নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আইন
প্রকাশিত : ০৭:৫৭ এএম, ১৭ নভেম্বর ২০১৩ রবিবার | আপডেট: ০৯:১৯ এএম, ১১ ডিসেম্বর ২০১৩ বুধবার
জিবলু রহমান
জগতের যত বড় বড় জয়, বড় বড় অভিযান
মাতা ভগ্নি ও বধুদের ত্যাগে হইয়াছে মহিয়ান৷
কাজী নজরুল ইসলামের চরণ দু'টিই প্রমাণ করে জগতের প্রত্যেকটি সাফল্য, প্রত্যেকটি বিজয়, প্রত্যেকটি সৃষ্টির পেছনে নারীর অবদান কোন না কোনো ভাবে আছে৷ নারী মমতাময়ী আশ্রয়ে শিশুকে বড় করেছে, পুরুষের পাশে থেকে প্রেরণা যুগিয়েছে, ভ্রাতৃত্ববন্ধনে সহোদরকে এগিয়ে যেতে পাথেয় যুগিয়েছে৷ নারীর সাহসে পুরুষ আকাশ জয় করেছে, হিমালয়ে উঠেছে, সমুদ্র পাড়ি দিয়েছে৷ তবে নারীরা যে শুধু পুরুষকে প্রেরণা, ভালবাসা, আনন্দ দিয়েছে তেমনটি নয়, সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে নারী পালন করেছে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা৷ উপমহাদেশের নারীনেত্রী ইলা মিত্র দেখিয়েছেন কীভাবে পরাধীনতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হয়, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার দেখিয়েছেন কীভাবে শত্রুর বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে হয়৷ প্রতি বছর বিশ্ব নারী দিবস উপলক্ষে পত্রিকার পাতা জুড়ে থাকে নারীদের নানা সমস্যা ও অধিকারের কথা৷ শত বছর আগে দেখা গেছে, ঘরে আগুন লাগলে মেয়েরা ঘরে আবদ্ধ থেকেই মৃতু্যবরণ করত, তবুও বাইরে আসত না৷ গৃহবধুরা গভীর রাতে স্বামীর গৃহে গমন করতেন৷ নাবালিকার বিয়ে দেয়া তখন অতি স্বাভাবিক ছিল৷ তখনকার সাধারণ মেয়েরা কখনোই ভাবেনি, এক সময় তারা কলেজে শিক্ষকতা করবেন, বিমান চালাবেন, সৈনিক পদে চাকরি করবেন, এমনকি দেশ শাসন ও করবেন৷ এখন মেয়েরাও ভাবতে পারছেন না, অদূর ভবিষ্যতে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন অনেক ব্যাপক হয়ে যাবে৷ ভারতের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ, রাজ্যসভায় 'নারী সংরক্ষণ বিল' পাস হয়েছে৷ লোকসভায় এই বিল অনুমোদিত হলে আইন পরিষদে এক-তৃতীয়াংশ আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত হবে৷ 'এমগো (মিলেনিয়াম প্রপাজাল পার্টি ওয়ান) বাস্তবায়ন ফোরাম বাংলাদেশ' নামে একটি সংস্থা নারী অধিকার সংবলিত ১১ দফা দাবি উপস্থাপন করেছে৷ এতে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সরকারসহ রাষ্ট্রের সর্বস্তরে সমভাবে নারীর গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের উল্লেখ আছে৷ (সূত্রঃ দৈনিক নয়াদিগন্ত ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৩) বাংলাদেশ পৃথিবীর ক্ষুদ্র একটি জনবহুল দেশ৷ অত্যন্ত জনসংখ্যার চাপ, দুর্নীতি, গুম-হত্যা ও নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত দেশটি৷ এত কিছুর পরে দেশটি এগিয়ে যাচ্ছে৷ পশ্চিমারা ধারণা করছেন আগামীতে দেশটি অতি সত্বরই উন্নত রাষ্ট্রের সমপর্যায়ে চলে আসবে৷ তবে নারীর ক্ষমতায়ন বাংলাদেশকে পৃথিবীতে আরেকটি পরিচয় এনে দিয়েছে৷ নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মতো