ঢাকা, শনিবার ১৮, জুলাই ২০২৬ ১০:০৫:৫৭ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

ফেলানি হত্যার রায় চ্যালেঞ্জ করবে মাসুম

প্রকাশিত : ০৭:১২ পিএম, ৩ জুলাই ২০১৫ শুক্রবার | আপডেট: ০৭:১২ পিএম, ৩ জুলাই ২০১৫ শুক্রবার

Felani-03-Fউইমেননিউজ ডেস্ক, ঢাকা : বাংলাদেশের কিশোরী ফেলানী খাতুন হত্যা মামলার পুনর্বিচারে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্য অমিয় ঘোষকে নির্দোষ ঘোষণার রায়কে ভারতের আদালতে চ্যালেঞ্জ করবে সে দেশেরই একটি মানবাধিকার সংগঠন।
মানবাধিকার সংগঠন মাসুম বলছে, বিএসএফের নিজস্ব আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে তারা বেশ কিছু আইনি পয়েন্ট খুঁজে বের করেছে, যেগুলি ভারতের সংবিধান আর ন্যায়বিচারের পরিপন্থি। খবর বিবিসি বাংলার
ফেলানীকে হত্যার অভিযোগ থেকে অমিয় ঘোষকে মুক্তি দেওয়ার আগের রায়ই পুনর্বিবেচনার পর বৃহস্পতিবার বহাল রাখে বিএসএফ।
সেনাবাহিনীর কোর্ট মার্শালের সমতুল্য বিএসএফের জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্সেস কোর্টের (জিএসএফসি) রায়কে চ্যালেঞ্জ করার সিদ্ধান্তের বিষয়ে ভারতের মানবাধিকার সংগঠন মাসুমের প্রধান কিরীটি রায় বিবিসিকে জানান, 'আমাদের দেশের সুপ্রিম কোর্ট নির্দিষ্ট করে বলেছে, কোথাও কোনও অন্যায় অবিচার হলে যে কেউ প্রতিবাদ করে আদালতে আসতে পারে। আগেকার ধারণা পাল্টে দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। ফেলানীর পরিবারের সঙ্গেও আমাদের কথা হয়েছে।'
তবে মাসুম বলেছে, এর আগেও তারা একবার ভারতীয় আদালতে ফেলানী হত্যা নিয়ে মামলা করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তখন ফেলানীর পরিবারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নথি আর সহযোগিতা তারা পায়নি।
নতুন করে বিএসএফের রায়কে চ্যালেঞ্জ করার জন্য বেশ কিছু আইনি পয়েন্টও তারা খুঁজে বের করেছেন বলে জানান কিরীটি রায়।
তাদের প্রশ্ন, 'এটা কে ঠিক করল যে শুধুমাত্র অমিয় ঘোষই অভিযুক্ত? যেখানে ফেলানী মারা যায়, সেখান দিয়ে এর আগে আরও ৪০ জন বেড়া পেরিয়েছে– বিএসএফ–বিজিবি টাকা নিয়েছে সবার কাছ থেকে। এটা ওয়েল রেকর্ডেড। তাই যারা সেই বেআইনি কাজের অনুমতি দিল– অমিয় ঘোষের সহকর্মী বা সিনিয়র অফিসাররা– তারা কেন দোষী হবেন না?'
কিরীটি রায় আরও বলেন, 'ভারতের সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেকের জীবনের অধিকার রয়েছে। শুধু ভারতের নাগরিক নয়, দেশের মাটিতে থাকা প্রত্যেক ব্যক্তির। এক্ষেত্রে সেটাও লঙ্ঘিত হয়েছে।'
এর আগে ২০১৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর জিএসএফসি ফেলানী হত্যা মামলায় অভিযুক্ত অমিয় ঘোষকে নির্দোষ বলে রায় দেয়। সেই রায় যথার্থ মনে না হওয়ায় পুনর্বিবেচনার আদেশ দিয়েছিলেন বাহিনীর মহাপরিচালক। পুনর্বিবেচনার কাজ শুরু করতে প্রায় এক বছর লেগেছিল। তিনবার পুনর্বিবেচনার কাজ স্থগিতও করা হয়।
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কিশোরী ফেলানী খাতুন ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি সীমান্তের কাঁটাতার পেরিয়ে ভারত থেকে বাবার সঙ্গে বাড়ি ফিরছিল। দেশে ফেরার সময় অনন্তপুর সীমান্তে বিএসএফের জওয়ান অমিয় ঘোষ গুলি করে হত্যা করে ফেলানীকে। কাঁটাতারের ওপর দীর্ঘক্ষণ ঝুলে থাকে ১৬ বছরের কিশোরী ফেলানীর মৃতদেহ।
পরে বিএসএফ নিজেই বাহিনীর সদস্যের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগে মামলা করে। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যা আর বিএসএফে আইনের ১৪৬ ধারায় মামলা করা হয়েছিল।
০৪.০৭.২০১৫