জাতিসংঘে পাকিস্তানকে যে জবাব দিলেন বিদিশা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১১:৩৮ পিএম, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ শনিবার
জাতিসংঘে ভারতের ফার্স্ট সেক্রেটারি বিদিশা মৈত্র। ছবি সৌজন্য টুইটার।
মাত্র ৫০ মিনিটের বক্তব্য আর পাঁচটা প্রশ্ন, তাতেই পাকিস্তানের মুখোশ খুলে দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের ফার্স্ট সেক্রেটারি বিদিশা মৈত্র।
শুক্রবার জাতিসংঘের সাধারণ সভায় ভারতকে আক্রমণের জবাব যে ভাবে দিলেন এই কূটনীতিক, তা দেখে গোটা ভারত মুগ্ধ। সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো চর্চা শুরু হয়ে গেছে তাকে নিয়ে।
জানা গেছে, ইন্ডিয়ান ফরেন সার্ভিস-এর ২০০৯ ব্যাচের ক্যাডার বিদিশা। ২০০৮-এ সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা পাশ করেন তিনি। সারা দেশের মধ্যে ৩৯ র্যাঙ্ক করেছিলেন তিনি। ২০০৯-এ পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের ‘বেস্ট অফিসার ট্রেনি’ হিসেবে গোল্ড মেডেল পান।
পারমানেন্ট মিশন অব ইন্ডিয়া টু দ্য ইউএন-এর সরকারি ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী জাতিসংঘে ভারতের কনিষ্ঠতম সদস্য বিদিশা। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভারত কোন বিষয়গুলি তুলবে তা দেখার দায়িত্বে রয়েছেন তিনি।
জাতিসংঘের সাধারণ সভা থেকে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ভারতকে রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। অতএব ভারতেকে তার জবাব দিতেই হত কূটনৈতিক ভাবে! আর সেই জবাব দেওয়ার দায়িত্ব পেয়েছিলেন বিদিশা। মাত্র ৫০ মিনিট সময় নিয়েছিলেন তিনি পাকিস্তানের সমুচিত জবাব দেওয়ার জন্য। আর সেই সময়ে মাত্র পাঁচটা প্রশ্নবাণ ছুড়ে দিয়েছেন পাকিস্তানের দিকে। যা শুনে গোটা দেশ মুগ্ধ।
পাকিস্তানের কাছে তার প্রশ্ন ছিল, জাতিসংঘের তালিকায় থাকা ১৩০ জন জঙ্গি যে তাদের দেশেই রয়েছে সেটা কি অস্বীকার করতে পারবেন ইমরান? বিশ্বের একমাত্র সরকার যারা জাতিসংঘের নিষিদ্ধ তালিকায় থাকা আল-কায়দাকে পেনশন দেয়, পাকিস্তান কি অস্বীকার করতে পারবে এটা?
ইমরানের ভাষণ প্রসঙ্গে বিদিশা আরও বলেন, “এটা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক যে, পাক প্রধানমন্ত্রী গোটা বিশ্বকে আড়াআড়ি ভাবে ভাগ করে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। আমরা-ওরা, ধনী-গরিব, উত্তর-দক্ষিণ, উন্নত-উন্নয়নশীল এবং মুসলিম-অন্যান্য। তার এই ভাষণ প্ররোচনামূলক। ঘৃণায় ভরা।”
পাশাপাশি বিদিশা আরও বলেন, “জাতিসংঘের মঞ্চকে অন্যায় ভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছেন ইমরান। যে ধরনের শব্দ ইমরান প্রয়োগ করেছেন, তার মধ্য দিয়েই তার মধ্যযুগীয় মানসিকতার প্রতিফলন ঘটেছে। যা একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে একেবারেই অনভিপ্রেত।”
ভারতের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের যে অভিযোগ তুলেছেন ইমরান, সেই হাতিয়ারেই জাতিসংঘের মঞ্চে তাকে বিদ্ধ করেছেন বিদিশা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যে দেশে সংখ্যালঘুদের অবস্থা শোচনীয়, তারা কী ভাবে ভারতকে মানবাধিকারের পাঠ পড়াতে আসছে!”