একটি দেশের সরকার প্রধান এবং বিরোধী দলের প্রধান উভয়ই হলেন নারী৷ আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে নারীর ক্ষমতায়নকে আরও সংহত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন৷ সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০-এ উন্নীত করেছেন৷ মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ পদে নারীদের অধিষ্ঠিত করেছেন৷ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনগুলোর প্রধান হিসেবেও বাংলাদেশে নারীদের স্থান দেখা যায়৷ নারীর ওপর নির্যাতন চলছেই৷ নতুন নতুন ধরনের নির্যাতিত হচ্ছে তারা৷ নির্যাতনের ভয়াবহতা বাড়ছে৷ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এখন বেশি নির্যাতনের শিকার হচ্ছে নারীরা৷ প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে তার পরিবারের নারী সদস্যদের ধর্ষণের মাত্রা বেড়েছে৷ নারীরা আগে যেমন নির্যাতিত হতো, এখনও কঠোর আইন থাকা সত্ত্বেও নির্যাতিত হচ্ছে৷ প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক, এ কোন সমাজে আমরা বাস করছি? অনেক ঘটনা মধ্যযুগের নির্যাতনকেও হার মানিয়ে দিচ্ছে৷ আগের মতো এখনও নারীরা যৌতুক, দেনমোহর, পারিবারিক সহিংসতা, এসিড নিক্ষেপের মতো ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন৷ এর সঙ্গে প্রযুক্তির মাধ্যমেও নারীদের নতুন নতুন পদ্ধতিতে নির্যাতন করা হচ্ছে৷ ইন্টারনেট, মোবাইল, পর্নোগ্রাফির মাধ্যমে নির্যাতিত হচ্ছেন নারীরা৷ বিশেষ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা তাদের বন্ধু-বান্ধবদের দ্বারা এই নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন৷ নির্যাতিতরা আইন সহায়তার জন্য আসছেন৷ কিন্তু সাইবার ক্রাইমের কোনো আইন না থাকায় এ বিষয়ে তাদের সহযোগিতা করা যাচ্ছে না৷ এ ধরনের নির্যাতনের ক্ষেত্রে এখনও আইনের কোনো সুরক্ষা নারীদের দেয়া হয়নি৷ প্রত্যেক সরকারের আমলেই নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে৷ তবে অতীতের চেয়ে ঘটনার ভয়াবহতা ক্রমেই বাড়ছে৷ নারী নির্যাতনের বিশেষ করে অপহরণ ও ধর্ষণের ঘটনাগুলো কারা বেশি ঘটাচ্ছে তাও পত্রিকার খবরে প্রতিদিন প্রকাশ পাচ্ছে৷ বেশির ভাগ ঘটনায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকারি দলের লোকজন জড়িত৷ মুজিব আমলে একটি শ্লোগান ছিলো মানুষের মুখে মুখে৷ আর তা হচ্ছে, আওয়ামী লীগের তিনটি গুণ-লুট, ধর্ষণ, মানুষ খুন৷ মুজিব কন্যার আগের আমলেও (১৯৯৬-২০০১) দেখা গেছে, অপহরণ-ধর্ষণের মচ্ছব৷ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের এক নেতা ঘটা করে ধর্ষণের সেঞ্চুরি উদযাপন করে৷ এবারও বলতে গেলে কেই অবস্থা চলছে৷ ২০১১ সালে বিশ্ব নারী দিবস উপলক্ষে অধিকারের সমীক্ষায় দেখা গেছে, ওই বছর তিন হাজার ৪৭৫ জন নারী ও মেয়ে শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে৷ পুলিশ সদর দফতরের রেকর্ড অনুযায়ী ২০১১ সালে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে তিন হাজার ৩৪৪টি এবং ২০১২ সালে সে সংখ্যা নভেম্বর পর্যন্তই দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৪০৭-এ৷ মানবাধিকার সংগঠনসূত্রে জানা গেছে, ডিসেম্বর মাসে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে প্রায় আড়াইশ৷ মোট হিসাবে যা আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি৷ ঋঁঃঁত্বং রিঃযড়ঁঃ ারড়ষবহপব.