রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের পরিবেশ নিরাপদ নয়: জাতিসংঘ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০৫:১৮ পিএম, ২৩ আগস্ট ২০১৯ শুক্রবার
ছবি: ইন্টারনেট
সংখ্যালঘু মুসলমান রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পরিবেশ নিরাপদ নয় বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের তথ্য-অনুসন্ধানী মিশনের রাধিকা কুমারাস্বামী। এছাড়া ২০১৭ সালে জাতিগত নিধনযজ্ঞের সময় রোহিঙ্গা নারীসহ কিশোরীদের ওপর সেনাবাহিনী যৌন সহিংসতা যুদ্ধাপরাধের শামিল বলে জানায় সংস্থাটি।
জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন কর্তৃক গঠিত স্বতন্ত্র আন্তর্জাতিক সত্য-অনুসন্ধানী মিশন জানায়, মিয়ানমার সেনাবাহিনী কর্তৃক ধর্ষণ, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও নারীদের ওপর বিভিন্নভাবে যৌন নিপীড়ন চালানোর প্রমাণ পেয়েছে তারা। এমনকি তারা শিশু ও কিশোরের ওপরও এই ধরনের নির্যাতন চালায়। যা আন্তর্জাতিক আইনে চরম লঙ্ঘন বলেও জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নৃতাত্ত্বিক সংখ্যালঘুদের শাস্তি দেয়ার জন্য ও আতঙ্কিত করতে যৌন এবং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।
নিউইয়র্কে দেয়া এক বক্তৃতায় জাতিসংঘের তথ্য-অনুসন্ধানী মিশনের রাধিকা কুমারাস্বামী বলেন, নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের পরিবেশ নিরাপদ নয়। রোহিঙ্গারা আর তাদের গ্রামে ফিরে যাবে না। পুরুষ, বালক ও হিজড়াদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার ঘটনার চারপাশের নিরবতা ভাঙতে হবে।
জাতিসংঘের মিশন বলছে, উত্তরাঞ্চলীয় কাচিন রাজ্যসহ পশ্চিম মিয়ানমারের রাখাইনের কয়েকশ যৌন সহিংসতা থেকে বেঁচে যাওয়া ও প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষাৎকার নিয়েছে মিশন। আর আগামী মাসে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়া হবে।
রাধিকা বলেন, সামরিক কৌশল হিসেবে যৌন সহিংসতাকে ব্যবহার করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। কিন্তু, রোহিঙ্গা এলাকায় এটা এতই ভয়ঙ্কর হিংস্র ও নৃশংস যে; এতে বোঝা যাচ্ছে তারা এই সম্প্রদায়কে ধ্বংস করে দিতে চাচ্ছে।
নিপীড়নে জড়িত থাকাদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে না পারার ব্যর্থতার জন্য মিয়ানমারের নিন্দা জানায় তথ্য-অনুসন্ধানী মিশনের প্রতিবেদনে।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়, শত শত নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ৮০ শতাংশ ছিলো গণধর্ষণ। আর এই সব গণধর্ষণের ৮২ শতাংশের জন্য মিয়ানমারের সেনাবাহিনী দায়ী।
-জেডসি
