ঈদ বাজার : দেশীয় ঐতিহ্য তুলে ধরছে বুটিক হাউজ
প্রকাশিত : ০৬:৩৮ পিএম, ৮ জুলাই ২০১৫ বুধবার | আপডেট: ০৬:৩৮ পিএম, ৮ জুলাই ২০১৫ বুধবার
মাজেদুল হক তানভীর,স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, উইমেননিউজ২৪.কম,ঢাকা : রাজধানীতে ঈদকে সামনে রেখে জমজমাট ব্যবসায় মেতেছে বুটিক হাউসগুলো। এক্সক্লুসিভ আর রুচিসম্মত কালেকশনের কারণে প্রতিটি বুটিক হাউসে ধুম পড়েছে কেনাবেচার। চলছে বিকিকিনির তোড়জোর। ঈদকে সামনে রেখে অনেক নতুন আর ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাও একত্রিত হয়ে ছোট পরিসরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মেলার আয়োজন করেছে। ক্রেতাদের হাতে দেশীয় মানসম্পন্ন পোশাক তুলে দিতেই এমন সব আয়োজন বলে জানান তারা। আর তাই ক্রেতা আকর্ষণে নিজস্ব ডিজাইনের বিশেষ পোশাক নিয়ে ঈদের পসরা সাজিয়েছে বসেছে তারা।
ক্রেতারা বলছে, ঈদ উদযাপনে পোশাকে যদি নতুনত্ব না থাকে কিংবা ফ্যাশনেবল না হয়,তাহলে ঈদ আনন্দ যেন অপূর্ণ থেকে যায়। জানা গেছে বরাবরের মত এবারো ক্রেতাদের চাহিদা এবং পছন্দের কথা বিবেচনা করে নিত্য নতুন ধারার পোশাক তৈরিকে গুরুত্ব দিচ্ছে বুটিক হাউসগুলো। দামও থাকছে পোশাকের মান অনুযায়ী।
শুধু সালোয়ার কামিজ কিংবা শাড়ি কিনতে নয়;ফতুয়া,পাঞ্জাবি, গহনা,হাতব্যাগ,পার্স সবই পাওয়া যাচ্ছে বুটিক হাউসগুলোতে। এসব পণ্যসামগ্রী দেশীয় সুতা,কাপড়,রং আর বাড়তি অলঙ্করণ দিয়ে তৈরি। নতুন করে অনেক বুটিক হাউসে শুরু হয়েছে আউটলেট। এসব আউটলেটগুলোতেও জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা।
রঙ, কে-ক্রাফট, আড়ং, অঞ্জনস,সাদা কালো,দেশাল, মান্ত্রা, মিনি মাইডাস, অরণ্য, যাত্রাসহ দেশীয় ব্র্যান্ড হিসেবে খ্যাত বুটিক হাউগুলো এরই মধ্যে ক্রেতার চাহিদার দিকে খেয়াল রেখে নিজেদের পশরা সাজিয়ে বসেছে।
কথা হয় কে-ক্রাফটে কেনাকাটা করতে আসা ফাহমিদা হামিদের সাথে। তিনি বললেন,আমার স্বামীর জন্য পাঞ্জাবী,নিজের জন্য সালোয়ার-কামিজ,শাশুড়ীর শাড়ি,ছোট মেয়েটার জন্য জামা এখান থেকেই নিলাম।
দেশের খ্যাতনামা বুটিক হাউজ কে-ক্রাফট এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর মাইনুদ্দীন বলেন,আমাদের এখানে দেশীয় পণ্য হিসেবে নারী পুরুষ উভয়ের জন্যই যে সব পোশাক রাখা হয়েছে তার সবগুলোই এদেশের মধ্যবিত্তশ্রেণীর ক্রেতাদের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা। এক্সক্লুসিভ কিছু আছে যা উচ্চবিত্তরা নিয়ে থাকেন। তারপরও বিদেশী পোশাকের চাইতে এগুলো দেখতে সুন্দর এবং আরামদায়ক হবে। তিনি আরো বলেন, এখন ১৭শত টাকায় ঈদ উৎসবে পড়ার মত ড্রেস অন্য কোথাও পাবেন না। আমাদের শো রুমগুলোতেই শুধু পাবেন। পোশাকের পাশাপাশি মেয়েদের পার্স,ম্যাচিং ইমিটেশন গহনাও আমরা রাখি। কালার গ্যারান্টিসহ সুলভ মূল্যে পছন্দের জিনিস বেছে নিতে পারবে সবাই।
বেইলীরোডে প্রতি বছর ঈদ মৌসুমে মেলা হয়। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। বেশ কয়েকটি মেলা বসেছে এই এলাকায়। মেলায় তুলনামূলক কম দামে টাঙ্গাইল তাঁতের শাড়ি পেয়ে খুব খুশি শান্তিনগর নিবাসী মিসেস লাকী। তিনি বলেন,মাত্র ৭শত টাকা দিয়ে একটা টাঙ্গাইল সুতি শাড়ি কিনেছি। এটা মার্কেটে ১৫শ টাকার নিচে পেতাম না।
এদিকে মগবাজার ‘আড়ং’-এ ঘুরে দেখা গেলো পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে অনেকে ক্রেতাই এখানে ভিড় করছেন। নিজেদের পছন্দ মতো কেনাকেটায় ব্যস্ত তারা।
তবে এখানকার বিক্রেতারা বলছেন, মাঝে বৃষ্টির আনাগোনার কারণে ক্রেতাদের উপস্থিতি একটু কম। তবে এর মাঝেও কেনাবেচা ভালই হচ্ছে। ক্রেতারা বলছেন,এখানকার দেশীয় পোশকগুলো আমাদের ঐতিহ্য এবং রুচিসম্পন্ন। বাইরের পোশাকের চেয়ে দেশীয় পেশাকগুলোর কাপড় ও রঙ সুন্দর। তবে বাইরের পোশাকের তুলনায় দেশীয় পোশাকের দাম একটু বেশি।
ফ্যাশন হাউজ ‘রঙ’যেকোনো উদযাপনের সময় ভিন্ন নকশার ও ডিজাইনের শাড়ির কালেকশন রাখে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তাই তরুণীরাও তাদের পছন্দ মতো ‘রঙ’ থেকে বেছে নিচ্ছেন পছন্দের সেরা শাড়িটি।
রঙয়ের স্বত্তাধাকারী বিশিষ্ট ফ্যাশান ডিজাইনার বিপ্লব সাহা উইমেননিউজকে বলেন, ক্রেতার সাধ ও সাধ্যের কথা মাথায় রেখেই আমাদের ঈদ আয়োজন। ক্রেতা যাতে তুলনামূলকভাবে কম দামে তার প্রিয় পোশাকটি পান সে ব্যবস্তাই আমরা করেছি। তিনি বলেন, দেশীই ঐতিহ্যকে পোশাকের মাধ্যমে তুলে ধরাই আমাদের লক্ষ্য। বিদেশী পোশাক নয়, দেশের মানুষ দেশী পোশাক বেশি বেশি পরুন আমরা তাই চাই। এতে দেশীয় ঐতিহ্য বাঁচবে; বাঁচবে তাঁতশিল্প।
এছাড়া অঞ্জনস,সাদা কালো,দেশালসহ সেরা ফ্যাশন হাউজগুলো দেশীয় পণ্য নিয়ে তাদের ঈদ কালেকশন সাজিয়েছে। এখন শুধুই ক্রেতাদের প্রিয় জিনিসটি বেছে নেবার পালা। তবে শুধু উৎসবকেন্দ্রিক নয়,বছর জুড়েই দেশীয় শিল্পের প্রসারে বুটিক হাউজগুলো কাজ করছে বলেও মত সংশ্লিষ্টদের।
০৯.০৭.২০১৫ 