ড়ত্ম.-এর জরিপ মতে, সারা বিশ্বে গড়ে প্রতি চারজনে একজন নারী যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন৷ আর জাতিসংঘের হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট প্রতিবেদন অনুযায়ী দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলের মধ্যে বাংলাদেশেই ধর্ষণের হার সবচেয়ে বেশি৷ সুতরাং নারী নির্যাতন প্রতিরোধের কোনো আন্দোলনের ঝড়তুফান ক্রমবর্ধমান এ ধর্ষণের শিকড় উত্পাটন করতে পারছে না! কারণ, তারা পুঁজ ও দূষিত রক্ত বের না করে ব্যান্ডেজ লাগানোর জন্য মরিয়া৷ ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৩ দৈনিক দিনকালে প্রকাশ, প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে৷ পাশবিকতার শিকার হচ্ছে স্কুল-কলেজের ছাত্রী এমনকি শিশুরাও৷ ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ঘটছে বহু৷ অনেক ক্ষেত্রেই ঘটছে লাশ গুম করার ঘটনা৷ পরিচয় নিশ্চিহ্ন করতে নারীকে পুড়িয়েও হত্যা করা হচ্ছে৷ শুধু তাই নয়, নির্যাতনের প্রতিবাদ করতে গিয়ে খুন হতে হচ্ছে অভিভাবকদের৷ মোট কথা, দেশে এখন নারী নির্যাতনের যেসব ঘটনা ঘটছে তা রীতিমত লোমহর্ষক ও বীভত্স৷ তার মধ্যে আছে, গত ২০১২ সালের ৫ জুলাই ভর দুপুরে সখীপুর বাজারে খাতা কিনত গিয়েছিলো একটি মেয়ে৷ বাড়ি ফেরার পথে মেয়েটিকে ধরে নিয়ে গিয়ে ছাত্রাবাসে ধর্ষণ করে উপজেলা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী৷ ধর্ষণের ভিডিও চিত্রও ধারণ করা হয়৷ ২০১২ সালের ৬ জানুয়ারি কলেজ ছাত্রী এক নৃত্য শিল্পীকে ধর্ষণ করতে গিয়ে ধরা পড়ে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক৷ ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আলোচনায় আসে পিরোজপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অভি৷ অভিযোগ ওঠে, প্রেমিকার নগ্ন ছবি সে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়৷ ২০১২ সালের ১৯ জানুয়ারি সিলেটের জকিগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতা মিছবা জামান কর্তৃক ধর্ষিত হন এক নারী৷ একই বছর ২৪ জানুয়ারি সরাইলে যুবলীগ ক্যাডার জাকির কর্তৃক যৌন হযরানির শিকার হন এক তরুনী৷ গত চার বছর ধর্ষণের বেশিরভাগ ঘটনায় জড়িত সরকারদলীয় নেতা-কর্মী ও ক্যাডাররা৷ এ অবস্থা কোনো সুস্থ শান্তিকামী সমাজের পরিচয় বহন করে না৷ মানিকগঞ্জে চলন্ত বাসে এক নারীকে ধর্ষণ করে দিল্লীর ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটানো হয়েছে বাংলাদেশেও৷ চট্টগ্রামের সিএনজি চালিত অটো রিকশায় ধর্ষিত হয়েছেন এক নারী৷ নারীর প্রতি যৌন লালসার হিংসা তা থেকে বাদ যাচ্ছে না নারী শিশুরাও৷ অনেকেই লোক-লজ্জার ভয়ে নির্যাতনকে চাপা দেন৷ আবার অনেকে