মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ বছরের নিচে হবে না : পরিকল্পনা মন্ত্রী
প্রকাশিত : ০৪:২৫ পিএম, ২৯ জুলাই ২০১৫ বুধবার | আপডেট: ০৪:২৬ পিএম, ২৯ জুলাই ২০১৫ বুধবার
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, উইমেননিউজ২৪.কম, ঢাকা : পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ বছরের নিচে হবে না।
তিনি বলেন, বাল্যবিবাহ সমাজের একটি ব্যাধি। সভ্য সমাজে এটা কখনোই কল্পনা করা যায় না। এ থেকে মুক্তি পেতে আমাদেরই সামাজিক বিপ্লব গড়ে তুলতে হবে।
আজ (বুধবার) দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরস্থ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম, ঝরেপড়া (ড্রপআউট) শিশু বিষয়ে পলিসি প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এ সব কথা বলেন।
ইউনিসেফ বাংলাদেশ, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও পরিসংখ্যান ব্যুরো যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ও তথ্য বিভাগের সচিব কানিজ ফাতেমার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি।
এ ছাড়ার সম্মানিত অতিথি ছিলেন গণসাক্ষরতা অভিযানের পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী, যুক্তরাজ্যের দাতা সংস্থা ডিএফআইডি’র প্রতিনিধি সারা কুক ও ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি এডওর্য়াড বেগবেদার।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, একটি শিশু যদি শক্তিশালী হয়, তাহলে দেশও শক্তিশালী হবে।
মেয়েদের বিয়ের বয়স সম্পর্কে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরাজ চুমকি বলেন, মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ বছরের নিচে হবে না।
তিনি বলেন, নারী ও শিশু অধিকার নিয়ে ৫০টি আইন রয়েছে। কিন্তু আমাদের অজ্ঞতার কারণে এই আইনের বাস্তবায়ন হয় না।
তিনি বলেন, অস্বীকার করা যাবে না যে, বাল্যবিয়ে একটা অন্যতম সমস্যা। তবে সরকার এ সমস্যা সমাধানে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি দুজনেই বলেন, সরকার শিশু বিবাহ বন্ধে বদ্ধ পরিকর। মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮-এর নিচে কখনোই নামানো হবে না।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম, ঝরেপড়া (ড্রপআউট) শিশু বিষয়গুলো সামাজিক সমস্যা। এর বিরুদ্ধে সামাজিক বিপ্লব ঘটাতে হবে।
গণসাক্ষরতা অভিযানের পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, দেশের স্কুলগুলোতে স্যানিটেশনের ভালো ব্যবস্থা নেই। সে কারণে নারী ও শিশুদের মধ্যে স্কুল ছেড়ে দেওয়ার প্রবণতা কাজ করে। এর ফলে ড্রপ আউটের হার বাড়ে।
পলিসি প্রকাশনা অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশের সব জেলাতেই বিদ্যালয় বহির্ভূত ও ঝরেপড়া শিশুরা রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে- বান্দরবান, সুনামগঞ্জ, ভোলা, নেত্রকোনা ও কক্সবাজার জেলায়।
আর ঝরে পড়ার হার কম হচ্ছে- ঝালকাঠি, বরগুনা, পিরোজপুর, ফেনী ও যশোর।
প্রকাশনা অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশের ১০-১৪ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে ১০ লাখ শিশুই শিশুশ্রমে নিয়োজিত।
এর মধ্যে সেবাখাতে ৪১ শতাংশ, কৃষিখাতে ৩৯ শতাংশ এবং শিল্পখাতে ২০ শতাংশ শিশু নিয়োজিত রয়েছে।
এ ছাড়া দেশের ২০-২৪ বছর বয়সী নারীদের অর্ধেকের বেশির বিয়ে হয়েছে ১৮ বছর বয়সের আগেই। আবার এদের পাঁচজনের মধ্যে একজনের বিয়ে হয়েছে ১৫ বছর বয়সে। তবে দিন দিন এ হার কমে আসছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।
২৯.০৭.২০১৫
