সাড়ে ৩ মাসেও গ্রেপ্তার হয়নি কৃষ্ণার খুনি
প্রকাশিত : ০৮:২১ এএম, ২০ জুলাই ২০১৫ সোমবার | আপডেট: ০৮:২৪ এএম, ২০ জুলাই ২০১৫ সোমবার
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, উইমেননিউজ২৪.কম, ঢাকা : সাড়ে তিন মাস হল রাজধানীর আদাবরে কলেজ শিক্ষক কৃষ্ণা কাবেরীর খুনিকে সনাক্ত করার। তারপরও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নিহতের পরিবার।
স্বজনদের অভিযোগ, খুনি কৃষ্ণার স্বামীর পূর্বপরিচিত হওয়ায় তার সম্পর্কে সব তথ্য দেওয়ার পরও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেনি।
নিহতের মামা পিন্টু বিশ্বাস বলেন, “ঘটনার পর কয়েকদিন খুনির মোবাইল ফোন খোলা ছিল। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বলেছিলেন আসামি ঢাকায় আছে। এরপর কখনো তিনি বলেছেন আসামি উত্তরায়, আবার কখনো বলেছেন যাত্রাবাড়িতে। এরপর পুলিশ একদিন জানাল, খুনি দেশের বাইরে পালিয়ে গেছে।”
গত ৩০ মার্চ সন্ধ্যার পর রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ৩/১২ ইকবাল রোডে বিআরটিএর উপ পরিচালক সিতাংশু শেখর রায়ের বাসায় তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে আসেন পূর্বপরিচিত ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম পলাশ। তার সঙ্গে কেক, মিষ্টি ও মোমবাতিও ছিল।
জন্মদিনের কেক কাটার পর ফলের রস পানের পর সিতাংশু অচেতন হয়ে পড়লে জহিরুল তাকে হাতুড়ি দিয়ে পেটানোর চেষ্টা করেন। এসময় কৃষ্ণা বাঁধা দিতে গেলে জহিরুল দুজনকেই এলোপাতাড়ি পেটায়। পরে মোমবাতি থেকে কৃষ্ণার শাড়ি ও ঘরে আগুন ছড়িয়ে যায়।
ঘটনার সময় সিতাংশুর দুই মেয়ে শ্রাবনী বিশ্বাস শ্রুতি (১৪) ও অত্রি বিশ্বাস (০৮) চিৎকার করতে চাইলে তাদেরকেও হামলার শিকার হতে হয়। রাতে দগ্ধ ও আহত কৃষ্ণাকে হাসপাতালে ভর্তির পরদিন মিশন ইন্টারন্যাশনাল কলেজের এই প্রভাষকের মৃত্যু হয়।
সিতাংশু এখন দুই মেয়েকে নিয়ে মোহাম্মদপুরেই আরেকটি ভাড়া বাসায় থাকছেন বলে জানান কৃষ্ণার মামা পিন্টু।
তিনি বলেন, “খুনির যাবতীয় তথ্য পুলিশকে দেওয়া হয়েছিল। তারপরও তারা খুনিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। আমরা পুলিশের ওপর বিরক্ত।”
ঘটনার পর থেকে সিতাংশুর বড় ভাই সুধাংশু শেখর বিশ্বাস মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা করেন। ব্রোকারেজ হাউজ হাজী আহমেদ ব্রাদার্স সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপক জহিরুলকেই মামলায় একমাত্র আসামি করা হয়। কয়েকদিনের পর তদন্তের দায়িত্ব পায় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।
শেয়ার ব্যবসা নিয়ে বিরোধের জেরে বিআরটিএ কর্মকর্তা সিতাংশুর বাসায় ওই হামলা হয় বলে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও পিন্টু বিশ্বাসের দাবি, এর পেছেনে ‘অন্য কোনো কারণ’ রয়েছে।
“সিতাংশুর শেয়ার বাজারে আট লাখ টাকা ছিল। সেই সূত্রেই তার জহিরের সঙ্গে পরিচয় ছিল। শেয়ার বাজারের লেনদেন নিয়ে তাদের কোনো বিরোধ ছিল না।”
জহিরুলকে গ্রেপ্তার করতে পারলে হত্যার কারণ জানা যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
খুনিকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে সিতাংশু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা চাই পুলিশ খুনিকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসুক।”
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের উপ পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন বলেন, জহিরুলই যে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন, সে বিষয়ে পুলিশ নিশ্চিত।
“তবে কি কারণে তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন তা নিশ্চিতভাবে জানা সম্ভব হয়নি। শেয়ার ব্যবসা ছাড়া অন্য কোনো কারণ রয়েছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের কোনো গাফিলতি নেই বলেও তিনি দাবি করেন।