সমাজের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করে আত্মহত্যার পথ অবলম্বন করেন৷ বখাটেদের উত্পাত থেকে বাঁচতে অনেক মেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে৷ তবুও বন্ধ হয়নি ইভটিজিং৷ রাস্তাঘাটে চলতে গিয়ে শুধু কিশোরী বা তরুণীরাই নয়, সব বয়সী নারীই বখাটেদের আক্রমণের শিকার হচ্ছে৷ সামপ্রতিক সময়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বখাটেদের ইভটিজিং বা উত্পাতের কারণে স্কুল-কলেজ ছাত্রীদের আত্মহত্যার ঘটনা আশংকাজনকভাবে বেড়ে গেছে৷ দেশের বিভিন্ন মানবাধিকার ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষে ইভটিজিং প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের দাবি উঠেছে৷ একবিংশ শতাব্দীতে এসেও দেখা যাচ্ছে যৌতুকের কারণে সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হচ্ছে নারীরা৷ সম্পত্তি নিয়ে দ্বন্দ্ব লাগলেই প্রতিপক্ষ পরিবারের নারী সদস্যদের এসিড মেরে দগ্ধ করা হচ্ছে৷ এটা খুবই ভয়াবহ৷ এছাড়া সাইবার অপরাধের সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে নারী৷ শারীরিকভাবে নির্যাতনের পাশাপাশি টেলিফোন, মোবাইল টিজ করে, ইন্টারনেট পর্নোগ্রাফির মাধ্যমে মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে৷ পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকেও নির্যাতিত হচ্ছে নারীরা৷ নিপীড়ন বন্ধে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মামলার প্রেক্ষিতে সুপ্রিমকোর্ট থেকে কয়েকটি গাইডলাইন দেয়া হয়েছে৷ কিন্তু তার একটিও মানা হচ্ছে না৷ বাংলাদেশ ন্যাশনাল উইমেন লইয়ারস এসোসিয়েশনসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান যৌন হয়রানি প্রতিরোধে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বিভাগে একট রিট পিটিশন দায়ের করে৷ রিট পিটিশন নম্বর ৫৯১৬/২০০৮৷ ১৪ মে ২০০৯ হাইকোর্ট বিভাগ রায় প্রদান করেন, যার মধ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা রয়েছে৷ হাইকোর্ট বিভাগ যৌন হয়রানিকে নিম্নোক্তভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন-র) অসৌজন্যমূলক যৌন আচরণ (প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ), রর) প্রশাসনিক, কর্তৃত্বমূলক বা পেশাগত কোনো ক্ষমতার অপব্যবহার করে দৈহিক সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা, ররর) মৌখিক যৌন আচরণ, রা) যৌন কাজে অনুরোধ করা, া) নোংরা ছবি প্রকাশ করা, ার) অসৌজন্যমূলক ভাষা ব্যবহার করা, যার দ্বারা প্রতীয়মান হয় এটা যৌন হয়রানি, ারর) চিঠিপত্র, টেলিফোন, মোবাইল ফোন এসএমএস, ক্লাসরুম বা ওয়ালরুমে কোনো কিছু লেখা বা যৌন কার্যাদির মধ্যে পড়ে, াররর) খারাপ কিছু ভিডিও করা, এভাবে ব্ল্যাকমেইল করা, রী) ভালোবাসার প্রস্তাব দেওয়া এবং ক্রমাগত চাপ প্রয়োগ করা, যাতে প্রস্তাবে সাড়া দেয়, ী) ভয়-ভীতি, প্রতারণার মাধ্যমে যৌন সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা৷ উদ্দেশ্য ঃ র) যৌন হয়রানির বিষয়ে সবাইকে সচেতন করা, রর) যৌন অপরাধ বিষয়ে সচেতন করা, ররর) এবং