ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৯, জুলাই ২০২৬ ১৩:৪৫:৫৭ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

ভোররাতে সমুদ্রসৈকতে একা বেড়ালেন মমতা

অনলাইন ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৬:০১ পিএম, ২০ আগস্ট ২০১৯ মঙ্গলবার

সৈকতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল চিত্র।

সৈকতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল চিত্র।

গভীর রাত। শুমশাম চারদিক। শনশনে হাওয়া বইছে সমুদ্র সৈকতজুড়ে। তার মধ্যেই একা হেঁটে বেড়াচ্ছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা সৈকতের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত হেঁটে বেরিয়ে ফের ঢুকে পড়লেন হোটেলে। সকালের আগে কেউ ঘুণাক্ষরেও টের পেলেন না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘নৈশ অভিযান’-এর কথা।

সোমবার বিকেলে জেলা সফরের কর্মসূচির অংশ হিসাবে পূর্ব মেদিনীপুরের দিঘাতে হেলিকপ্টারে পৌঁছন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী তিনি ওল্ড দিঘাতে একটি অতিথিশালার উদ্ধোধন করেন। তারপর জেলা রাজনীতির দুই নেতা অখিল গিরি এবং শুভেন্দু অধিকারীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি পৌঁছে যান আমজনতার বাড়ির অন্দরে।

দিঘা লাগোয়া মৈত্রাপুর গ্রামে গাড়ি থেকে নেমে চলে যান আরতি সিংহ নামে এক গ্রামবাসীর বাড়ির উঠোনে। সেখানে দলের নেতা বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে চলে আরতি এবং গ্রামের মানুষের সঙ্গে গল্প। ‘জনসংযোগ’ যাত্রা শেষ করেন দলীয় নেতাদের সঙ্গে। রাতে তার থাকার ব্যবস্থা হয়েছিল ওল্ড দিঘায় সমুদ্র লাগোয়া সৈকতাবাসে।

সেখানেও ছিল তার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বিশেষ বাহিনী। সূত্র বলছে, তিনি নিজের ঘরে চলে যেতে তার নিরাপত্তা কর্মীরাও যার যার ঘরে চলে যায়। তারা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি রাত তিনটা নাগাদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়বেন!

সূত্র মতে, অত রাতে মুখ্যমন্ত্রীকে দেখে চমকে যান সৈকতাবাসের নিরাপত্তা রক্ষীরা। বাইরে-ভেতরে মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা রক্ষীরা ছাড়াও ছিলেন জেলা পুলিশের বিশেষ বাহিনী। তাদের অধিকাংশই তখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। তাদের কাউকে না জাগিয়েই বাইরে বেরিয়ে পড়েন মমতা। শেষ মুহূর্তে মুখ্যমন্ত্রীকে দেখতে পান তার এক নিরাপত্তারক্ষী। তিনি বাকিদের জাগাতে গেলে মুখ্যমন্ত্রী বারণ করেন। তাকে নিয়েই বেরিয়ে পড়েন সৈকতে।

মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা সকালে গোটা ঘটনা জানার পর হুলস্থুল শুরু হয়ে যায়। সৈকতে জেলা পুলিশের তরফ থেকে লাগানো সিসি ক্যামেরার ফুটেজও সংগ্রহ করেন পুলিশ কর্তারা।

পুলিশ সূত্র বলছে, গোটা ঘটনা মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তায় বড়সড় ফাঁক বলেই মনে করছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। কী ভাবে সমস্ত নিরাপত্তারক্ষীর অগোচরে তিনি বেরোলেন তা ভেবে তাজ্জব হয়ে যাচ্ছেন শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তারা।