ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৩, জুলাই ২০২৬ ৮:২৬:০৮ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

কর্মীনারীদের কথা: রাজনীতি বুঝি না; বুঝি পেট

প্রকাশিত : ১০:১১ এএম, ৩ ডিসেম্বর ২০১৩ মঙ্গলবার | আপডেট: ১০:১১ এএম, ৩ ডিসেম্বর ২০১৩ মঙ্গলবার

LEA NEWS_Picরাজনৈতিক অস্থিরতা অস্থিতিশীল করে তুলেছে দেশকে৷ হরতাল, অবরোধে সহিংসতার শিকার হয়ে প্রতিদিন প্রাণ হারাচ্ছে সাধারণ জনতা৷ নারী, শিশুও এ সহিংসতা থেকে রক্ষা পাচ্ছে না৷ উপরন্ত স্বাভাবিক জনজীবন হয়ে পরেছে অনিশ্চিত৷ তার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পরেছে নিন্মবিত্ত ও ছিন্নমূল খেটে খাওয়া মানুষের জীবনে৷ খেটে খাওয়া বেশ ক'জন কর্মীনারী আমাদের জানিয়েছেন তাদের অভাব ও কষ্টের কথা৷ পাঠকের জন্য প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন উইনেনিউজ২৪.কম-এর স্টাফ করেসপন্ডেন্ট সুমন মাহমুদ৷ মালিবাগ বাজারের পাশে একটি পানদোকান নিয়ে পান বিক্রি করেন আমেনা বেগম৷ তার আয়ে চলে সংসার৷ বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে আমেনার ব্যবসার অবস্থা খুবই খারাপ৷ আমেনা বলেন, এই অবস্থা চলতে থাকলে দুই ছেলে নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে৷ বিক্রি একেবারেই নেই৷ যা বিক্রি হয় তা দিয়ে এক বেলার খাবার জোগার করতে পারছিনা৷ রাজনীতিবিদরা নিজেদের স্বার্থ বোঝে৷ আমাদের কথা ভাবে না৷ বোমার ভয়ে মানুষ ঘর থেকে বের হতে সাহস পায় না৷ পান বিক্রি হবে কিভাবে৷ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির সামনের পিঠা বিক্রেতা বিলকিস আক্তার বলেন, এ কিসের মধ্যে পরে গেলাম৷ বিক্রি একদম নেই৷ আগে প্রতিদিন ১০/১২ কেজি চালের পিঠা বানাতাম৷ এখন ৩ কেজি চালের পিঠা বানাই৷ তাও থেকে যায়৷ আগে ক্যাম্পাসে বিকেল থেকে কত ছেলে মেয়ে আসতো৷ এখন খুব কম আসে৷ আমরা রাজনীতি বুঝি না৷ বুঝি পেট৷ কাজ না করলে কি খাবো, বাঁচবো কিভাবে৷ তারাতো আমাদের কথা ভাবে না৷ ভাবলে দুই দল মিলে দেশটারে দোজখ বানাতো না৷ শাহবাগের ফুটপাতের ফুল বিক্রেতা খোদেজা বেগম বলেন, মুড়ি-মুড়কির মতো মানুষ মরছে৷ কেউ ঘর থেকে বের হতে সাহস পায় না৷ ফুল কিনবে কে৷ সেদিন চোখের সামনে দেখলাম বাসের মধ্যে কিভাবে পুড়ে মরলো মানুষগুলো৷ খালেদা-হাসিনা তো অবরোধ, হরতাল দিয়ে ঘরে বসে থাকে৷ কিন্তু আমাদের তো পেটের দায়ে বাইরে আসতে হয়৷ মরি আমরা৷ মানুষ হত্যার রাজনীতি আমরা চাই না এই দুইজন কেন এইটা বুঝে না৷ তাদের কাউকে ভোট দিবো না৷ ফকিরাপুল বাজারের সবজি বিক্রেতা রহিমা খাতুন বলেন, সবজি সব পঁচে যায়৷ ক্রেতা কম৷ ঘরে পঙ্গু স্বামী আর নাবালক তিন সন্তান৷ কি করবো৷ বোম-ককটেলের মধ্যেও বাজারে আসি যদি ২/৪ টাকা বিক্রি হয়৷ খাবার তো খেতে হবে৷ ক্ষমতার লোভে দুই দল দেশটারে অচল বানিয়ে ফেলেছে৷ সাধারণ মানুষের কষ্ট তারা দেখে না৷ রামপুরা একটি পোশাক কারখানার কর্মী শাহিনা আক্তার বলেন, প্রায় দিনই ককটেলের শব্দে দৌড়াদৌড়ির মধ্যে পড়ে যাই৷ তারপরও কাজে যেতে হয়৷ না গেলে বেতন কেটে দেয়৷ বাড়িতে টাকা পাঠাতে হয়৷ জীবনটাকে বাজি রেখে প্রতিদিন কাজে যাই৷ আমার কিছু হলে আমার মা, ভাইবোনরা না খেয়ে মরবে৷ আমি রাজনীতি বুঝি না, আমি বুঝি শান্তিপূর্ণ জীবন৷ দুটো খেয়েপরে সুখে বেঁচে থাকা৷ যা বর্তমানে নেই৷ ৩ ডিসেম্বর'২০১৩