এ অপরাধের জন্য কী শাস্তির বিধান আছে সেটাও জানানো৷ এ উদ্দেশ্যে প্রতিটা সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ড়িত্শরহম ঢ়ষধপব-এ একটি পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট কমপ্লেইন্ট কমিটি গঠন করতে হবে, যার সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য হবেন মহিলা৷ কমিটির সভাপতিও হবেন একজন মহিলা৷ কোনো প্রতিষ্ঠানের কোনো মহিলা কর্মচারী যদি ওই প্রতিষ্ঠানের পুরুষ কর্মকর্তা বা কর্মচারীর দ্বারা হয়রানির শিকার হন তাহলে ৩০ দিনের মধ্যে এই কমিটির কাছে অভিযোগ দায়ের করতে হবে৷ নালিশের বিষয় যদি গুরুতর না হয়, তবে সে অনুযায়ী রিপোর্ট কর্তৃপক্ষকে জানাবেন৷ কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে৷ আর যদি অভিযোগ গুরুতর হয়, তাহলে কমিটি তদন্ত করবে এবং তদন্তের ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশসহ রিপোর্ট দেবে৷ কেউ যদি মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা আছে৷ (সূত্রঃ দৈনিক কালের কন্ঠ ১০ জুলাই ২০১০) একজন নারীর একজন পুরুষের সাথে বিয়ে হওয়া মানেই কি তার দেহ-মন, ধনসম্পদ এমনকি প্রাণটা পর্যন্ত সঁপে দেয়া? কিছু আইন হওয়ায় নারী নির্যাতনের মাত্রা কিছুটা কমেছে৷ কিন্তু যেসব নারী পুরুষদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে সাহসী ভূমিকা রাখছেন, ক'জন নারীই বা তাদের পক্ষাবলম্বন করে থাকেন! নারী ও শিশু নির্যাতন বিরুদ্ধে আইরে সহজভাবে প্রতিকার রয়েছে৷ নিযর্াতিত যে কেউ নিকটস্থ থানায় গিয়ে বিষয়টি জানালে বিষয়টি থানার ওসি এজাহার হিসেবে গণ্য করলে তিনি ঘটনাটি প্রাথমিক তথ্য বিবরণী ফরমে লিপিবদ্ধ করবেন৷ এটি নথিভুক্ত করে সংশ্লিষ্ট এখতিয়ারসম্পন্ন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে প্রেরণ করবেন৷ মামলাটি সংশ্লিষ্ট এখতিয়ারাধীন ম্যাজিষ্ট্রেট গ্রহণ করলে, ওই মামলার আসামিদের আদালতের সামনে উপস্থিত হওয়ার জন্য একটি তারিখ ধার্য করবেন এবং পরবর্তী সময়ে মামলাটি বিচারের জন্য নারী ও শিশু নির্যাতন অপরাধ দমন ট্রাইবু্যনালে পাঠাবেন৷ এরপর ট্রাইবু্যনাল মামলাটির বিচারের জন্য সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ধার্য করলে সেই তারিখে মামলাটির বাদী ও ভিকটিমকে আদালতের সামনে হাজির হয়ে সাক্ষ্য দিতে হবে এবং মামলার পরবর্তী কার্যক্রম চলতে থাকবে৷ যদি থানার ওসি অভিযোগটি গ্রহণ করতে সম্মত না হন, তাহলে থানায় যে কারণে মামলাটি গ্রহণ করা হয়নি সেই কারণ থানা কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট ফরমে লিপিবদ্ধ করে নিয়ে আরজি দাখিলের মাধ্যমে সরাসরি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবু্যনালে মামলা করতে পারবেন৷ এক্ষেত্রে মামলাকারী ব্যক্তিকে প্রথমে নারী ও শিশু নির্যাতন অপরাধ দমনে নিযুক্ত নারী ও শিশু পাবলিক প্রসিকিউটরের সামনে এফিডেভিট করে এবং সংশ্লিষ্ট আরজিটি নারী ও শিশু পাবলিক প্রসিকিউটর কর্তৃক সত্যায়িত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবু্যনালে মামলা করতে হবে৷ মামলার জন্য