ঢাকা, শুক্রবার ১০, জুলাই ২০২৬ ১:১৩:৩৩ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন ভাষাসৈনিক রওশন আরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৩:৩০ পিএম, ৪ ডিসেম্বর ২০১৯ বুধবার

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়ায় সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন ভাষা সৈনিক রওশন আরা বাচ্চু। বুধবার (৪ ডিসেম্বর) কুলাউড়ায় নবীন চন্দ্র সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সকাল সাড়ে ১০টায় তার মরদেহ রাখা হয়। বায়ান্নের ভাষাকন্যা বাচ্চু'র কাফনে মোড়ানো নিথর দেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ। পরে সকাল ১১টায় জানাজা শেষে বাড়ির পূর্বপাশ্বের পুকুর পাড়ে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এর আগে মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) ভোররাতে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। তিনি বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন।

রওশন আরার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া, রওশন আরার স্থান পূরন হওয়ার নয় বলে জানিয়েছেন দেশের অনেক খ্যাতিমান ভাষাবিদ, শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিকসহ নানা শ্রেণীপেশার মানুষ।

এর আগে মঙ্গলবার বাংলা একাডেমি থেকে রওশন আরা বাচ্চুর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে। সেখানে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় তার পশ্চিম মণিপুরের বাসায়। এশার নামাজের পর সেখানকার বায়তুল আমান জামে মসজিদে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে মরদেহবাহী গাড়ি ঢাকা থেকে সাইরেন বাজিয়ে রাত ৩টায় কুলাউড়াস্থ উছলাপাড়া গ্রামে তার নিজ বাড়িতে পৌঁছায়।

প্রসঙ্গত, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে রওশন আরা বাচ্চু সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তখন তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ছাত্রী ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের সংগঠিত করা ছাড়াও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হলের ছাত্রীদের ভাষা আন্দোলনের পক্ষে সুসংগঠিত করেন। একুশে ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভঙ্গকারী প্রথম ছাত্রীদলের অন্যতম সদস্য ছিলেন ভাষা সংগ্রামী এই নারী।

১৯৩২ সালের ১৭ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার জেলা কুলাউড়া থানার উছলাপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন রওশন আরা বাচ্চু। পিরোজপুর গার্লস স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, বরিশালের ব্রজমোহন কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করে ১৯৫৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনে অনার্স ও পরে ইতিহাসে এমএ পাস করেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলোতেই রওশন আরা গণতান্ত্রিক প্রোগ্রেসিভ ফ্রন্টে যোগ দিয়ে জড়িয়ে পড়েন ছাত্র রাজনীতিতে। সলিমুল্লাহ মুসলিম হল এবং উইম্যান স্টুডেন্টস রেসিডেন্সের সদস্যও নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

-জেডসি