শিশু রাজন নির্যাতনের ভিডিও ধারণকারী নূর মিয়া গ্রেফতার
প্রকাশিত : ০৭:২০ এএম, ১৬ জুলাই ২০১৫ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৭:২০ এএম, ১৬ জুলাই ২০১৫ বৃহস্পতিবার
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, উইমেননিউজ২৪.কম, সিলেট : সিলেটে শিশু শেখ সামিউল আলম রাজনকে নির্যাতনে সহযোগিতা ও ভিডিওচিত্র ধারণকারী নূর মিয়া (২৭) কে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় জনতা।
গতকাল বুধবার রাত পৌনে ১১টার দিকে সিলেট সদর উপজেলার জাঙ্গাইলের গ্রামবাসী তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে এসএমপির জালালাবাদ থানার ওসি আখতার হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল এসে তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।
গত ৮ জুলাই বুধবার সকালে শিশু শেখ সামিউল আলম রাজনকে চুরির অপবাদ দিয়ে অমানবিক নির্যাতনের মাধ্যমে খুন করা হয়। এসময় নির্যাতনকারীরা এই নির্মম হত্যাকান্ডের ভিডিওচিত্র ধারণ করে। প্রায় ২৮ মিনিটের এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় তোলপাড়। প্রতিবাদের ঝড় ওঠে সিলেটসহ সারা দেশে। ওই ভিডিও ধারণের কাজ করে নূর হোসেন।
সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. কামরুল আহসান নূর হোসেন গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, নূর হোসেন রাজন হত্যা হত্যা মামলার সন্দেহভাজন আসামী। রাজনকে নির্যাতনকালে ভিডিও ফুটেজ ধারণ ও উল্লাস করছিল সে। ঘটনার পর থেকে তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে তিনি জানান।
বুধবার রাতে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় নূর মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে বেলা আড়াইটার দিকে অপর আসামী দুলাল আহমদ (২৮) কে আটক করে পুলিশে দেয় এলাকাবাসী।
এ নিয়ে হত্যাকান্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ৯ জন আসামিকে ধরা হয়েছে। যার মধ্যে প্রধান নির্যাতনকারী কামরুল সৌদি আরবে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। তাকে ঈদের পরে দেশে আনার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলে পুলিশ জানায়।
৮ জুলাই নির্যাতনের মাধ্যমে শিশু রাজনের মৃত্যু নিশ্চিত করার পর দুপুরে মাইক্রোবাসযোগে তার লাশ সহ জনতার হাতে আটক হয় মুহিত আলম। পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। এ ঘটনায় জালালাবাদ থানায় পুলিশ বাদি হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করে।
মামলায় রাজনের লাশ ফেলার সময় হাতেনাতে আটক মুহিত ও তার ভাই সৌদি পালিয়ে যাওয়া কামরুল ইসলাম (২৪), তাদের সহযোগী আলী হায়দার ওরফে আলী (৩৪) ও চৌকিদার ময়না মিয়া ওরফে বড় ময়নাকে (৪৫) আসামি করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আরো ৪ থেকে ৫ জনকে আসামি করা হয়।
১৬.০৭.২০১৫
