স্টেপস্-এর মতবিনিময়: ইশতেহারে প্রান্তিক নারীদের সমস্যা অন্তর্ভুক্তির দাবি
প্রকাশিত : ০২:৩৫ পিএম, ১৮ নভেম্বর ২০১৩ সোমবার | আপডেট: ০১:০১ পিএম, ২২ নভেম্বর ২০১৩ শুক্রবার
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, উইমেননিউজ২৪.কম ঢাকা: সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নারীদের আসন সংরক্ষণ এবং রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নারীদের সমস্যাগুলো অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন বিশিষ্ট ব্যক্তিরা৷ আজ বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা স্টেপস্ টুয়ার্ডস্ ডেভেলপমেন্ট আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তারা এ দাবি জানান৷ সংগঠনের কার্যালয়ে আয়োজিত 'প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নারীদের উন্নয়নের মূলধারায় এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করার উদ্দেশ্যে জাতীয় অ্যাডভোকেসি কৌশল নির্ধারণ' শীর্ষক মতবিনিময় সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষক ও লেখক পাভেল পার্থ৷ আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর অধ্যাপক ড. সৌরভ শিকদার, ড্যানিশ চার্চ এইড এর কান্ট্রি ম্যানেজার হাসিনা ইনাম, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এর ন্যাশনাল অ্যাডভোকেসি সমন্বয়কারী রীতা অধিকারী, গবেষক ইলিনা দেওয়ান এবং ব্র্যাক, আরডিআরএস, আইন ও সালিশ কেন্দ্র, নাগরিক উদ্যোগ, কারিতাসসহ বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এবং দলিত ও হরিজন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিবৃন্দ৷ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অবস্থা ও অবস্থান নিয়ে সংগৃহীত তথ্য উপস্থাপন করেন স্টেপস্ এর প্রকল্প সমন্বয়কারী সাজ্জাদ হোসেন খান৷ সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন স্টেপস্ এর পরিচালক রেখা সাহা৷ মূল প্রবন্ধে পাভেল পার্থ বলেন, প্রান্তিক জনগণের ভেতর স্ব স্ব জনগোষ্ঠী, সমাজ ও জাতিতে নারীর অবস্থান ও পরিসর আরো বেশি প্রান্তিক অর্থাত্ প্রান্তিক সমাজের নারীর প্রান্তিকতা হলো প্রান্তিকের ভেতর প্রান্তিকতর৷ জাতীয় জীবনের উন্নয়নের মূলধারা এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় এই প্রান্তিকতর নারীদের অবস্থান, স্বীকৃতি, অংশগ্রহণ ও সুরক্ষা বিষয়ে সকল পর্যায়ে আলোচনা শুরু করা জরুরি৷ তারা প্রবন্ধে আরো বলা হয় অধিকাংশ উন্নয়নের দুর্ভোগ পোহাতে হয় প্রান্তিক নারীকে৷ সবুজ বিপ্লবের নামে রাসায়নিক কৃষির বিসত্মার, নদীতে বাধ দিয়ে বিদু্যত্ উত্পাদন, প্রাকৃতিক বন কেটে বাণিজ্যিক বাগান, কৃষি জমি উচ্ছেদ করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন সবকিছুতেই উদ্বাস্তু ও ক্ষতিগ্রসত্ম হয় প্রান্তিক নারী৷ রাষ্ট্রের মূলধারার উন্নয়ন ও সিদ্ধানত্মগ্রহণ প্রক্রিয়ায় মর্যাদাসহ প্রান্তিক নারীদের যুক্ত করার জোর দাবি জানানো হয় প্রবন্ধে৷ সভায় বক্তারা বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নারীদের মধ্যে শিক্ষা বিসত্মার এবং স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, স্যানিটেশন, জন্ম নিবন্ধন, বিবাহ নিবন্ধন, সম্পত্তিতে অধিকার নিশ্চিত করার উপর গুরুত্ব দেয়া জরুরী৷ তাছাড় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নারীদের মধ্যেও যারা তুলনামূলক অনগ্রসর তাদের অবহেলা, বঞ্চনা অবসানের জন্য সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে৷ স্টেপস্ এর নির্বাহী পরিচালক রঞ্জন কর্মকার তার সমাপনী বক্তব্যে বলেন, প্রান্তিক নারীদের জন্য নীতিমালা, বাজেট, আইন ইত্যাদি যথাযথভাবে বাসত্মবায়নের উপর নজর দিতে হবে৷ সেফটি নেট কর্মসূচি প্রণয়নের ক্ষেত্রে প্রান্তিক নারীদের কথা বিশেষভাবে বিবেচনায় নিতে হবে৷ দলিত, আদিবাসী, হরিজনসহ বিভিন্ন প্রান্তিক নারীদের ইসু্যগুলো নারী আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে৷ ১৮ নভেম্বর'২০১৩
