‘পুলিশ দিয়ে ছাত্র আন্দোলন দমন করা যায়নি, যাবেও না’
প্রকাশিত : ০২:৪৬ পিএম, ১৩ আগস্ট ২০১৫ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৩:৫২ পিএম, ১৩ আগস্ট ২০১৫ বৃহস্পতিবার
মাজেদুল হক তানভীর, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, উইমেননিউজ২৪.কম, ঢাকা : বাংলাদেশে আজ পর্যন্ত পুলিশ দিয়ে কোন ছাত্র আন্দোলন দমন করা যায়নি, ভবিষ্যতেও যাবেও না।
আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে শাহাবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে সমাবেশে শিক্ষার্থীরা এসব কথা বলেন।
তারা বলেন, আজকের সমাবেশে ব্যাপক পুলিশের উপস্থিতি আমাদের অবাক করেছে। দেশকে যারা ধ্বংশের দিকে নিয়ে যায় তাদের ধরতে এই তৎপরতা দেখা যায় না। অথচ আমাদের ন্যায্য দাবির আন্দোলন দমনে পুলিশ সদা প্রস্তুত। আমরা হুশিয়ারি দিয়ে বলতে চাই পুলিশ দিয়ে এই দেশের কোন ছাত্র আন্দোলন দমন করা যায়নি আর যাবেও না।
শিক্ষার উপর আরোপিত ৭.৫% ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে ‘নো ভ্যাট অন এডুকেশন’র ডাকে আজ শাহবাগ থেকে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় অভিমুখে শিক্ষার্থীরা যাত্রা শুরু করলে পুলিশ শিক্ষার্থীদের বাধা দেয়। এসময় ব্যারিকেড ভাঙতে গিয়ে পুলিশরে সাথে ধাক্কাধাক্কিতে আহত হন প্রায় ১০ থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীরা পুলিশের তিন স্তরের ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেলের সামনে আবারো ব্যারিকেড তৈরি করা হয়। বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এসময় সেখানেই অবস্থান গ্রহন করেন।
অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে নো ভ্যাট অন এডুকেশন’র প্রধান সমন্বয়ক ফারহান হাবীব প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি আমাদের মা। তাই শিক্ষার উপর আরোপিত ৭.৫% ভ্যাট তুলে নিয়ে শিক্ষার সুষ্ঠ পরিবেশ তৈরি করুন। শিক্ষার্থীরা আপনার কাছে আর্জি পেশ করছে, ভ্যাট বহাল রেখে আমাদের মৌলিক অধিকার ক্ষুন্ন করবেন না।
তিনি আরো বলেন, এদেশে শিক্ষা ধ্বংশের যে চক্রান্ত চলছে তা না বন্ধ করলে ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে শিক্ষা নামক যে বিষয় তা বিলাসী দ্রব্যে পরিণত হবে। শিক্ষাকে পন্যে পরিনত হওয়া বন্ধ করুন। তিনি সামনের দিনের আন্দোলনকে আরো বেগবান করতে শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ হবার আহবান জানান।
এসময় সালাউদ্দিন মিঠু বলেন, সরকার মনে করছে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধনীর সন্তানেরা লেখাপড়া করেন। কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি একবার ঢাকার মেসগুলোর খোঁজ খবর নিন। দেখবেন কি মানবেতর জীবন যাপন করছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাহলেই বুঝবেন কেমন ধনীর সন্তানেরা এখানে লেখাপড়া করতে আসে। দয়া করে আমাদের শিক্ষার উপর থেকে ভ্যাট তুলে নেন।
কর্মসূচিতে অন্যান্য সমন্বয়কদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন, ফারুক আহমাদ আরিফ, জাহিন ফারুক আমিন, জাহিদ গগন, শিহাব উদ্দিন সানি, মারুফ, জ্যোতির্ময় চক্রবর্তী, মশিউর সজিবসহ আরো অনেকে।
১৩.০৮.২০১৫
