শেখ হাসিনার শর্ত মেনে মিয়ানমারে যেতে রাজি রোহিঙ্গারা
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০১:৩৭ পিএম, ২১ আগস্ট ২০১৯ বুধবার
ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘে প্রস্তাবিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শর্ত মানলে মিয়ানমারে ফিরতে রাজি রোহিঙ্গারা। এমনটা জানিয়েছেন বাংলাদেশে বসবাসরত রোহিঙ্গা নেতারা। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য যেসব শর্ত বাংলাদেশ সরকার উত্থাপন করেছে মিয়ানমার সেগুলো অগ্রাহ্য করে বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে এখনো উদাসীন মিয়ানমার। আরাকান থেকে বিতাড়িত হয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করছে কক্সবাজারের আনাচে-কানাচে। মিয়ানমারের বৈধ নাগরিক রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না সেদেশের সরকার। বারবার দিয়েছে মিথ্যা আশ্বাস।
প্রত্যাবাসনের নামে ৪৫টি ক্যাম্পে বন্দি করে রোহিঙ্গাদের ফের অমানবিক নির্যাতনের পাঁয়তারা করছে মিয়ানমার সরকার। তাদের হারানো ১৯৮টি পাড়া-মহল্লায় পুনর্বাসন, সহায় সম্পদ ফেরত ও নাগরিকত্বের দাবি না মানা পর্যন্ত কোনো রোহিঙ্গাই মিয়ানমারে ফিরে যাবে না। এমন দাবি করেন দুই রোহিঙ্গা নেতা হামিদ হোসেন ও মোঃ ইলিয়াছ।
এই পরিস্থিতিতে কেবল স্বেচ্ছায় যেতে চাইলেই রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন করা হবে। এমনটাই জানালেন কর্মকর্তা শরণার্থী ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত সচিব) আবুল কালাম।
সকল সমস্যা কাটিয়ে রোহিঙ্গারা তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে যাবে এমনটিই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে পুলিশি চৌকিতে কথিত হামলার ধুয়ো তুলে রোহিঙ্গাদের ওপর সেনা নিপীড়ন শুরু হলে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে তারা। কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে অবস্থান নেয় আট লাখের বেশি রোহিঙ্গা। আর আগে থেকে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের নিয়ে এ সংখ্যাটি ছাড়িয়ে যায় ১২ লাখের বেশি।
রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার পাশাপাশি তাদের নিজদেশে ফেরাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে বাংলাদেশ। কিন্তু দফায় দফায় চেষ্টা করেও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা যায়নি। গত বছরের শেষ সময়ে এবং চলতি বছরের শুরুতে প্রত্যাবাসন শুরুর কথা দিয়েও সে কথা রাখেনি মিয়ানমার।
সবশেষ গত মাসে দুই দেশের প্রতিনিধি দলের বৈঠকে প্রত্যাবাসন চুক্তির অংশ হিসেবে কথিত যাচাইবাছাইয়ের জন্য মিয়ানমারের হাতে ২৫ হাজার রোহিঙ্গার একটি তালিকা দেয় বাংলাদেশ। আর সেখান থেকেই ৩ হাজার ৫৪০ জনকে নেয়ার বিষয়ে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে বলে সম্প্রতি মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মিন্ট থু জানান।
-জেডসি
