ঈদ বাজার : চলছে সোনার গহনা বিকিকিনি
প্রকাশিত : ০৭:৪৭ এএম, ১৪ জুলাই ২০১৫ মঙ্গলবার | আপডেট: ০৭:৫৪ এএম, ১৪ জুলাই ২০১৫ মঙ্গলবার
মাজেদুল হক তানভীর,স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, উইমেননিউজ২৪.কম,ঢাকা : ঈদ চলে এসেছে। শেষ মুহূর্তের কেনাকাটার ব্যস্ততা বাড়ছে রাজধানীর বিপণিবিতানগুলোতে। নতুন পোশাকের পাশাপাশি রয়েছে গহনার চাহিদা।
শাড়ি,থ্রিপিসের সঙ্গে মিলিয়ে গহনা কেনা চলছে এখন। গহনার দোকানে বেড়েছে নারী ক্রেতার ভিড়।
গত কয়েক বছর ধরেই সোনা-রূপার পাশাপাশি সিরামিক, পাথরের গহনার জনপ্রিয়তা বেড়েছে। তবে এবার ঈদে ক্রেতারা সোনার গহনাও কিনছেন বেশ।
গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা যায়,গহনার দোকানগুলোতে বেশ ভিড়। কেউ নিজের জন্য,আবার কেউ উপহার দেওয়ার জন্য গহনা কিনছেন। নতুন ডিজাইনের পুঁতি,কড়ি, শেল,সুতা,কাঠ ও পিতলের তৈরি গহনার প্রতিই তরুণীরা বেশি আগ্রহী। তবে এবার স্টোনের গহনাও বেশ চলছে। হালের ট্রেন্ড হিসেবে কেউ কেউ বেছে নিচ্ছেন হীরার গহনাও।
ব্যবসায়ীরা বলেন,১০ রমজানের পর থেকেই গহনার দোকানে ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে থাকে। কারণ এ সময় অনেকেরই পোশাক কেনা হয়ে যায়। এর পরই পোশাকের সঙ্গে ম্যাচিং গহনা কিনতে ভিড় জমান নারীরা।
ব্যবসায়ীরা আরও বলেন,গহনার দাম নির্ধারিত থাকে বলে ক্রেতাদের সঙ্গে খুব একটা ঝামেলা হয় না।
এদিকে শপিংমলগুলোতে গহনার দাম নির্ধারিত থাকলেও ছোট দোকানগুলোতে তা থাকে না এবং এসব দোকানে ক্রেতাদের ভিড়ও বেশি।
গাউছিয়া মার্কেটে গহনা কিনতে আসা যাত্রাবাড়ির মৌমিতা জানান, পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে পিতলের তৈরি ছোট ছোট পাথর বসানো চুড়ি ও গহনা কিনেছেন। তিনি বলেন,এবার নতুন নতুন ডিজাইনের গহনা এসেছে। দোকানিরা দাম অনেক বেশি চাইলেও দরকষাকষি করলে অনেক কমে কেনা যায়।
ধানমন্ডির বাসিন্দা ফাতেমা বেগম বলেন,বছরের অন্যান্য সময়ে গহনা কেনা হয় না। তা ছাড়া মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে সব সময় গহনা কেনাও সম্ভব হয় না। তাই বছরের এ সময়ে বোনাসের বাড়তি অর্থ দিয়ে নিজের জন্য সোনার নাক ফুল কিনলেন।
এদিকে স্বর্ণের পাশাপাশি ডায়মন্ডের বিক্রিও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। উচ্চবিত্ত তো বটেই মধ্যবিত্তদের মধ্যেও কেউ কেউ হীরার গহনা কিনছেন। বাজারে দুই ধরনের হীরা পাওয়া যায়। বেলজিয়াম কাট আর ভারতের বোম্বে কাট। এর মধ্যে বোম্বে কাটের হীরার দাম কম হওয়ায় এর চাহিদাই বেশি।
বসুন্ধরার ডায়মন্ড গার্ডেন,বেইলি রোডের ডায়মন্ড গ্যালারি ঘুরে দেখা গেছে মানভেদে এক ক্যারেট মানের বোম্বে কাট হীরার দাম ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা। আর একই মানের বেলজিয়াম কাট হীরার দাম ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা।
ডায়মন্ডের কানের দুলের দাম পড়বে ১৩ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা,নাকফুল ২ হাজার ৯০০ থেকে ৭ হাজার ২০০ টাকা,আংটির দাম পড়বে সাড়ে ১১ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা,লকেট ৭ হাজার থেকে ৫০ হাজার, ব্রেসলেটের দাম ৮৪ হাজার থেকে ৯৮ হাজার টাকা। এছাড়া হীরার গলার সেটের দাম পড়বে ৬০ হাজার থেকে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত।
সোনার দোকানের চেয়ে রূপার দোকানে ভিড় কম থাকলেও ঈদে রুপার গহনার চাহিদাও একেবারে কম নয়। রুপার গহনায় সোনার প্রলেপ দিয়ে তৈরি গোল্ডপ্লেটেড গহনা বেশ চলছে। এ ছাড়াও রুপার সঙ্গে অ্যান্টিক,কপারের রং মিশিয়ে এর সঙ্গে পান্না,এডি পাথর,পুঁতি,ক্রিস্টাল পাথর বসিয়ে তৈরি করা হয়েছে নানা রকম গহনা। সোনার দাম বেশি হওয়ায় এবং রূপার ডিজাইনের বৈচিত্র্য থাকায় অনেকে রূপার গহনার প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন। চাঁদনী চক, বসুন্ধরা সিটি,জেনেটিক প্লাজাতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের গোল্ডপ্লেটেড গহনার সমারোহ। তরুণীদের চেয়ে বিবাহিত নারীরা
শাড়ি,থ্রিপিসের সঙ্গে মিলিয়ে এসব গয়না কিনছেন বেশি।
১৪.০৭.২০১৫
