ঢাকা, শুক্রবার ১০, জুলাই ২০২৬ ১৩:২৪:২৫ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

মহাত্মা গান্ধী ছিলেন হতাশায় ত্রাণকর্তা: শেখ হাসিনা

ডেস্ক রিপোর্ট

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০২:৩৮ পিএম, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ বুধবার

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

মহাত্মা গান্ধীর মানবতার আদর্শ ও নীতিগুলো সব বিভাজন জয়লাভ করবে আশা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, গান্ধীজি একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমিক, একজন রাষ্ট্রনায়ক এবং সাধু; তিনি তার জীবনকে মানবজাতির জন্য উৎসর্গ করেছিলেন। তিনি ছিলেন আশার বাতিঘর, অন্ধকারে আলো এবং হতাশায় ত্রাণকর্তা। তিনি তার উজ্জ্বল ও মন্ত্রমুগ্ধ নেতৃত্ব দিয়ে বিশ্বকে দেখিয়েছিলেন কোনো ব্যক্তি অহিংস উপায়ে পৃথিবীকে নাড়া দিতে পারে এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তন আনতে পারে।

মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় বিকেলে মহাত্মা গান্ধীর ১৫০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ইন্ডিয়ান মিশন আয়োজিত ‘নেতৃত্ব বিষয়ে- সমসাময়িক বিশ্বে মহাত্মা গান্ধীর প্রাসঙ্গিকতা’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুং, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন-জে-ইন, নিউজিল্যাণ্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন সহ সাত দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

মহাত্মা গান্ধীর ১৫০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে পেরে নিজেকে সম্মানিত বোধ করছি। এ বিশেষ দিনে, আমি চাই যে গান্ধীজির মানবিক আদর্শ এবং নীতিগুলি সমস্ত বিভাজনে জয় লাভ করবে এবং আমাদের আগত প্রজন্মের জন্য একটি ন্যায়সঙ্গত বিশ্ব প্রতিষ্ঠা করবে।

ভারতের জাতির পিতা, উপমহাদেশের প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ও আধ্যাত্মিক নেতা, বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে অগ্রগামী ব্যক্তিদের একজন ছিলেন মহাত্মা গান্ধী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এমন এক বিশ্বে বাস করছি, যেখানে ঘৃণা ও ধর্মান্ধতা বিশ্বকে সন্ত্রাসবাদ এবং সহিংস চরমপন্থার দিকে পরিচালিত করছে; মানব জাতিকে আগের চেয়ে আরও বেশি বিভক্ত করছে।

তিনি বলেন, গান্ধীজির জীবন দর্শন এবং সব মানুষের প্রতি তার দ্বিধাহীন সমর্থন করার আদর্শ ক্ষুধা, দারিদ্র্য এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবগুলির মতো বিশ্বব্যাপী উদ্বেগময় চূড়ান্ত চ্যালেঞ্জগুলি কার্যকরভাবে মোকাবেলায় আজও আমাদের একত্রিত করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গান্ধীজি জনগণের ক্ষমতায় বিশ্বাস করতেন; যা (ক্ষমতা) ব্যক্তির মধ্যে থাকে এবং যার মালিক জনগণ নিজেই।

মহাত্মা গান্ধী ১৮৬৯ সালের ২ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি বৃটিশদের হাত থেকে স্বাধীন হয়ে ভারত-পাকিস্তান সৃষ্টির দেড় বছর পরেই দিল্লির বিরলা হাউজে ঘাতকের গুলিতে নিহত হন মহাত্মা গান্ধী।

সামাজিক অবস্থান, প্রথা, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালবাসার কারণে মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীকে মহাত্মা (মহান আত্মা) উপাধি দেওয়া হয়। অহিংস বা সত্যাগ্রহ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা এ মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীকে বেশিরভাগ মানুষ চেনেন মহাত্মা গান্ধী নামেই।

শেখ হাসিনা বলেন, সামাজিক অবস্থান, প্রথা, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের প্রতি তার নিঃস্বার্থ ভালবাসা এবং স্নেহ তাকে ‘মহাত্মা’ উপাধি দিয়েছিল। তার সহনশীলতা, অহিংস এবং সম্প্রীতির সহাবস্থান নীতিগুলো একটি জাতিকে গড়ে তুলতে আমাদের জন্য পদনির্দেশক। আজও পৃথিবীর যেখানে গণতন্ত্র চর্চা হয় সেখানে গান্ধীর বৈচিত্র্যময় আদর্শগুলো অনুসরণ করা হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৪৬ সাল থেকে বাংলাদেশ গান্ধী আশ্রম ট্রাস্ট রয়েছে, এ জন্য আমরা গর্বিত। পল্লী উন্নয়ন, শান্তি এবং সামাজিক সম্প্রীতির জন্য এটি গান্ধীবাদী দর্শন অনুসরণ করে।

বঙ্গবন্ধু তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকে গান্ধীর আদর্শ দ্বারা অনুপ্রাণিত ছিলেন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, গান্ধীজির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের সঙ্গে সঙ্গে আমি আমার পিতা এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করি, যিনি গান্ধীজি থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছিলেন। ২০২০ সালের মার্চ মাসে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উদযাপন করার প্রস্তুতি নিচ্ছি আমরা।

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, শান্তিকামী বাঙালির ওপর তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকদের অত্যাচার ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে বঙ্গবন্ধুকে অনুপ্রেরণা দিয়েছিল গান্ধীজির সাধারণ মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং অহিংস নীতি।

শেখ হাসিনা বলেন, উস্কানির মুখেও বঙ্গবন্ধু নিরব ছিলেন এবং অহিংস নীতির প্রতি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলেন। যদিও পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু অবশ্য নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনীর নির্বিচার গণহত্যা শুরু করলে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ ভোরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র লড়াইয়ের আহ্বান জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি যখনই বঙ্গবন্ধুর ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্ব, তার ত্যাগ এবং মানুষের জন্য তার সংগ্রামের দিকে নজর দেই, আমি মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে অনেক মিল খুঁজে পাই।

-জেডসি