সিলেটে রাজন হত্যার দ্রুত বিচার হবে: জেলা প্রশাসক
প্রকাশিত : ১১:৫৩ এএম, ১৪ জুলাই ২০১৫ মঙ্গলবার | আপডেট: ১১:৫৬ এএম, ১৪ জুলাই ২০১৫ মঙ্গলবার
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, উইমেননিউজ২৪.কম, সিলেট : সিলেটে শিশু রাজনের দ্রুত বিচার কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোঃ জয়নাল আবেদীন।
মঙ্গলবার সকালে নগরীর কুমারগাঁওয়ে রাজনকে হত্যার ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং তার পরিবারের সদস্যেদের সঙ্গে দেখা করার পর সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।
জয়নাল আবেদীন বলেন, “এ ঘটনাটি অমানবিক। দুয়েকদিনের মধ্যে এ মামলাটি চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হবে। মামলা এলেই স্পেশাল ট্র্যাইব্যুনালে এ মামলার বিচারকাজ ৯০ দিনের মধ্যে শেষ হবে।”
এসময় তার সঙ্গে ছিলেন সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার কামরুল আহসান, সিলেটের পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা ও উপকমিশনার ফয়সাল মাহমুদ।
এদিকে রাজন হত্যার ঘটনায় পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতে থাকা মুহিত আলম (৩৫) জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার রহমত উল্লাহ।
তিনি উইমেননিউজকে বলেন, “রিমান্ডের শুরুতে মুহিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের নাম বলেছে। মুহিত চাইলে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে পারবে।”
জালালাবাদ থানার ওসি আখতার হোসেন বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে মুহিত নিজে, তার ভাই কামরুল ইসলাম, শামীম আহমদ, আলী ও চৌকিদার ময়না এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে জানিয়েছে।
“হত্যাকাণ্ডের স্থলে রাখা একটি ভ্যান গাড়িতে ‘হাত দেওয়ায়’ রাজনকে ‘চোর সন্দেহে’ আটক করে মারধর করা হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে মুহিত দাবি করেছে।
“নির্যাতন ও হত্যায় জড়িত থাকা শামীম, আলী ও ময়নার অবস্থানের বিষয়ে মুহিত তথ্য দিয়েছে। এর ভিত্তিতে অভিযান চলছে।”
গত বুধবার সকালে চোর সন্দেহে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয় ১৩ বছরের রাজনকে। নির্যাতনকারীরাই শিশুটিকে পেটানোর ভিডিও ধারণ করে এবং ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়। ২৮ মিনিটের ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবদের ঝড় ওঠে।
এ ঘটনায় জালালাবাদ থানা পুলিশ একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে, যাতে মুহিত, তার ভাই কামরুল ইসলাম (২৪), তাদের সহযোগী আলী হায়দার ওরফে আলী (৩৪) ও চৌকিদার ময়না মিয়া ওরফে বড় ময়নাকে (৪৫) আসামি করা হয়েছে।
মামলার বাকি দুই আসামি হায়দার ও ময়নাকে এখনও ধরতে পারেনি পুলিশ।
এছাড়া মঙ্গলবার সকালে রাজনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ইসমাইল হোসেন আবলুছকে (৩২) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের হেফাজতে পেয়েছে পুলিশ।
চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এ নিয়ে গ্রেপ্তার দুজনকে রিমান্ডে পেল পুলিশ।
গত ৮ জুলাই রাজনের লাশসহ গ্রেপ্তার মুহিত আলমকে (৩৫) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সোমবার পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠায় আদালত।
হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আরও তথ্য উদঘাটন করতে মুহিতের স্ত্রী লিপি বেগমকেও আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
রাজনকে পিটিয়ে হত্যার অন্যতম আসামি প্রবাসী কামরুল ইসলাম সোমবার সৌদি আরবে ধরা পড়েন, যিনি ঘটনার পরপরই পালিয়ে গিয়েছিলেন।
কামরুলকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা শুরু হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে।
১৪.০৭.২০১৫