প্রস্তুতকৃত আরজিটি যখন জজ বিচারকের সামনে হাজির করা হবে, তখন ভিকটিমকে নিজে আদালতে উপস্থিত হয়ে বিচারকের সামনে তাঁর জবানবন্দি দিয়ে মামলা করতে হবে৷ আদালত ভিকটিমের জবানবন্দি শোনার পর যদি মামলার সত্যতা থাকতে পারে মর্মে ধারণা করেন, তাহলে তিনি মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন মামলা হিসেবে আমলে নিয়ে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন৷ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় বাদী নিজস্ব কোনো আইনজীবী নিয়োগের প্রয়োজন নেই৷ এ ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯২ ধারা প্রযোজ্য৷ এ বিধান অনুসারে ভিকটিম সরকারের পক্ষ থেকে আইনজীবী পাবেন৷ তিনিই মামলার সব তত্ত্বাবধান করবেন৷ যদি বাদী নিজে আইনজীবী নিয়োগ দিতে চান তাহলে সেই আইনজীবী সরকারি আইনজীবীর অধীনে কাজ করবেন৷ সরকারের পক্ষ থেকে নিয়োগ দেওয়া আইনজীবীকে কোনো খরচ দিতে হবে না৷ প্রতিটি জেলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন একটি করে ট্রাইবু্যনাল রয়েছে৷ এই আইনে ট্রাইবু্যনাল 'রুদ্ধদ্বার কক্ষে বিচার' পরিচালনাও করতে পারেন৷ কোনো ব্যক্তির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বা স্বীয় বিবেচনায় উপযুক্ত মনে করলে বিচারক শুধু মামলার দুই পক্ষকে এবং তাদের নিয়োজিত আইনজীবীদের নিয়ে বিচার পরিচালনা করতে পারেন৷ তা না করলে বিধান মোতাবেক বিচার পরিচালিত হবে৷ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ী ট্রাইবু্যনাল ১৮০ দিনের মধ্যে বিচারকাজ শেষ করবেন৷ ট্রাইবু্যনাল যদি ১৮০ দিনের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তার কারণ সংবলিত একটি প্রতিবেদন ৩০ দিনের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করবেন৷ যার একটি অনুলিপি সরকারকেও দিতে হবে৷ তা ছাড়া এক্ষেত্রে পাবলিক প্রসিকিউটর ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা ৩০ দিনের মধ্যে সরকারের কাছে কারণ উল্লেখপূর্বক প্রতিবেদন দাখিল করবেন৷ এ রকম দাখিলকৃত প্রতিবেদনগুলো যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বিবেচিত হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ার জন্য দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে৷ এই আইন অনুযায়ী পুলিশ যদি অভিযোগ গ্রহণ না করে সে ক্ষেত্রে ট্রাইবু্যনাল সরাসরি বিচারের জন্য অভিযোগ নিতে পারবে৷ এই বিধানটি যদি বাস্তবে প্রয়োগ করা হয়, তবে জনগণের অভিযোগ করা অনেক সহজ হবে৷ এই আইনের অধীন বিচার চলাকালে যদি ট্রাইবু্যনাল মনে করে কোনো নারী বা শিশুকে নিরাপত্তামূলক হেফাজতে রাখা প্রয়োজন, তাহলে ওই নারী বা শিশুকে কারাগারের বাইরেও সরকার কর্তৃক নির্ধারিত স্থানে বা যথাযথ অন্য কোনো ব্যক্তি বা সংস্থার হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিতে পারেন৷ বিচার চলাকালে যদি অপরাধী মহল নির্যাতিত নারী বা শিশুকে আবার কোনো ধরনের আঘাত করে বা করতে চায় তা থেকে রক্ষা করার জন্য এই বিধান৷ তা ছাড়া ভিকটিমকে চিকিত্সা দেওয়ার জন্যও হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিতে পারেন ট্রাইবু্যনাল৷ তবে কোনো নারী বা শিশুকে নিরাপত্তা হেফাজতে রাখার আদেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাইবু্যনাল ওই নারী বা শিশুর মতামত গ্রহণ ও বিবেচনা করবেন৷ অভিযুক্ত ব্যক্তি হাতেনাতে পুলিশ বা অন্য কোনো ব্যক্তির হাতে আটক হয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ হলে তার ১৫ দিনের মধ্যে অপরাধী ধরা না পড়লে সংঘটনের তথ্যপ্রাপ্তির অথবা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্তৃক তদন্তের নির্দেশ পাওয়ার পর থেকে ৬০ দিনের মধ্যে ওই দুই দফায় বর্ণিত অবস্থা মতে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত সমাপ্ত না হলে তার কারণ ব্যাখ্যা করে সংশ্লিষ্ট ট্রাইবু্যনালকে জানাতে হবে ৩০ কর্ম দিবসের মধ্যে৷ যদি সেটাও সম্ভব না হয়, তদন্ত সমাপ্ত না করতে পারলে ২৪ ঘন্টার মধ্যে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে৷ ট্রাইবু্যনাল তদন্ত সমাপ্ত না করার তথ্যপ্রাপ্তির পর কর্তৃপক্ষ তদন্তের দায়িত্ব অন্য কর্মকর্তার ওপর অর্পণের আদেশ দানের নির্দেশ দিতে পারেন৷ এই আদেশ দেওয়ার সাত দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে হবে৷ যৌতুক নিরোধ আইন-১৯৮০ প্রণীত হয়েছিল বিবাহের সময় বিবাহ বা পরবর্তী সময়ে যৌতুক হিসেবে বিবাহের পণরূপে যে কোন সম্পত্তি বা মূল্যবান জামানত প্রদান, গ্রহণ অথবা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যৌতুক দাবি নিষিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে৷ বাংলাদেশে প্রচলিত আইনগুলোর মধ্যে সম্ভবত যৌতুক নিরোধ আইনটি বহুল প্রচলিত৷ আইনটি ছোট হলেও এটি তার ছোট্ট পরিসরেই তার নামের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সব উপাদানই ধারণ করেছে৷ এই আইনটিতে 'যৌতুক বলতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রদত্ত যে কোনো সম্পত্তি বা মূল্যবান জামানত বোঝাবে, যা বিবাহের একপক্ষ অন্য পক্ষকে অথবা বিবাহের কোনো এক পক্ষের মা-বাবা বা অন্য কোনো ব্যক্তি কর্তৃক বিবাহের যে কোন পক্ষকে বা অন্য কোনো ব্যক্তিকে বিবাহ মজলিশে অথবা বিবাহের আগে বা পরে, বিবাহের পণরূপে প্রদান করে বা প্রদান করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়৷ সন্দেহ নিরসনকল্পে এতদ্বারা জ্ঞাত করা হলো যে বিবাহের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নন এমন কোনো ব্যক্তি কর্তৃক স্বামী বা স্ত্রী যে কোনো পক্ষকে অনধিক ৫০০ টাকা মূল্যমানের কোনো জিনিস বিবাহের পণ্য হিসেবে নয়, উপঢৌকন প্রদান করলে অনুরূপ উপঢৌকন এই ধারামতে যৌতুক হিসেবে গণ্য হবে না৷ দণ্ডবধির ৩০ ধারায় মূল্যবান জামানত যে অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, এই আইনেও ওই শব্দাবলি একই অর্থ বোঝাবে৷ এই সংজ্ঞা থেকে যৌতুক বলতে কী বোঝাবে তার একটি পরিপূর্ণ ধারণা পাওয়া যায়৷ প্রচলিত ধারণা মতে মনে হতে পারে, এই আইনে শুধু স্ত্রী বা স্ত্রীপক্ষই মামলা করতে পারে৷ কিন্তু ওপরের সংজ্ঞা থেকে এটি স্পষ্ট যে স্বামী বা স্বামীপক্ষ যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তবে তারাও এ আইনে মামলা করতে পারে এবং এ ধরনের উদাহরণ বিরল নয়৷ এ আইনের যাবতীয় অপরাধ আমল অযোগ্য৷ অর্থাত্ আদালত কর্তৃক পাঠানো কোনো পরোয়ানা ছাড়া এ আইনের অধীনে পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারবে না৷ এ আইনের সব অপরাধ জামিন অযোগ্য এবং আপসযোগ্য হবে৷ এ আইনে যৌতুক প্রদানকারী বা গ্রহণকারী বা দাবিকারী বা প্রদান বা গ্রহণে সহায়তাকারীকে সাজা প্রদান করার জন্য ৩ ও ৪ ধারায় দন্ডের বিধান রাখা হয়েছে৷ ৩ ও ৪ ধারা মতে, সর্বনিম্ন দন্ড এক বছর কারাদন্ড ও সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদন্ড এবং সঙ্গে জরিমানার বিধানও রয়েছে৷ প্রতিটি আইন করা হয় কিছু সুনির্দিষ্ট বর্তমান বা ভবিষ্যতে উদ্ভব হতে পারে এ ধরনের কিছু বিষয়কে মাথায় রেখে৷ আইনটির উদ্দেশ্যই থাকে সেই বিষয়গুলোকে পরিপূর্ণভাবে রোধ বা প্রতিবিধানের ব্যবস্থা করার৷ আলোচ্য আইনটিও এর ব্যতিক্রম নয়৷ এ আইনটি যেমন বহুল ব্যবহৃত, তেমনি এর অপব্যবহারের উদাহরণও কম নয়৷ এ আইনের অধীনে আইনজীবীরা তাঁদের মক্কেল কর্তৃক সরবরাহকৃত তথ্যমতে প্রস্তুতকৃত বেশিরভাগ অভিযোগই মিথ্যায় ভরপুর থাকে৷ অহেতুক হয়রানি করার জন্য স্বামীর পরিবারের আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা সবাইকে আসামি করে দেওয়া হয়৷ মনগড়া যে বক্তব্য বা ঘটনার তারিখ উল্লেখ করা হয়, সাক্ষ্য প্রদানকালে সেটি হয়তো স্বয়ং ফরিয়াদিই ভুলে বসে থাকেন৷ স্বয়ং অভিযোগকারিনি যদি মামলার ঘটনার তারিখ, সময়, স্থান এবং অভিযুক্তদের ঘটনা সংঘটনে ভূমিকা প্রভৃতি বিষয় স্পষ্টভাবে বলতে না পারেন, তবে অন্য সাক্ষীরা কী বলবেন বা মামলার রায়ে কী হবে সেটি সহজেই অনুমেয়৷ এক ব্যক্তি তার নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে যতটা সাবলীল, স্বতঃস্ফূর্তভাবে বর্ণনা করবেন, বানানো বা সাজানো ঘটনার ক্ষেত্রে ঠিক ততটাই মুখস্থ বিদ্যার ওপর নির্ভর করবেন, যা তাঁর বাচনভঙ্গি, আচরণকৃত বক্তব্য এবং জেরার বক্তব্য থেকে স্পষ্টরূপে প্রতিভাত হবে৷ একজন বিজ্ঞ ম্যাজিষ্ট্রেট যদি এ ধরনের সাক্ষীকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন, তবে সহজেই সাক্ষী বানানো মুখস্থ সাক্ষ্য দিচ্ছেন কি না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারেন৷ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, পারিবারিক ঝগড়া-বিবাদ, মনোমালিন্যকে পুঁজি করে অন্যপক্ষকে শায়েস্তা বা শিক্ষা দেওয়ার জন্য এ আইনের অধীনে মামলা করা হয়৷ একজন ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তি যখন কোনো আইনি আশায় আইনজীবীর দ্বারস্থ হন, তখন আইনজীবীর দায়িত্ব হলো ওই ব্যক্তির বক্তব্য গভীরভাবে শোনা এবং ওই বক্তব্যের কতটুকু আইনি কাঠামোয় পড়ে, কতটুকু পড়ে না, সে সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া৷ অহেতুক আসামির সংখ্যা বৃদ্ধি অভিযোগের সত্যতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে৷ জিবলু রহমান : লেখক ও সংগঠক৷
Email: [email protected]
