ঢাকা, শনিবার ১৮, জুলাই ২০২৬ ২:৫৩:০১ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

শিশু রাজন হত্যা : সৌদিতে আসামী কামরুল আটক

প্রকাশিত : ০২:১৫ পিএম, ১৪ জুলাই ২০১৫ মঙ্গলবার | আপডেট: ০২:১৭ পিএম, ১৪ জুলাই ২০১৫ মঙ্গলবার

muhith-alom-pic1-400x200স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, উইমেননিউজ২৪.কম, সিলেট : সিলেটে অমানবিক নির্যাতন করে শিশু সামিউল আলম রাজনকে হত্যার এজহারভুক্ত আসামী কামরুল আলমকে সৌদি আরবের জেদ্দায় আটক করে পুলিশে দিয়েছেন বাংলাদেশী প্রবাসীরা। সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় তাকে ধরে প্রবাসীরা পুলিশের হাতে তুলে দেন। সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ আটকের বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। গোলাম মসিহ বলেন, ‘সিলেটের শিশু সামিউল হত্যা মামলার আসামী কামরুল সৌদি আরবে গ্রেফতার হয়েছেন। কামরুল এখন পসৗদি পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।’ তিনি আরও জানান, বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। সামিউল হত্যা মামলার আসামি কামরুল সৌদি আরবে আসার খবরে প্রতিমন্ত্রী সৌদি পুলিশকে কামরুলকে গ্রেফতারের জন্য অনুরোধ জানান। চুরির অপবাদ দিয়ে গত বুধবার (৮ জুলাই) সকালে চোর সন্দেহে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয় ১২ বছরের শিশু রাজনকে। নির্যাতনকারীরাই শিশুটিকে পেটানোর ভিডিও ধারণ করে এবং ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়। ২৮ মিনিটের ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তোলপাড় শুরু হয়। নিহত রাজন কুমারগাঁও বাসস্টেশন সংলগ্ন সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের বাদেআলী গ্রামের মাইক্রোবাস চালক শেখ আজিজুর রহমান আলমের পুত্র। ঘটনার দিন দুপুরে একটি মাইক্রোবাসে রাজনের লাশ নিয়ে যাওয়ার সময় মুহিত আলমকে (২২) ধরে পুলিশে দেয় স্থানীয়রা। এ ঘটনায় জালালাবাদ থানা পুলিশ একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলায় মুহিত আলম, তার ভাই কামরুল ইসলাম (২৪), তাদের সহযোগী আলী হায়দার ওরফে আলী (৩৪) ও চৌকিদার ময়না মিয়া ওরফে বড় ময়নাকে (৪৫) আসামী করা হয়। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো ৪ থেকে ৫জনকে আসামি করা হয়। হত্যাকা-ের ঘটনায় মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা এসএমপির জালালাবাদ থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন রোববার সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আটক মুহিতের ৭ দিন রিমান্ড আবেদন করেন। সোমবার শুনানি শেষে সিলেটের মহানগর হাকিম আদালত-২ এর বিচারক ফারহানা ইয়াসমিন সোমবার মুহিতের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এদিকে, সোমবার ভোরে জালালাবাদ থানার লামকাজি এলাকা থেকে ইসমাঈল হোসেন আবলুস নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সে এজহারভুক্ত আসামি মুহিতের আত্মীয়। সন্ধ্যায় সিলেট শহরতলীর কুমারগাঁওয়ের শেখপাড়া থেকে রিমান্ডে থাকা মুহিতের স্ত্রী লিপি বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। এছাড়া আরো দুইজনকে আটকের খবর পাওয়া গেলেও তাদের নাম পরিচয় জানা যায়নি। জালালাবাদ থানার ওসি আখতার হোসেন জানান, রিমান্ডে থাকা মুহিতের দেয়া কিছু তথ্য যাচাই-বাছাই করার জন্য তাদেরকে আটক করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, রিমান্ডের প্রথম দিনে মুহিত বেশ কিছু তথ্য দিয়েছে। অন্য আসামীদের অবস্থান সম্পর্কেও সে বলেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং পলাতক আসামীদের ধরতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সৌদি আরবে পালিয়ে যাওয়া আসামি কামরুলকে গ্রেফতারের বিষয়ে সোমবার রাতে জানতে চাইলে এসএমপি কমিশনার মো. কামরুল আহসান বাসস’কে জানান, আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। তবে অফিসিয়ালি এখনো কিছু জানিনি। পলাতক আসামীদের গ্রেফতারের বিষয়ে এসএমপি কমিশনার বলেন, আসামি ধরতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। এ ঘটনার সার্বিক তত্ত্বাবধানে জন্য এসএমপির এডিসি (উত্তর) মুহাম্মদ রহমত উল্লাহকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- সহকারি কমিশনার নিজাম উদ্দিন, সহকারী কমিশনার কামরুল ইসলাম, জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আখতার হোসেন ও পুলিশ পরিদর্শক জাকির হোসেন। এদিকে, ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসী, সিলেটের বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। আজ মঙ্গলবার বেলা ২টার দিকে কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় প্রতিবাদ সমাবেশ হওয়ার কথা রয়েছে। ১৪.০৭.২০১৫