ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৩, জুলাই ২০২৬ ৮:৩৯:৫৫ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

আইএলও প্রতিবেদন : নারী শ্রমিকের শ্রম আছে, নিরাপত্তা নেই

প্রকাশিত : ০২:২৮ পিএম, ২২ নভেম্বর ২০১৩ শুক্রবার | আপডেট: ০২:২৮ পিএম, ২২ নভেম্বর ২০১৩ শুক্রবার

_GARMENT_2134fআহমেদ আল আমীন, উইমেননিউজ২৪.কম ঢাকা : বিশ্বের সবচেয়ে কম মজুরি পাচ্ছে বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকরা৷ এসব শ্রমিকের শতকরা ৮০ ভাগই নারী৷ নিয়মিত প্রচুর পরিশ্রম করলেও নারী শ্রমিকদের পদোন্নতি হয় না৷ এখনও নিশ্চিত হয়নি নারী শ্রমিকদের জন্য উপযোগী কর্ম পরিবেশ৷ তা সত্ত্বেও বাংলাদেশে দুই দশকে বেড়েছে কর্মজীবী নারীর সংখ্যা৷ যা প্রতিবেশীসহ অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশি৷ তবে কর্মক্ষেত্রে কমেছে লিঙ্গবৈষম্য৷ গত সোমবার আনত্মর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়৷ 'বাংলাদেশ:সিকিং বেটার এমপ্লয়মেন্ট কন্ডিশনস ফর বেটার সোসিও ইকোনমিক আউটকাম' শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে দেশের পোশাক শিল্পের পরিবেশ নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়৷ বিদ্যমান পরিবেশ পরিবর্তনে যথাযথ নীতিমালার অভাব আর নজরদারির পর্যাপ্ত অভাবের কথাও বলা হয় প্রতিবেদনে৷ কর্মজীবী নারীর সংখ্যা বাড়লেও অনিরাপদ কর্মপরিবেশ: প্রতিবেদনের শুরুতেই ২০১২ সালের তাজরিন গার্মেন্টসের আগুনের কথা উল্লেখ করা হয়৷ ওই দুর্ঘটনায় ১১৭ জন শ্রমিক মারা যায়৷ আবার ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধ্বসে এক হাজার ১২৯ জন শ্রমিক মারা যায়৷ প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে নারী শ্রমিকের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি৷ আর এসব দুর্ঘটনার মানেই হচ্ছে নারী শ্রমিকের মৃতু্য এবং সারাজীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে যাওয়া৷ অথচ তারাই দেশের জন্য বৈদিশিক মুদ্রা অর্জনে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখছে৷ প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ভবনগুলোতে নেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, নিয়ম মেনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে উদ্যোগের যথেষ্ট অভাব রয়েছে৷ তাছাড়া কারখানার ভবন নির্মাণে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব আছে৷ প্রতিবেদনে বলা হয়, ঠিক এ মুহূর্তে অর্থাত্‍ ২০১৩ সালে গার্মেন্টে বাংলাদেশের শ্রমিকদের নূ্যনতম মাসে মজুরি ৩৯ ডলার৷ যেখানে কম্বোডিয়াতে ৮০ ডলার, ভারতে ৭১ ডলার, পাকিসত্মানে ৭৯ ডলার, শ্রীলঙ্কায় ৭৩ ডলার এবং ভিয়েতনামে ৭৮ ডলার৷ বাংলাদেশে গার্মেন্টে নারী শ্রমিকের সংখ্যা ৮০ শতাংশ অথচ তাদের তেমন পদোন্নতি হয় না৷ প্রতিবেদনে পোশাক খাতে নারীদের কিছু প্রতিকূল অবস্থা চিহ্নিত করা হয়৷ তার মধ্যে রয়েছে পোশাক কারখানায় নারী শ্রমিকদের শিশু সন্তানদের রাখার পর্যাপ্ত জায়গার অভাব, মজুরি নিয়ে কথা বলার অক্ষমতা এবং পদোন্নতির অভাব৷ প্রতিবেদনে বলা হয়, ঠিক একই ভাবে দেশের কৃষিখাতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে নারীরা৷ এ খাতে ৬৫ শতাংশ নারী কাজ করে৷ অথচ ভূমির ও কৃষিযন্ত্রপাতির মালিকানা নেই নারীর৷ অথচ সুখবর দিয়েছে নারীরাই: প্রতিবেদনে দেশে নারীর উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়৷ ১৯৮০ সালে বাংলাদেশের নারীদের গড় আয়ূ ছিল প্রায় ৫৫ বছর৷ আর ২০১০ সালে তা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭০ বছরে৷ কমেছে মাতৃমৃতু্যর হার৷ ১৯৯০ থেকে ২০০০ সালে মাতৃমৃতু্যর হার নেমে আসে ১ লাখ জীবিত জন্মে ৮০০ থেকে ৪০০তে৷ ২০১০ সালে ২৪০ এ নেমে এসেছে এ হার৷ তবে এ হার বিশ্বে সর্বাধিক৷ প্রতিবেদনে বলা হয়, সবচেয়ে আশার কথা হচ্ছে বাংলাদেশে কমে এসেছে লিঙ্গ বৈষম্য৷ শিক্ষা ও কর্ম উভয় ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের অংশগ্রহণের সংখ্যার ব্যবধান উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে৷ শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে নারীর সংখ্যা বেড়েছে ব্যাপকভাবে৷ ১৯৮০ সালে যেখানে ৬০ শতাংশের নিচে ছিল সেখানে এখন পুরুষের সমান এবং কিছু ক্ষেত্রে পুরুষের চেয়েও বেশি৷ কিন্তু উচ্চ শিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ পুরুষের তুলনায় এখনো অনেক কম৷ এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে ওই আইএলও৷ রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ নিয়ে ব্যাপক প্রশংসা করেছে আইএলও৷ প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজনীতিতে লিঙ্গ দূরত্ব কমের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান অষ্টম৷ জাতীয় সংসদে দুই দশক আগের চেয়ে বর্তমানে দ্বিগুণের বেশি নারীর অংশগ্রহণ আছে৷ গ্রামীণ দারিদ্র দূরীকরণে নারীর অবদান উল্লেখযোগ্য বলে জানিয়েছে ওই প্রতিবেদন৷ সেখানে বলা হয় ক্ষুদ্র ঋণের মতো কার্যক্রমের পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে অংশ নিচ্ছে নারীরা৷ বাসত্মবজীবনে তার প্রয়োগ ঘটাচ্ছে৷ এতে করে ইতিবাচক পরিবর্তনে নারীরা কার্যকর ভূমিকা রাখছে৷ প্রতিবেদনে বেশকিছু সুপারিশে অবিলম্বে নারীকে নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়৷ এ বিশাল সংখ্যক জনগোষ্ঠী গ্রামে ও শহরে ব্যাপক পরিশ্রম করে জাতীয় পর্যায়ে সফলতা আনলেও তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি এখন পর্যনত্ম নিশ্চিত হয়নি৷ তা নিশ্চিত করাকেই সরকারের অন্যতম চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে আইএলও৷ ২২ নভেম্বর'২০১৩