রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্র: প্রতিষ্ঠার ১৬ বছর: আজও শুরু হয়নি কার্যক্রম
প্রকাশিত : ০৮:০৯ এএম, ৯ ডিসেম্বর ২০১৩ সোমবার | আপডেট: ০৮:১৬ এএম, ৯ ডিসেম্বর ২০১৩ সোমবার
রংপুর করেসপন্ডেন্ট, উইমেননিউজ২৪.কম
রংপুর : সমাজ পরিবর্তনে পুরুষের রক্তচক্ষু শাসিত শত বাধা পেরিয়ে যে মহীয়সী রংপুরের অজপাড়াগাঁ পায়রাবন্দ থেকে জ্বেলেছিলেন নারীশিক্ষার আলো, সমাজের অনাচার-কুসংস্কার দূর করে জগৎখ্যাত হয়েছিলেন, তাঁর সেই স্বপ্ন-স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখতে বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্র গড়ে তোলা হলেও তা এখন ধ্বংসের শেষ সোপানে দাঁড়িয়ে আছে। এমন কি যে বাড়িটিতে তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন সংরক্ষণের অভাবে তার শেষ চিহ্নটিও আজ বিপন্ন।
রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ গ্রামে বেগম রোকেয়ার বাড়ির গা ঘেষে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বেগম রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্রটি এখন তালাবদ্ধ। ২০০১ সালের ১ জুলাই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পায়রাবন্দকে শিক্ষা ও সংস্কৃতির অন্যতম পাদপীঠ হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ ১২ বছরেও এ স্মৃতি কেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছে পায়রাবন্দবাসী।
মিঠাপুকুর তথা রংপুরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে ১৯৯৭ সালের ২৮ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পায়রাবন্দে ৩ একর ১৫ শতক জমির ওপর বেগম রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং ২০০১ সালের ১ জুলাই উদ্বোধন করেন। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ২০০৪ সালের ৪ অক্টোবর স্মৃতি কেন্দ্রটি বাংলা একাডেমির কাছে হস্তান্তর করে। স্মৃতি কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ছিলো বেগম রোকেয়ার জীবন কর্ম সম্পর্কে গবেষণা, তাঁর গ্রন্থাবলীর অনুবাদ, প্রচার ও প্রকাশনা, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং স্থানীয় যুবক-যুবতীদের নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান। স্মৃতিকেন্দ্রের সুবিধাগুলো হলো একটি মানসম্পন্ন রেস্টহাউস, একটি অডিটরিয়াম, একটি সেমিনার কক্ষ, একটি লাইব্রেরী, একটি গবেষণাগার, একটি সংগ্রহশালা, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, নামাজঘর ও স্টাফ কোয়ার্টার। এ ছাড়াও মূল ভবনের পিতলের তৈরি বেগম রোকেয়ার একটি ভাস্কর্য। এসময় বাংলা একাডেমী একজন উপ-পরিচালকসহ বিভিন্ন শ্রেণীর ১৩ জন কর্মচারি নিয়োগ দেয়। কিন্তু রহস্যজনক কারণে দীর্ঘ ৯ বছর যাবত তারা বেতনভাতা না পেয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে বেগম রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্রটি মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তর করা হয়। একই সালে ১৭ মার্চ অলিখিতভাবে স্মৃতিকেন্দ্রটি বিকেএমই’র শ্রমিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের জন্য অনুমোতি প্রদান করা হয়। শুরু হয় পোশাক শ্রমিক তৈরির প্রশিক্ষণ।
স্মৃতিকেন্দ্রটির মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত করে সেখানে পোশাক শ্রমিক তৈরির প্রশিক্ষণ বন্ধ এবং বিকেএমইকে উচ্ছেদ করার জন্য হিউম্যান রাইট্স এন্ড পিস ফর বাংলাদেশ এবং পায়রাবন্দ স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম দুলাল ২০১২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে একটি রিট করেন। এর প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রের মর্যাদা অক্ষুন্ন রেখে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং শ্রমিক তৈরির কারখানা বন্ধের আদেশ দিলে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন ২০১২ সালের ১ মে বিকেএমইকে উচ্ছেদ করে।
শ্রমিক তৈরির কারখানা বন্ধ হলেও স্মৃতিকেন্দ্রের মূল কর্মকান্ড শুরু করা হয়নি আজও। রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্র ক্যাম্পাশে ঢোকার পথে একটি জীর্ণ-ভাঙ্গা সাইন বোর্ড ঝুলছে। তাতে লেখা ‘বেগম রোকেয়ার বাড়ি’।সরু ভাঙ্গা পথ ধরে এগিয়ে গেলে সামনে বাম দিকে রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্র। তারপর একটু সামনেই বেগম রোকেয়ার পৈত্রিকা বাড়িটির ভগ্নাবশেষ চোখে পড়বে। হাতের ডান দিকে রয়েছে রোকেয়া সাখাওয়াত
