ঢাকা, শনিবার ১৮, জুলাই ২০২৬ ৯:৫৩:৫৫ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

ঈদ বাজার : শিশুদের রঙ ঝলমলে পোশাক

প্রকাশিত : ০৬:২৭ পিএম, ২ জুলাই ২০১৫ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৬:৩৫ পিএম, ২ জুলাই ২০১৫ বৃহস্পতিবার

51f8d03762f30-9মাজেদুল হক তানভীর, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, উইমেননিউজ২৪.কম, ঢাকা : ঈদকে সামনে রেখে উত্সবে মেতে উঠেছে শিশুরা। চলছে কেনাকাটা হরদম। বাবা-মায়ের হাত ধরে শপিংমলগুলোতে ভিড় করছে তারা। তাদের কলকালিতে মুখরিত হয়ে উঠছে চারদিক। মনের মত পোশাকটি পেলে তাদের চাঁদমুখে মুহুর্তের মধ্যে ভেসে উঠছে হাসির ঝিলিক। ঈদের প্রথম কেনাকাটা শুরু হয় শিশুদের জন্য। এ বছরও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। শপিংমলগুলোতে শিশুদের সঙ্গে নিয়ে কেনাকাটা করতে দেখা গেছে অভিভাবকদের। গরমে ঈদ হওয়ায় সন্তানের জন্য অভিভাবকরা সুতি কাপড়কে প্রাধান্য দিচ্ছেন বেশি। মার্কেটগুলোতে শুরুতে ভীড় কম থাকলেও সময়ের পরিক্রমায় বাড়তে শুরু করেছে ক্রেতা। রাজধানীর অভিজাত মার্কেটগুলোতে একই অবস্থা। নারী ও শিশুদের সাথে নিয়ে স্বপরিবারে কেনাকাটা করছে অনেকে। সরেজমিন দেখা গেছে,রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি,কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি,নিউ মার্কেট,চাঁদনী চক,রাইফেলস স্কয়ারসহ বিভিন্ন বড় বড় বিপণী বিতানগুলোতে উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকেরা কেনাকাটা করছে। আর তাদের চাহিদা অনুযায়ী বিক্রেতারা সাজিয়ে বসেছেন হাজার রকমের মনকাড়া পোশাক। রাজধানীর অভিজাত মার্কেটগুলোতে রয়েছে শিশুদের পোশাকের অসংখ্য দোকান। এসব দোকানে ক্রেতার চাহিদা এবং সামর্থ্যরে কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন দাম ও ডিজাইনের পোশাক তোলা হয়েছে। ছেলে শিশুদের পোশাক : imagesছেলে শিশুদের পোশাক বলতে রয়েছে বিভিন্ন প্রকার শার্ট-প্যান্টের সেট। এক্ষেত্রে এবার সুতি কাপড়েরই প্রাধান্য। গ্রামীণ চেকের হাফহাতা শার্টের উপর নানা রকম স্ক্রিন প্রিন্ট,লেখা,কার্টুনের ছবি দিয়ে করা হয়েছে বিভিন্ন ডিজাইন। সাথে রয়েছে হাফ,ফুল অথবা থ্রি-কোয়ার্টার জিন্স এবং গ্যাবাডিনের প্যান্ট। নিটের কাপড়ে স্ক্রিন প্রিন্ট করে তার সাথে জুড়ে দেয়া হয়েছে লেদার অথবা মোটা নিটের প্যান্ট। এসব পোশাকের দাম ৫৮০-১২০০ টাকা পর্যন্ত। বিভিন্ন দোকানে স্থান পেয়েছে রঙ-বেরঙের শিশুদের পাঞ্জাবি-পাজামা। দেশী-বিদেশীসহ দেশীয় বুটিক হাউসগুলোতে এসব পাঞ্জাবী পাওয়া যাচ্ছে। দাম ৫৭০-১৩০০ টাকা পর্যন্ত। এসব বুটিক হাউসে শিশুদের বিভিন্ন শার্ট ও ফতুয়াও পাওয়া যাচ্ছে। দাম ১৫৮-৫৫০ টাকা। তাছাড়া রেক্সসহ অন্যান্য পোশাকের দোকানে শিশুদের বিভিন্ন ডিজাইনের