের মতো ছিল না। যেসব স্থান থেকে টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে তার মধ্যে কমলাপুরেই সবচেয়ে বেশি মানুষের ভিড় দেখা গেছে। অনেকেই দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকে টিকেট পাওয়ার অপেক্ষা করছেন। টিকিট নামক সোনার হরিণের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন তারা। সকাল নাগাদ প্রতিটি লাইন স্টেশন ছেড়ে বাহিরে চলে যায়। প্রতিটি কাউন্টারের সামনে আঁকাবাঁকা দীর্ঘ লাইন। লাইন টার্মিনাল ভবন ছাড়িয়ে স্টেশনের প্রবেশপথ পেরিয়ে গেছে।
রংপুর এক্সপ্রেসের টিকিট নিতে এসেছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সুমন। তারা পাঁচ বন্ধু একসঙ্গে বাড়ি যাবেন বলে আগাম টিকিট নিতে এসেছেন। সুমন জানালেন, তারা পাঁচ বন্ধু একসঙ্গে বাড়ি যাবেন বলে টিকিটের জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছেন। গতকাল সন্ধ্যার পর থেকে লাইনে অপেক্ষা করছেন তারা। শতাধিক মানুষের পেছনে থাকলেও টিকিট পাবেন বলে আশা করছেন তারা।
একই ট্রেনের টিকিট নিতে গতকাল রাত থেকে কমলাপুর স্টেশনে লাইনে দাঁড়িয়েছেন সৌরভ। তিনি বলেন, গতকাল রাত ১০টার পর থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। কিছুক্ষণ আগে টিকিট বিক্রি শুরু হলো। আমি কিছুটা হলেও দূরে আছি। আমার সিরিয়াল আসতে আসতে টিকিট থাকবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কায় আছি।
এদিকে টিকিট প্রত্যাশীদের মধ্যে শৃঙ্খলা ধরে রাখতে কাজ করছে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও আনসার সদস্যরা। আছে রেলওয়ে পুলিশ, এপিবিএন ও র্যাব। এরপরও, প্ল্যাটফর্মে লাইন ঠিক রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে নিরাপত্তা কর্মীদের।
কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার আমিনুল হক জুয়েল জানান, ঈদের সময় মেইল, এক্সপ্রেস এবং লোকাল ট্রেন মিলিয়ে প্রতিদিন ৫৯ হাজার ৬৭৭টি টিকিট বিক্রি করা হবে। আজ বিক্রি করা হবে ৯ আগস্টের টিকিট। আগামীকাল ১ আগস্ট বিক্রি হবে ১০ আগস্টের টিকিট ও ২ আগস্ট বিক্রি হবে ১১ আগস্টের টিকিট।
-জেডসি
