সাংবাদিক বেবী মওদুদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী কাল
প্রকাশিত : ১২:৫২ পিএম, ২৪ জুলাই ২০১৫ শুক্রবার | আপডেট: ১২:৫৯ পিএম, ২৪ জুলাই ২০১৫ শুক্রবার
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, উইমেননিউজ২৪.কম, ঢাকা : আগামীকাল ২৫ জুলাই বিশিষ্ট সাংবাদিক ও লেখক বেবী মওদুদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। দূরারোগ্য ক্যান্সারের সাথে লড়াই করে তিনি গত বছর এই দিনে ইন্তেকাল করেন।
বেবী মওদুদের ছেলে রবিউল হাসান অভি বাসসকে জানান, তার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আগামীকাল ২৫ জুলাই, শনিবার বাদ আছর মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়াও প্রয়াত সাংবাদিক কবি ও লেখক এবং সংসদ সদস্য বেবী মওদুদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এক স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।
সাংবাদিক সমাজ আয়োজিত স্মরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রফেসর এমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। স্মৃতিচারণ করেন ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, গবেষক ও লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ, দৈনিক সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, কবি কাজী রোজি এমপি, আগামী প্রকাশনির সত্বাধিকারী ওসমান গনি, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিল, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আলতাফ মাহমুদ প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সিনিয়র সাংবাদিক ফরিদ হোসেন।
নারী অধিকার আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ও সাবেক সংসদ সদস্য বেবী মওদুদ (এ এন মাহফুজা খাতুন) ৬৬ বছর বয়সে মৃত্যুর কাছে হার মানলেও জীবনের কাছে তিনি ছিলেন অপরাজেয়।
তিনি ১৯৪৮ সালের ২৩ জুন কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা আবদুল মওদুদ ছিলেন একজন বিচারপতি। আর মায়ের নাম হেদায়েতুন নেসা। ছয় ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)’র সাবেক প্রধান বার্তা সম্পাদক বেবী মওদুদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যয়নরত অবস্থায় ১৯৬৭ সাল থেকে সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত হন। তিনি ১৯৯৯ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বাসসে প্রধান বার্তা সম্পাদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন সাপ্তাহিক বিচিত্রার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর.কমে সামাজিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।
এর আগে তিনি দৈনিক সংবাদ, বিবিসি, দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক চিত্রালী, সাপ্তাহিক ললনা, সাপ্তাহিক রানার, দৈনিক আজাদ, দৈনিক গণবাংলা ও দৈনিক মুক্তকন্ঠে কাজ করেন। কখনো রিপোর্টার, কখনো সহ-সম্পাদক, কখনো ফিচার সম্পাদক এবং সম্পাদক হিসেবে কাজ করে সাংবাদিকতার সব শাখায় বিচরণ করেন বেবী মওদুদ।
মুক্তিযুদ্ধের আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থাকার দিনগুলোতেই পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সদস্য হিসেবে ছাত্র রাজনীতিতে যুক্ত হন বেবী মওদুদ। ১৯৭১ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। এর আগেই তিনি ১৯৬৭-৬৮ সময়ে রোকেয়া হল ছাত্রী সংসদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান ও ১৯৭১-এর অসহযোগ আন্দোলনে অংশ নেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন তিনি ঢাকায় কবি সুফিয়া কামালের সাথে যুক্ত হয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তায় বিভিন্ন কর্মকান্ডে যুক্ত হন।
নব্বইয়ের দশকে যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তির দাবিতে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আন্দোলনেও সোচ্চার ছিলেন বেবী মওদুদ। নবম জাতীয় সংসদে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংরক্ষিত নারী আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি এবং লাইব্রেরি কমিটির সদস্য হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে নিয়মিত লেখালেখিতে যুক্ত ছিলেন বেবী মওদুদ। এ পর্যন্ত তার রচিত ৩৯ টি গ্রন্থের সন্ধান পাওয়া গেছে। তিনি বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ, নারী, রাজনীতি নিয়ে লেখার পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের জন্যও সাহিত্য রচনা করেছেন। লিখেছেন কবিতা ও ছড়া। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ সম্পাদনাতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
তার রচিত শিশু সাহিত্যের মধ্যে রয়েছে দীপ্তর জন্য ভালোবাসা, টুনুর হারিয়ে যাওয়া, শান্তর আনন্দ, এক যে ছিল আনু, মুক্তিযোদ্ধা মাণিক, আবু আর বাবু এবং কিশোর সাহিত্য সমগ্র।
এছাড়া গণতন্ত্রের মানসকন্যা শেখ হাসিনা, বাংলাদেশের নারী বাংলাদেশের চলচ্চিত্র, বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবার, নিভৃত যতনে, রোকেয়া টাফ, আমার রোকেয়া, চিরন্তন প্রতিকৃতি রোকেয়া, শেখ মুজিবের ছেলেবেলা, মনে মনে (ছোট গল্প), দুঃখ-কষ্ট-ভালোবাসা (উপন্যাস), সষি পুষি টুষি (ছড়া) ও পাকিস্তানে বাংলাদেশের নারী পাচার তার উল্লেখযোগ্য প্রকাশনা।
২৪.০৭.২০১৫