টি-শার্ট ও পোলো শার্ট পাওয়া যাচ্ছে। দাম ৩৫০- ৬৫০ টাকার মধ্যে। মেয়ে শিশুদের পোশাক : 51f5841b13257-DSC_9074মেয়ে শিশুদের পোশাকের সংগ্রহ ছেলে শিশুদের তুলনায় অনেক বেশি। তাদের জন্য দোকানে দোকানে শোভা পাচ্ছে ঝলমলে, আকর্ষণীয় পোশাক। সুতি,সিল্ক,জর্জেট,নিটসহ আরো অনেক ধরনের কাপড় দিয়ে তৈরি করা হয়েছে এসব পোশাক। বাহারী এসব পোশাকের নামও বেশ বাহারী। কোনটার নাম ‘ওয়াকা ওয়াকা’ আবার কোনটার নাম ‘অক্টোপাস পল’। নানা রঙের এসব পোশাকের মধ্যে প্রাধান্য পেয়েছে ফ্রক ও স্কার্ট। এ সব পোশাকে অতিরিক্ত সৌন্দর্যের জন্য আবার জুড়ে দেয়া হয়েছে লেস,চুমকি,জরি আর নেটের কাজ। দাম ৪৫০-৩৯০০ পর্যন্ত। দেশীয় বুটিক হাউসগুলোতে আনা হয়েছে বাহারী নকশার থ্রি-পিস। দাম ৬৫০-৫৫০০ টাকা। স্কার্টের দাম ৬৫০-১৬০০ টাকা। তাছাড়া ছোট্ট সোনামনিদের জন্য শাড়িও তৈরি করা হয়েছে। সুতি কাপড়ের এসব শাড়ির দাম ৬৫০-১২০০ টাকা। 51f8d0317d555-7এছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে,বিভিন্ন রঙ ও নকশায় অলঙ্কৃত করা হয়েছে শিশুদের পোশাক। দেশি ফ্যাশন হাউসগুলোও বড়দের পাশাপাশি ফ্যাশনের পোশাক এনেছে ছোট্ট শিশুদের জন্য। অঞ্জন’স,ওটু,আড়ং,রঙ, দেশাল,চাঁদের হাসি, অন্যমেলা,নগরদোলা,সাদাকালো,নিত্যউপহার,মায়াসিরসহ প্রায় সব ফ্যাশন হাউসই তাদের নিজেদের ডিজাইন মেলে ধরেছে ঈদকে সামনে রেখে। পাঞ্জাবি,ফতুয়া,থ্রিপিসসহ সব ধরনের পোশাকে থাকছে দেশীয় ঐতিহ্যের ছোঁয়া। স্ক্রিন প্রিন্ট,ব্লক,হালকা কারচুপি,মেশিন এমব্রয়ডারিতে উৎসবের রঙে সাজানো হয়েছে শিশুদের পোশাক। ছেলে শিশুদের পাঞ্জাবিতে কাপড় হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে অ্যান্ডি,সিল্ক,মসলিন ও খাদি। উৎসবের আমেজ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন রকম হাতের কাজ দিয়ে। 1c64.thumbnailবুটিক হাউজ যাত্রায় শিশুদের পোশাকের কাটিংয়ে নান্দনিক নকশা করা হয়েছে। ৭টি বিলুপ্তপ্রায় পাখির থিমে তারা রাঙিয়েছে শিশুদের পোশাক। এখানে অ্যান্ডি ও সুতি কাপড় প্রাধান্য পেয়েছে। প্রায় সব হাউসেই রঙ হিসেবে শিশুদের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে নিয়ন বা ফ্লুরোসেন্ট কালার। এ ছাড়া ভিন্নতা আনা হয়েছে মেয়েদের পোশাকেও। যাত্রাবাড়ি থেকে বসুন্ধরা সিটিতে কেনাকাটা করতে এসেছে মৌসুমি জামান, সঙ্গে তার স্বামী ও ৬ বছরের মেয়ে সাবিহা। তিনি জানান, ঈদের খুশিকে আরো আনন্দময় করতে নতুন জামা দরকার। মার্কেট ঘুরে ভালই লাগলো। অনেক জিনিসপত্র পছন্দ হয়েছে। তবে দাম অনেক বেশি। সন্তানের খুশির জন্য তবুও কিনতে হবে। এদিকে পছন্দের পোশাক হাতে পেয়ে শিশু সাবিহার চোখে-মুখে খুশির বন্যা লক্ষ্য করা যায়। তবে এবারও অভিভাবকরা অভিযোগ করে বলছেন,শিশুদের প্রতিটি পোশাকের দাম গতবারের তুলনায় অনেক বেশি। ০৩.০৭.২০১৫