আলামত মিলেছে কিশোরীকে গণধর্ষণের
প্রকাশিত : ১১:৫৮ এএম, ১ আগস্ট ২০১৫ শনিবার | আপডেট: ১১:৫৮ এএম, ১ আগস্ট ২০১৫ শনিবার
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, উইমেননিউজ২৪.কম, ঢাকা : ডাক্তারি পরীক্ষায় কর্মজীবী কিশোরীকে (১৭) গণধর্ষণের প্রাথমিক আলামত মিলেছে। আজ শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে তার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। গত বৃহস্পতিবার রাতে তাঁকে রাজধানীর উত্তরায় গণধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) সমন্বয়কারী বিলকিস বেগম উইমেননিউজকে বলেন, ওই কিশোরীর ফরেনসিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। প্রাথমিকভাবে গণধর্ষণের আলামত মিলেছে। পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পেতে আরও সময় লাগবে। আরও কয়েক ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা এখনো বাকি।
ওই কিশোরীর এক সহকর্মীসহ কয়েকজন তাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ উঠেছে। সে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসাধীন। ঘটনার পর পুলিশ ওই সহকর্মীসহ চারজনকে আটক করেছে। পুলিশ বলেছে, ছবি দেখে তাদের মধ্যে দুজনকে জড়িত বলে শনাক্ত করেছে ওই কিশোরী।
কিছুদিন আগে দোকান থেকে বাসায় ফেরার পথে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে উত্তরায় এক আদিবাসী তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল।
ওই কিশোরীর পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, কিশোরী উত্তরার একটি বিপণিবিতানে এক দোকানের বিক্রয় প্রতিনিধি। সে উত্তরার আজমপুরে বোনের বাসায় থাকে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে কাজ শেষে সে বাসায় ফিরছিল। কর্মস্থলের কাছেই সড়কে তার এক সহকর্মী আরিফসহ তিনজন তার গতিরোধ করে। ‘কথা আছে’ বলে তারা কিশোরীকে পাশের একটি নির্মাণাধীন ভবনের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে যায়। সেখানে তিনজন তাকে ধর্ষণ করে।
কিশোরীর ভগ্নিপতি বলেন, তাঁর শ্যালিকা তাঁকে জানিয়েছে, ঘটনার পর সে নিজেকে সামলে নিয়ে দোতলা থেকে নিচে লাফ দেয়। এতে সে কোমরে কিছুটা ব্যথা পায়। ওই অবস্থায় সে রিকশায় করে আজমপুরে বোনের বাসার কাছেই চাচাতো ভাইয়ের বাসায় যায়। সে চাচাতো ভাইসহ পরিবারের সদস্যদের ঘটনা খুলে বলে। এরপর অন্য স্বজনদের খবর দেওয়া হয়। পরে তাঁরা বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে শ্যালিকাকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করান।
কিশোরীর ভগ্নিপতির তথ্যমতে, তাঁর শ্যালিকার গ্রামের বাড়ি বরিশালে। তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সে সবার ছোট। এ বছর গ্রামের এক বিদ্যালয় থেকে সে এসএসসি পাস করেছে। অনটনের কারণে চাকরির আশায় আড়াই মাস আগে সে ঢাকায় আসে। প্রায় দেড় মাস আগে সে ওই দোকানে মাসিক সাত হাজার টাকা বেতনে চাকরি নেয়।
ভগ্নিপতির ভাষ্য, ঘটনার সময় ধর্ষণকারীদের কথাবার্তা শুনে তাঁর শ্যালিকার মনে হয়েছে, সহকর্মী আরিফ ছাড়া ধর্ষণে অংশ নেওয়া বাকি দুজন আরিফের বন্ধু। সে তাদের আগে কখনো দেখেনি। ছবি দেখালে বা সামনে আনলে তাদের চিনতে পারবে।
উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী হোসেন খান গতকাল উইমেননিউজকে জানান, ঘটনা শুনে পুলিশ অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযানে নেমেছে। যে নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ, সেই ভবনের তত্ত্বাবধায়কসহ তিনজনকে আটক করা হয়। এরপর ওই কিশোরীর কর্মস্থল (দোকান) থেকে একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। এই চারজনের ছবি তুলে তা ওই কিশোরীর কাছে পাঠানো হলে সে এদের মধ্যে সহকর্মী আরিফ ও নির্মাণাধীন বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক বাবুকে শনাক্ত করেছে।
ওসি বলেন, এ ঘটনায় ওই কিশোরী বাদী হয়ে আরিফ, বাবুসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আরিফ, বাবুসহ পলাতক একজন ধর্ষণে জড়িত। পলাতক অপরজন ছিল পাহারাদার। বাবু পুরো ঘটনার পরিকল্পনাকারী। পলাতক দুজনকে ধরার চেষ্টা চলছে। আজ শনিবার আরিফ ও বাবুকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে।
০১.০৮.২০১৫
